বাজেটে সবার নজর ভ্যাট আইনে

আপডেট: মে ২৯, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আগামী ১ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আর এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নজর নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইনে। কারণ আগামী ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। নতুন এ আইনে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে এ আইন কার্যকরের কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে এক বছর পিছিয়ে দেয় সরকার। তবে বছরজুড়ে তর্ক-বিতর্কের পর ভ্যাট হার ১২ শতাংশ করা হতে পারে বলে আভাস দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এমনকি অর্থমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশের কম করা হবে বলে কয়েকবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু শনিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ রাখার পক্ষেই নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে নতুন ভ্যাট আইন কর্যকর হচ্ছে। সেখানে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই থাকছে। এ হার কমানো যাবে না।’
এদিকে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট হার ১০ শতাংশের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কিছু খাতে বহুস্তর ভ্যাট রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।
ভ্যাটের হার কমানো প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আশা করছি ভ্যাট হার নির্ধারণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কোনও বিরোধ হবে না। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার ব্যবসাবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক ভ্যাট হার নির্ধারণ করবে।’
এদিকে ভ্যাট হার ১২ শতাংশে নামানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘একবারে না হলেও ধাপে ধাপে ভ্যাট কমিয়ে আনা যেতে পারে। নতুবা এই নতুন ভ্যাট আইন উৎপাদক ও ভোক্তার ওপর চাপ বাড়াবে।’
এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘নতুন আইন কার্যকর হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। চাপ বাড়বে ভোক্তার ওপর। ভ্যাট হার এমন পর্যায়ে রাখতে হবে যাতে ভোক্তার ভোগান্তি না হয়।’
এদিকে, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে পণ্যমূল্য বাড়বে না বলে মনে করেন এনবিআরের (ভ্যাট নীতি) সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইন ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব। এতে পণ্য ও সেবার প্রতি স্তরে রেয়াত নেওয়ার সুযোগ থাকায় সামগ্রিকভাবে করের চাপ কমবে।’
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ হলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ভ্যাটের হার কম হলে সরকারের রাজস্ব আহরণে চাপ সৃষ্টি হবে। ব্যবসায়ীদের উচিত হবে, তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য করসেবা বৃদ্ধির জন্য এনবিআরের কাছে নিশ্চয়তা চাওয়া।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভ্যাট হার কমালে জনগণ বা ভোক্তারা খুব বেশি উপকৃত হবেন এমনটি নয়, কিন্তু ১ শতাংশ ভ্যাট কমালে সরকারের ৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। পৃথিবীর কোনও দেশেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্যাট হার নির্ধারণ করা হয় না। অথচ আমাদের এখানে হচ্ছে।’
বর্তমানে ভ্যাট আইন-১৯৯১ অনুযায়ী ‘একাধিক হ্রাসকৃত হারে’ ভ্যাট আদায় করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভ্যাটের ২০ শতাংশই আসে তেল ও গ্যাস, সিগারেট, সিমেন্ট ও মোবাইল ফোন সেবা থেকে। এই চারটি খাতেই বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় হয়। গত অর্থবছরে এই চারটি খাত থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভ্যাট আদায় হয়েছে। কিন্তু নতুন আইনে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমানো হলে এসব খাতেও ভ্যাট কমে যাবে। তাই এসব খাত থেকে রাজস্ব আদায় ব্যাপকভাবে কমবে।
ভ্যাট হার কমার প্রেক্ষিতে সিগারেট ও তামাকজাতীয় পণ্য এবং মোবাইল ফোন সেবায় সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হতে পারে। এর মধ্যে সিগারেট ও তামাকজাতীয় পণ্যের ওপর মানভেদে বর্তমানে ৩২ থেকে ৬৪ শতাংশের মতো সম্পূরক শুল্ক আরোপ আছে। এই হার ৪ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। আবার মোবাইল ফোন সেবার ওপরে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক রয়েছে। এই হারও বাড়ানো হতে পারে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হরে পারে ৪ লাখ কোটি টাকার ওপরে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।-বাংলা ট্রিবিউন