বাজারে স্যানিটাইজার সামগ্রীর কত্রিম সঙ্কট তৈরি ও নকল রোধ করতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে

আপডেট: June 26, 2020, 12:41 am

করোনাভাইরাস সারাবিশ্বের মতো দেশেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী স্যানিটাইজার সামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য ও স্থানীয় প্রশাসন বিভাগ থেকে। কিন্তু এই সুযোগে অনেক কোম্পানি কত্রিম সঙ্কট করছে। কারণ বাজারে চাহিদা বেড়ে গেছে। আর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় অনেক সময় খুচরা ব্যবসায়ীরা এই দূর্যোগ মুহূর্তে বেশি দাম রাখছে। শুধু তাই নয়, একটি পণ্যের সাথে আরেকটি পণ্য ক্রয় না করলে কোম্পানি কিংবা খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সাথে ঝামেলা তৈরি করছে। এই নিয়ে গতকাল সোনার দেশ পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘স্যাভলন কিনলে সঙ্গে কিনতে হচ্ছে সাবানও!’-শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ক্রেতাদের অভিযোগ, স্যাভলন কিনলে কিনতে হচ্ছে সাবানও। এনিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বুধবার (২৪ জুন) সরেজমিনে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, উপশহর এলাকায় কনফেকশনারি, মুদিখানার দোকান, ওষুধের দোকানগুলো ঘুরে পাওয়া যায়নি স্যাভলন। দোকানদাররা বলছেন, স্যাভলনের সাপ্লাই নেই সপ্তাখানেক আগে থেকে। এছাড়া যাদের আছে তারা বিক্রি করছে।
অভিযোগ রয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে স্যাভলনের ব্যবহার বেড়েছে। সেই সুবাদে কোম্পানির পক্ষ থেকে ৫০০ গ্রাম ও এক লিটার স্যাভলন কিনলে সঙ্গে কিনতে হচ্ছে সাবানও। এতে করে অতিরিক্ত খরচের মধ্যে পড়তে হচ্ছে ক্রেতাকে। ক্রেতাদের দাবি এমন সঙ্কটময় সময়ে ক্রেতাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে স্যাভলন কোম্পানি।
স্যাভলন কিনতে এসে ফিরে যাওয়া আবদুর রাজ্জাক জানান, স্যাভলন পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকদিন আগে কিনলাম সাবানসহ। তারা স্যাভলন আর সাবানের আলাদা দাম ধরে নিচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৬০০ টাকা। এমন সময়ে শুধু স্যাভলন ও আর এক সাথে ১০টি সাবান কিনতে মানুষ ৬০০ টাকা খরচ করা ভোগান্তি ছাড়া কিছু নয়।
সোনার দেশে এই খবর প্রকাশের পরেরদিন বৃহস্পতিবার অবশ্য রাজশাহীতে স্যাভলন অ্যান্টিসেপটিকের দাম বেশি নেয়ায় আরডিএ মার্কেটের আল মদিনা ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। কারণ এক লিটার স্যাভলনের দাম ২২০ টাকা। কিন্তু তারা তিনশ’ টাকা দাম নেয়। শুধু স্যাভলন নয়, এই দুর্যোগে অনেক কোম্পানি নকল পণ্য তৈরি করে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন হতে হবে। রসায়নবিদরা জানিয়েছেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরিতে আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, অ্যালোভেরা অয়েল, গ্লিসারিনসহ নানা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। মানবত্বকের সহনশীল মাত্রা অনুযায়ী এগুলো ব্যবহার করতে হয়। কারণ উপকরণ কমবেশি হলে ত্বকের ক্ষতি হবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় এই ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য শরীরের ব্যবহারের ফলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এসব নকল পণ্য ব্যবহার করে জীবাণুমুক্ত হতে গিয়ে উল্টো ত্বকের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি শরীরে চর্মরোগের বিস্তার ঘটাতে পারে। ওষুধ প্রশাসন বলছে, একদল অসাধু ব্যক্তি বাজারে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছেড়েছে। তারা এই সুযোগ নকল পণ্য বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করছে। নকল জীবাণুনাশক পণ্য বাজার থেকে সরাতে অভিযান চালানো অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সাথে নকল পণ্যগুলো একটু খেয়াল করলেই চিনতে পারবেন ক্রেতারা। তাই ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে। ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার না কিনে রেজিস্ট্রার্ড দোকানগুলো থেকে কিনতে হবে। তখন নকল পণ্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই নকল জীবাণুনাশক সামগ্রী বিক্রি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ