বাজারে লিচুর দাম চড়া

আপডেট: মে ১৪, ২০২২, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাজারে লিচুর দাম চড়া। প্রতি ১০০টি লিচু প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৪০০ টাকা দরে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে লিচুর সরবরহ কম। তাই দাম বেশি। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দীর্ঘ খরায় লিচু গুটি অবস্থায় ঝরে গেছে। এছাড়া নষ্টও হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মে) নগরীর বিভিন্ন মোড়গুলোতে লিচু বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। তবে স্থান ভেদে কম-বেশি দামে বিক্রি হয়েছে লিচু। সকালে নগরীর কাটাখালীতে প্রতি ১০০টি লিচু ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের।

বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর বিনোদপুরে ১০০টি লিচু ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা দরে বিক্রি করেছে ব্যবসায়ীরা। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে ২১০ থেকে ২৩০ টাকায় লিচু কিনতে পাওয়া গেলেও স্বাদে টক ছিল।

এছাড়া সাহেব বাজার, জিরোপয়েন্ট, ভদ্রা মোড়, গোরহাঙ্গা রেলগেট, সোনাদীঘীর মোড়, শাল বাগান বাজারে লিচু বিক্রি হয়েছে। তবে এই সবস্থানে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমবেশিতে লিচু বিক্রি হয়েছে।

নগরীর সোনাদিঘীর মোড়ে ভাগ্নেকে লিচু কিনে দিলেন শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘ভালো লিচু ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই লিচুগুলো খেতে ভালো। লিচুর দাম খুব বেশি মনে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ৪০০ টাকায় ১০০টি করে লিচু বিক্রি করছেন। তাতে প্রতিটি লিচুর দাম পড়ছে ৪ টাকা। এতো টাকা দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষের লিচু খাওয়া কষ্ট কর।

তিনি জানান, দেখা গেছে অনেকেই লিচু কিনছে ঠিকই। কিন্তু পরিমানে কম। বিগত বছরগুলোতে কষ্ট করেও হলে ১০০ লিচু কিনেছেন দরিদ্র মানুষেরা। কিন্তু এবছর সেই মানুষগুলো হয়তো ১০০টি কিনতে পারবে না। তারা ৫০টি লিচু কিনবেন। কারণ লিচুর দাম বেশি। শুধু লিচুই খেলে তো আর হবে না; অন্য খাবারও খেতে হবে। তাই নি¤œ আয়ের মানুষদের সেই দিকেও খেয়াল রাখতে হয়।

লিচু বিক্রেতারা জানায়, বেশির ভাগ ব্যবসায়ী রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাগান থেকে লিচু কিনে বিক্রি করছেন। এখনও ঈশ্বরদীর লিচু তেমন আসেনি। তবে কিছু ব্যবসায়ী ঈশ্বরদীর লিচু বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, আড়ৎ বা বাগানেই লিচুর দাম বেশি। লিচু বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন খরচ ধরে বেশি লাভ থাকে না।

বিক্রি কেমন হচ্ছে এমন কথার উত্তরে তিনি জানান, বিক্রি ভালোই হচ্ছে। এবছর মৌসুমের শুরু থেকেই লিচুর দাম এমনই। তবে খুব একটা বেশি নয়। কারণ সবজিনিসের দাম বেড়েছে। তবে ৫০টি করে বেশি লিচু বিক্রি হচ্ছে।

লিচু ব্যবসায়ী মতিন জানান, পবার রামচন্দ্রপুরে একটি বাগাম কিনে ছিলাম। সেখানে তিনটি লিচু গাছ ছিল। অনেক পরিচর্যার পরে ৫ হাজার লিচু নামিয়েছি। এখনও অনেক লিচু আছে। নিজের পরিশ্রম আর লিচু পাহার খরচ বাদ দিলে কিছু টাকা থাকবে।
তিনি বলেন, যত বছর যাবে সবজিনিসের সাথে সাথে লিচুরও দাম বাড়বে। এটা স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে গেছে।

গাছে ধরলেই লিচু হয় না। লিচু বাজারে আনার আগে অনেক পরিশ্রম দিতে হয়। নিয়মিত সার, কিটনাশ ছাড়াও শ্রমিক দিকে সারারাত পাহারা বসিয়ে রাখতে হয়। তারা বাদুর, কাক, কাঠবিড়ালী তাড়ানোর কাজ করে। এর মধ্যে ঝড়েও ক্ষতি হয়। সবমিলে লিচুর দাম স্বাভাবিকই রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে রাজশাহী জেলায় ৫২৪ হেক্টর জমিতে লিচুর গাছ রয়েছে। দুর্গাপুর ৭০ হেক্টর, পুঠিয়া ৬৬ হেক্টর, গোদাগাড়ী ১৯ হেক্টর, চারঘাট ৪৫ হেক্টর ও বাঘা উপজেলায় ২১ হেক্টর। এছাড়া অন্যান্য জায়গায় লিচু চাষ হয়েছে। ৫২৪ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ১৪৪ মেট্রিকটন লিচুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলীম উদ্দীন জানান, ‘লিচু মোটামোটি হয়েছে। দীর্ঘ খরার প্রভাব পড়েছে লিচুর অপরে। সেই সময় কিছু গুটি ঝরেছে। এখন স্থানীয় লিচুগুলো বাজারে উঠচে। আগামি সপ্তার শেষের দিকে বোম্বাই লিচু বাজারে পাওয়া যাবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ