বাবার সঙ্গে চা বিক্রি করে জিপিএ-৫ || ডাক্তার হবার স্বপ্ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাবিনা

আপডেট: মে ১৩, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

ইমরান হোসাইন, তানোর


বাবার সঙ্গে এভাবেই চা বিক্রি করে জিপিএ-৫ পেয়েছে সাবিনা

নিজের ইচ্ছায় ব্র্যাক প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হয় সাবিনা খাতুন। পাড়ার অন্য মেয়েদের স্কুলে যেতে দেখে এ ইচ্ছা জাগে তার। বয়স যখন ছয় বছর বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাটে সারাক্ষণ। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে ব্র্যাক স্কুলের পড়া তৈরি করে। এভাবে প্রাথমিক গ-ি পেরিয়ে হাইস্কুলে পা দেয়।
২০১৪ সালের জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দেয় স্কুলের শিক্ষক ও পরিবারকে। ভালো ফলাফল করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করে সাবিনা। এরপর অদম্য উৎসাহ নিয়ে শুরু হয় এসএসসির পড়ালেখা। তানোর উপজেলার কোয়েল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সাবিনা। তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েল উত্তরপাড়া গ্রামের দরিদ্র চা বিক্রেতা আবদুুর সাত্তারের ছয় মেয়ের মধ্যে ৪র্থ মেয়ে সাবিনা খাতুন। সাবিনার জীবনের শুরুটাই লড়াইয়ের। একে তো দরিদ্র পরিবার, তার ওপর ছয় বোনের সংসারে একমাত্র দরিদ্র পিতার আয়ের মাধ্যমে খেয়ে না খেয়ে দিন চলে ওদের।
দারিদ্রতার কারণে বড় তিন বোনকে পড়াশোনা ছেড়ে বাল্য বয়সে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। আর তা স্বচক্ষে দেখে ছোট সাবিনাকেও নামতে হয় জীবনযুদ্ধে। সংসারের সাহায্য করার উপায় হিসেবে স্থানীয় কোয়েলহাটে বাবার সঙ্গে চা বিক্রি করে সাবিনা। স্কুল আর ঘুমানোর সময় বাদে অদম্য সংগ্রামী সাবিনা চায়ের কেটলি ধরে চা বেচে পড়ালেখা চালায়। পরিবার থেকে তেমন উৎসাহ না থাকলেও নিজের প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলে তার পড়ালেখা। অতি মনোযোগী হওয়ায় সফলতাও আসে।
স্বপ্ন তার ডাক্তার হবার। কিন্তু অর্থাভাবে এইচএসসিতে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ শহরের ভালো কলেজে পড়ালেখার খরচ জোগান দেওয়া কোনোমতেই সম্ভব হচ্ছে নয় সাবিনার পরিবারের পক্ষে। এতে ভেঙে যেতে বসেছে সাবিনার সোনালী স্বপ্ন।
সাবিনার বাবা সাত্তার জানান, মেয়ে ভালো ফলাফল করেছে। এতে খুশি তিনি। কিন্তু কলেজে কিভাবে পড়াবো। সামর্থ নেই। মেয়ের ডাক্তার হবার স্বপ্ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনিও।
সাবিনার মা ফেন্সিআরা জানান, তাদের কোন জমি-জমা নেই। শুধু বসতভিটা আছে। স্বামী ও মেয়ে সাবিনা মিলে বাজারে চা বিক্রি করে যা আয় করে তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে। মেয়ের ডাক্তার হবার স্বপ্ন পুরণ হবে কী না তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, সাবিনার পরিবার অতিদরিদ্র। লেখাপড়ায় সাবিনার মনযোগ দেখে বিনামূল্যে তাকে খাতা, কলম এবং অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ স্কুল থেকে সরবরাহ করা হয়। শত বাধা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করে স্কুলের ও এলাকার মুখ উজ্জল করেছে সাবিনা। সাবিনার ডাক্তার হবার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিবেকবানদের একটু সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবার অনুরোধ জানান তিনি।
জানতে চাইলে সাবিনা জানায়, ভবিষ্যতে আমার সপ্ন ডাক্তার হওয়ার কিন্তু লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারলে তো। যদি  ডাক্তার হতে পারি দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।