বাজারে শীতের সবজি প্রচুর, দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাজারে শীতের সবজি প্রচুর। কিন্তু দাম চলে গেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। নগরীর বাজারে বেড়েছে শাক-সবজিসহ মাছ মাংসের দাম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। দোকানির মুখে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বেশি এমন বাক্য শুনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে ক্রয় করছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য।

সেইসাথে সরবরাহ কম তাই দাম বেশি, খারাপ আবহাওয়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, বাজার সংকট, ক্রেতা কম ব্যবসা পুষিয়ে নিতে বেশি টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা, এমন বিক্রেতাদের অজুহাতে বিভিন্ন দোকানে ৫ থেকে ৮ টাকা বেশি মূল্যে যাচাই না করেই পণ্য নিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নগরীর সাহেববাজারস্থ মাস্টারপাড়া কাঁচা বাজারে ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার করতে আসা জাকারিয়া নামের এক এনজিওর নির্বাহী জানান, যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কথা কি ভাবা হবে আর! ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে চাল ডাল মাছ মাংস শাকসবজি সবকিছুর দাম আকাশ ছোঁয়া। ভোজ্য তেল লিটারে ৮ টাকা বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেল ১৪৫ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মিনিকেট চালের দাম গত দুই সপ্তাহ থেকে ৬০ টাকা থেকে ৪ টাকা বেড়ে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের দাম দুই সপ্তাহ আগে ৫৫০ থাকলেও গত সপ্তাহে ৫৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন ৬০০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। শাকসবজির কেজিতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা করে।

বাজারের আল্লাহর দান চাউল ঘরের পাইকারি চাল বিক্রেতা শিপন জানান, চালের দামের কথা কী বলব! ৫ হাজার ৪০ টাকায় ১ বস্তা (৮৪ কেজি) মিনিকেট চালের বস্তা নিয়ে আসি। প্রতি কেজি চাল কেনা পড়ে ৬০ টাকা করে। আমরা সাধারণ দোকানিদের কাছে ২ টাকা লাভে বিক্রি করি। মিনিকেট চাল গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি ছিল। তা এ সপ্তাহে ৬৪ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

অন্যান্য চালের মধ্যে আঠাশ ৫৬ টাকা, শরনা ৪৮ টাকা, জিরাশাইল ৬২ টাকা, বাসমতি ৭২ টাকা, পায়জাম ৭০ টাকা, কাটারিভোগ ৯০ টাকা, নাজিরশাল ৭০ টাকা, আউশ ৫০ টাকা, খুদ ৫০ টাকা, বালাম ৬৫ টাকা, কালিজিরা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনিগুড়া ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, রাধুনী ৮০ টাকা, কাটারিভোগ আতপ ৭০ টাকা, তামরি আতপ ৬০ টাকা, শরনা আতপ ৫৫ টাকা, মোটা চাউল ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

গত সপ্তাহে চিনি ৭৬ থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় এবং দেশি চিনি ৮৪ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। ডাউলের মধ্যে মসুর ডাল ১২০ টাকা, সোনামুগ ১৩৫ টাকা, ছোলার বুট ৮০ টাকা, খেসারি ডাল ৭৫ টাকা, বুটের ডাল ৯০ টাকা, দেশি মটর ডাল ১০০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৫০ টাকা, কালাই ডাল ১৩০ টাকা, অড়হর ডাল ২৪০ টাকা, কাঁচা কালাই ১২০ টাকা, জিরা ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। সয়াবিন তেল খোলা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা লিটার বিক্রি হয়েছে। সরিষার তেল বোতল ২০০ টাকা লিটার, খোলা ১৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

ভাগগু আল-আমিন কবিরাজ ভান্ডার থেকে সাঈদ হাসান মাসুম বলেন, দোকানিরা ২/ ৪ টাকা লাভ করবে এটা স্বাভাবিক। উৎপাদন সঠিক ভাবে হলে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় বড় ফ্যাক্টরি বা কোম্পানিরা দায়ি। কেননা সরবরাহ, মজুদ তারাই করে। সময় মত বাজারজাত করলে দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।

সবজির বাজারে দেখা গেছে, আলু গত সপ্তাহে ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে এ সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। শিম গত সপ্তাহে ৩০ টাকা ছিল এ সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৫ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকা, লাউ ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, ক্ষীরা ৫০ টাকা, মটরশুটি ৬০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, মিষ্টি আলু ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

শাকের বাজারে তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। পালঙ শাক ২০ টাকা, ডাটা শাক ৩০ টাকা, ছোলার শাক ৫০ টাকা, খেসারি শাক ৪০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, টক পালঙ ৪০, পুদিনা ১০০ এবং ধনে পাতা ২০ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজ ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা, আদা ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, রসুন ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

মাছের বাজার হঠাৎই আজ আগুন। মাছের সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে দাম অনেকটাই আকাশ ছোঁয়া। সাগর নামের এক মাছ বিক্রেতা বলেন, বগুড়ায় মেলা হচ্ছে- মাছ ওইখানে পাঠানো হয়েছে। এজন্য বাজারে মাছের সরবরাহ কম। গত সপ্তাহে ১ কেজি ওজনের নিচে শোল মাছে বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় এ সপ্তাহে তা বিক্রি হচ্ছে ৬৬০ টাকায়। এ সপ্তাহে রুই মাছ ২৬০ টাকা থেকে ৪০ টাকা দাম বেড়ে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। কাতলা মাছ ২৭০ ছিল- এ সপ্তাহে ৩২০ টাকায়, আইড় মাছ ৬০০ ছিল তা ১০০ টাকা বেড়ে ৭০০ টাকয় বিক্রি হয়েছে।

গ্রাসকার্প মাছ ১৮০ টাকা, বোয়াল ৫০০ টাকা, পাবদা ৩০০ টাকা, পিওলি ৪০০ টাকা, পাতাসি ৫০০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ (ছোট) ১৪০ টাকা, ইলিশ (বড়) ১ হাজার ১০০ টাকা, বিলের মাগুর ৬০০ টাকা, জাপানি ২৬০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ টাকা, আইকোড় ৪০০ টাকা, বাটা ১৬০ টাকা, কইমাছ ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, মাগুর ৪০০ টাকা, শিং ৫০০ টাকা, ময়া মাছ ৪০০ টাকা টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৬০০ টাকা, ছাগলের মাংস ৭০০ টাকা, খাসির মাংস ৮৫০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৪০ টাকা, সোনালী ২২০ থেকে ২২৫ টাকা, লেয়ার ২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৯০ টাকা, পাতিহাঁস ৩২০ টাকা, রাজহাঁস ৫০০ টাকা, চিনা হাঁস ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিমের বাজারে মুরগির ডিম গতসপ্তাহে হালিতে ২৯ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ১ থেকে ২ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি মুরগীর সাদা ডিম ৩২ টাকা, লাল ডিম ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা, দেশি মুরগি ৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ৫৪ টাকা, কয়েল পাখি ১০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ