‘বাতাসভীতি’ নিয়ে ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৭, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



আকাশ পথে যারা ওয়েলিংটন আসেন তারা দমকা বাতাসের ধাক্কায় বেশ কিছু সময় ভয় ধরানো দুলুনিতে পড়েন নি এমন অভিজ্ঞতা খুব কমজনের হয়। উড়োজাহাজের বাম্পিং এর ভয়ে বিমানে ওয়েলিংটন আসা এড়িয়ে চলতে চান মাশরাফি মর্তুজা।
ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে ধবল ধোলাই। এরপর নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ দল গতকাল সোমবার ওয়েলিংটন এসে পৌঁছেছে। এটি নিউজিল্যান্ডের রাজধানী শহর। বৃহস্পতিবার এখানে শুরু হবে সফরের দুই টেস্টের প্রথমটি। নিউজিল্যান্ডের আর সব শহরের মতো এই ওয়েলিংটনও ছবির মতো সাজানো-সুন্দর। অন্য শহরগুলোর সঙ্গে এর পার্থক্য এখানকার বেশিরভাগ বাড়িঘর, স্থাপনাগুলো  বেশ পুরনো। মাউরি রাজ্যে এসে ব্রিটিশরা যে এখানে প্রথম বসতি-স্থাপনা গড়তে শুরু করেছিল এটিই সেই নিদর্শন হয়ে আছে যেন। আর  সারাক্ষণ এখানে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ভেসে আসা বাতাস বয়। তা আকাশে হোক বা ভূমিতে যেখানেই হোক না। আকাশ পথে যারা ওয়েলিংটন আসেন তারা দমকা বাতাসের ধাক্কায় বেশ কিছু সময় ভয় ধরানো দুলুনিতে পড়েন নি এমন অভিজ্ঞতা খুব কমজনের হয়। উড়োজাহাজের বাম্পিং এর ভয়ে বিমানে ওয়েলিংটন আসা এড়িয়ে চলতে চান মাশরাফি মর্তুজা। টিম-টাইগার দলের দুই শিক্ষক কোর্টনি ওয়ালশ ও প্রশিক্ষক মারিয়া ভিল্লাভারায়নও একই কারণে সোমবার বিমানে ওয়েলিংটন আসেন নি। অকল্যান্ড থেকে এসেছেন সড়ক পথে।
এখানকার বেসিন রিজার্ভ মাঠে বৃহস্পতিবার মুশফিকরা যখন খেলতে নামবেন তখন প্রতিপক্ষকে পরপর ছয় ম্যাচে নাকানিচুবানি খাইয়ে হারিয়ে উড়তে থাকা কিউই দলের পাশাপাশি তীব্র বাতাসের সঙ্গেও লড়তে হবে। আরেকটি খবর ক্রাইস্টচার্চের ম্যাচে চোটে পড়া বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম ওয়েলিংটন টেস্টের মাধ্যমে আবার আনুষ্ঠানিক ফিরে আসবেন ২২ গজের লড়াইয়ে। ওয়ানড ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের প্রায় আশা জাগিয়ে হেরে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণের মধ্যে একটি বলা হচ্ছে আমাদের মুশফিক তথা মুশি নেই। ওয়েলিংটন টেস্টে মুশফিকের ফিরে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলাবে কী? প্রশ্ন আসতে পারে আশাটা একটু বেশি করা হয়ে গেল না? এসব যে প্রশ্নই আসুক না কেন মুশি ফেরায় দলের শক্তি বদলাবে এটাতো অসত্য নয়। মাশরাফির মতো বাংলাদেশ দলের জন্যে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করার দ্বিতীয় মানুষটির নাম কিন্তু এই মুশফিক।
নিউজিল্যান্ড সফরের উদ্দেশ্যে ডিসেম্বরে বাংলাদেশ দল যখন কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে সিডনি আসে তখন দলের সঙ্গে ছিলেন ২২ জন। এই ২২ জন নিউজিল্যান্ড পর্যন্তও একসঙ্গে আসেন। কোনও ক্রিকেট দল বিদেশ সফরে এলে দলটিতে ২২ জন ক্রিকেটার থাকেন এমন সচরাচর শোনা যায় না। বাংলাদেশের নির্বাচকরা তখন বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে-অভ্যস্ত করতে নবীন কয়েকজনকে দলের সঙ্গে আনা হয়েছে। সেই ২২ জনের ১৭ জন এখন টেস্ট খেলতে এসেছেন ওয়েলিংটনে। এদের মধ্যে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ক্যাপ্টেন মাশরাফি মর্তুজা এমনিতে টেস্ট দলে নেই। শেষ ম্যাচে চোটে পড়ে মাশরাফি ডাক্তার দেখাতে গেছেন অকল্যান্ডে। সেখান থেকে সিডনি হয়ে তিনি দেশে ফিরে যাবেন। দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে শুভাগত হোম চৌধুরী, তানভীর হায়দার, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আর এবাদত হোসেনকে। এদের মধ্যে এবাদতকে অবশ্য নিউজিল্যান্ডের কোনও ম্যাচেই খেলানো হয় নি। এবার অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সফরে আসেন ভবিষ্যতের তারকা তিন বন্ধু ক্রিকেটার। এরা হলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদি হাসান মিরাজ এবং নাজমুল হাসান শান্ত। এরা তিনজন ২০১৪ সালে একসঙ্গে যুব বিশ্বকাপে খেলেছেন। গত বছর জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলায় অভিষেক হয় মোসাদ্দেকের। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও খেলেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে মিরাজের টেস্ট অভিষেক হয়। নাজমুল এখনো জাতীয় দলে জায়গা পান নি। টেস্ট শুরুর আগে মোসাদ্দেককে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হলেও মিরাজ-নাজমুল এসেছেন ওয়েলিংটনে। নাজমুলকে দলের সঙ্গে বিকল্প হিসাবে রাখা হয়েছে। মুশফিকের ইনজুরির পর দলের সঙ্গে থাকা নুরুল হাসান সোহান জায়গা পান ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দলে।-বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ