বাবা মেয়ের যুগল আত্মহনন : দেশ ও সমাজের গালে চপেটাঘাত

আপডেট: জুন ২৪, ২০১৭, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

ফিকসন ইসলাম


২০০৭-২০০৮ সালের দিকে দেশ যখন অঘোচিত সামরিক শাসন চলছিলো- দেশের মানুষ যাকে ‘ওয়ান ইলেভেন” বলে আখ্যায়িত করে থাকেন ওই সময়ে কিংবা তার পরেও বেশ কিছুদিন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া থানার প্রবেশ পথে একটা সাইনবোর্ড পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো- সময়ের ব্যবধানে এখন সেই সাইন বোর্ডটি নেই। তার বদলে বিশাল হরফে লেখা হয়েছে বোয়ালিয়া মডেল থানা। মডেল শব্দের অর্থ আধুনিক (কেনইবা মডেল শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তা বোধগম্য নয়) অর্থাৎ এটি আধুনিক পুলিশস্টেশন বা থানা, যার সহজ অর্থ এখানে সকল প্রকার আধুনিক সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকবে। থাকায় স্বাভাবিক কারণ আমরা ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি। পাঠকবৃন্দের স্মৃতিচারণের জন্য ওয়ান ইলেভেন (১/১১) বা এক এগারোর সময় বোয়ালিয়া থানার প্রবেশ পথের সাইনবোর্ডে কী লেখা হয়েছিলো সেটি সবিনয়ে মনে করিয়ে দিতে চাই..ওই প্রদর্শিত বোর্ডে লেখা ছিলো- ‘থানার দুয়ার খোলা আজি-আসতে নাইকো মানা’- মোটা দাগে ও মোটা বুদ্ধিতে আমার কাছে ওই লেখাগুলোর অর্থ-সহজভাবে দাঁড়ায়- আগে থানায় প্রবেশ করতে অনেক বাধা ছিলো, থানায় প্রবেশ করা অত সহজ ছিলো না, যার তার জন্য থানা নয়, যে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু কেবল মাত্র ১/১১ সরকার আমলে বা সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় থানার অপকর্ম থেকে বাঁচতে এ ধরনের সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছিলো এবং সেটাতে কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাঙানো হয়েছিলোÑ এখন এটা দিনের আলোর মতই পরিষ্কার। তানা হলে যেই না ১/১১ সরকার দেশ হতে বিদায় নিয়েছে। এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার গণতান্ত্রিক রীতিনীতির আলোকে দেশ পরিচালনা করছেন, তখন ওই থানায় প্রবেশ করতে মানা নেই… জাতীয় সাইন বোর্ডটি উধাও হয়ে গেলো কেন? তবে কি এখন থানার দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত নয়! এ প্রশ্ন স্বভাবতই জাগে যখন দেশের একজন প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্বয়ং আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন- শেখ হাসিনার সরকার যতই উন্নয়নমূলক কাজই করুক না কেন, সব কিছুই ম্লান করে দিচ্ছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য। গাজীপুরে পিতা ও কন্যার ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে যুগল আত্মহননের ঘটনা পুরো দেশ ও জাতিকে লজ্জাবনত করেছে। গাজীপুর জেলায় শ্রীপুর থানার পুলিশ যদি হতভাগ্য তরুণীর বাবার অভিযোগ আমলে নিতো তাহলে নিশ্চিত ওই ট্রাজেডি ঘটতো না। শান্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কারের পথেও অন্যতম বাধা এই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। (দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৫ মে ২০১৭)
ধরেই নেয়া হলো ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি ঘরাণার নিবেদিত সমর্থক, কিন্তু যিনি খোদ সরকারের মনোনয়নেও নিয়োগ প্রাপ্তির পর দেশের সর্বোচ্চ মানবাধিকার সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন হয়ে আছেন, অর্থাৎ বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (ইঐজঈ) এর চেয়ারম্যান গাজীপুরের ঘটনা পরিদর্শন করে কী বলেছেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন- মর্যদাহানি, লজ্জা, ক্ষোভ সর্বোপরি বিচারহীনতার কারণেই, হজরত আলী ও তাঁর ৮ বছরের কন্যা আয়েশা আক্তার ‘আত্মহত্যা’ করতে বাধ্যা হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনে যারা করেছেন তাদের সঙ্গে পুলিশ ও এই দায়বদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে তিনি পুলিশ তথা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই দোষারোপ করে বলেছিলেন- ৭২ঘণ্টার ভেতরে দায়ী ও দোষিদের গ্রেপ্তার করতেই হবে- কিন্তু ঘটনার দীর্ঘ দিন পরও প্রকৃত দোষিদের পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না। কী আজব, আসলে বোয়ালিয়া থানার মতই শ্রীপুর থানার দুয়ার হজরত আলীদের জন্য খোলা নয়। হজরত আলীদের পুলিশের কাছে কোন বিচার চাওয়ার অধিকার নয়। কেবলমাত্র আবার কোনদিন ১/১১ সরকার এলে তখনই হজরত আলীদের জন্য থানার দুয়ার খোলা থাকতে পারে।
এক এগারোর সময় আরো একটি ঘটনা মনে পড়ে গেলো যা সম্মানিত পাঠকদের অবগতির জন্য বলা প্রয়োজন। ওই সময়ে দাপ্তরিক কাজে উত্তরের জেলা শহর কুড়িগ্রাম বেড়াতে গিয়েছিলাম। ওই সময়ে থানার পাশেতো বটেই। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জজকোর্টের সামনে এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে বেশ কিছু সাইনবোর্ড নজরে এলে এতে লেখা আছে- ‘থানায় জিডি এন্ট্রি করতে কোন টাকা পয়সা লাগেনা’- এই সাইনবোর্ডের অর্থই হচ্ছে। এখন জিডি (সাধারণ ডায়রি) করতে টাকা লাগে না বটে কিন্তু পুলিশ সুপার পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিচ্ছেন আগে নিশ্চয় জিডি করতে টাকা লাগতো। অবশ্য এখন ওই সাইনবোর্ড বিদ্যমান আছে কিনা সে খোঁজ নেয়া হয়নি। তবে ভুক্তভোগীরা যারা কোনো না কোনো কারণে থানায় জিডি এন্ট্রি করতে গেছেন তাঁদের কে কীভাবে নাজেহাল হতে হয়, হেনস্থা হতে হয়েছে। কেউ কেউ হয়তবা মুখে স্বীকার করতে চায় না যে থানায় জিডি করতে গিয়ে টাকা দিয়ে এসেছে। উল্টো হয়রানি হবার ভয়ে। টাকা পয়সা ছাড়া যে জিডি এন্ট্রি হয় না- এটা এখন ওপেন সিক্রেট। তবে কেউ যদি টাকা দিতে না চান তাহলে তাঁকে নানাভাবে হেনস্থা হতে হয়। আবেদনকারী আবেদনপত্র সঠিকভাবে লেখা হয়নি- এমন অজুহাতে থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তারা জিডি নিতে চাননি। এবং তাঁদের নির্দেশেই থানায় কর্মরত কেরানির (মুন্সী) শরণাপন্ন হতে হয়। যারা এ পর্যন্ত থানায় জিডি করেছেন তাদের গোপনে সাক্ষাৎকার নেয়া হলে শতকরা ৯৯ ভাগই স্বীকার করবেন যে, টাকা ছাড়া জিডি করা হয়নি। এ প্রসঙ্গের অবতারণা করলাম এ কারণে যে, শ্রীপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা ব্যক্তিটি হতভাগ্য হজরত আলীর অভিযোগ আমলে নেয়নি, কিংবা টাকা ছাড়া অভিযোগ নিতে চাইনি। সে যদি শুধুমাত্র অভিযোগটি রেকর্ড করতো, আমলে নিতো তাহলে এমন দৃষ্টান্তমূলক আত্মহননের ঘটনার দায় থেকে দেশ, জাতি ও সমাজ মুক্তি পেতো। হয়তো আমরা জানতে পারবো যে, পুলিশ কর্তার গাফলতির কারণে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্লোজড করা হবে, ব্যস ওই পর্যন্ত। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার সন্ত্রাসী চক্রের অন্যায়ের প্রতিকার না পেয়ে এক বাবা ও মেয়ে ট্রেনের নীচে প্রাণ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রমাণ করেছে আইনের শাসনের ব্যত্যয় কী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আত্মহত্যাকারী বাবা হজরত আলী এবং তাঁর শিশুকন্যা ৮ বছরের আয়েশা আক্তার। স্কুলে যাবার পথে তাঁকে প্রায় উত্যক্ত করতো একই এলাকার বখাটে যুবক ফারুক। একদিন তাঁকে জোর করে সাইকেলে উঠিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো। আয়েশা ভয়ে ও আতঙ্কে সাইকেল থেকে জোর করে পালাতে গিয়ে নামার সময় সাইকেলের চেইন এ তাঁর পা কেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। এ বিষয়ে বখাটে যুবক ফারুক এর বাবার কাছে অভিযোগ করতে গেলে প্রতিকার পাওয়া তো দূরের কথা উল্টো ধমক খেতে হয় হজরত আলীকে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এর কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে হজরত আলীকে পাগল! বলে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। অভিযোগ জানাতে যাবার শাস্তি বা বদলা হিসেবে বখাটে ফারুক জোর করে হজরত আলীর বাড়ি থেকে গরু নিয়ে তা জবাই করে মাংস বিক্রি করে দেয়। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করে প্রতিকারের বদলে কটু কথা শুনতে হয় হজরত আলীকে। প্রিয় কন্যাকে নিরাপত্তা দিতে না পারার ব্যর্থতায় দুঃখ, ক্ষোভ আর লজ্জায় হজরত আলী আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৯ এপ্রিল শ্রীপুর থানার গোংসিলা ইউনিয়নের কর্নপুর সিটপাড়া গ্রামে অবস্থিত পোস্ট অফিসের পার্শ্বে রেল লাইনের ওপর তিস্তা ট্রেনের নীচে। আদরের কন্যাকে নিয়ে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে সমাজের মৎস্যান্যায় অবস্থাকে ধিক্কার জানায়। গাজীপুরের এই বাবা মেয়ের যুগল আত্মহননের ঘটনা আমাদের সমাজ জাতি, জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ ও প্রশাসনের হতশ্রী চেহারা তুলে ধরেছে। মেয়েদের উত্যক্তের অভিযোগ ওঠার পর যে বাবা বখাটে পুত্রকে শাসন করার বদলে অভিযোগকারীকে ধমক দেয়, শাসাই সে অধঃপতনের কোন স্তরের বাসিন্দা তা সহজেই অনুমেয়। যে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য তার এলাকার একজন বালিকার সম্ভ্রমহানীর চেষ্টার প্রতিকার না করে বখাটের পক্ষালম্বন করে তার আসল পরিচয় কী সে প্রশ্নটি সামনে আসা খুবই স্বাভাবিক। আর দুর্জনকে দমন ও সুজনকে পালন পুলিশের ধর্ম হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার ব্যত্যয় ঘটছে। সুজনদের বদলে দুর্জনদের পৃষ্টপোষকতা এই আইন শৃংখলাকারী বাহিনীর সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দেশবাসী তথা গোটা জাতি ও সমাজ মনে করে বাবা- মেয়ের আত্মহনন সকলকে জাগিয়ে তুলবে। আত্মহননের প্ররোচনাকারী বখাটে ফারুক, কুপুত্রের জনক ফারুকের বাবা ফজলু মিয়া, জনপ্রতিনিধি নামের কলঙ্ক ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার আব্দুল এবং গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার পুলিশের কর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি এখন জোরালো হয়েছে কিন্তু ওই পর্যন্তই। এতোদিনে ঘটনাটি বিস্মৃত প্রায়।।
স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির কাছে বার বার বিচার চেয়ে ব্যর্থ হওয়া হজরত আলী ও তদীয় স্ত্রী হালিমা বেগমের পরিবার পরবর্তীতে নিরাপত্তা ঠিকই পেয়েছে, তবে স্বামী আর সন্তানের আত্মাহুতির পর। শ্রীপুরের কর্নপুর গ্রামের মধ্যবয়সী হজরত আলী ও তাঁর ৮ বছরের কন্যা সন্তান আয়েশা আক্তার এর আত্মহত্যা ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশবাসীকে। ওই সময়ে স্বামী ও সন্তান হারানো হালিমা বেগমের খোঁজ নিতে এসে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ সবাই দুষছে স্থানীয় প্রশাসনকে। তাদের সান্ত¦না শান্ত করতে পারে নি সর্বহারা হালিমাকে। বার বার এদিক-ওদিক খুঁজে বেড়াচ্ছে একমাত্র কন্যা আয়েশাকে। ফিরবে না জেনেও কেঁদে কেঁদে ডাকছেন ‘মা, মা, মাগো তুমি কই গেইলা…’।
হালিমা বেগম এর আহাজারিতে কোনো দিনও ফিরে আসবে না তার হতভাগ্য স্বামী ও কন্যা। কোনোদিন এরা ফিরে আসবে না, তবে এটা কারো কাম্য হতে পারে না। এ লেখার শুরুতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের গাফলতি সুস্পষ্ট। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ৭২’ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া সত্ত্বেও টনক নড়েনি পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে। থানায় থানায় অর্থের বিনিময়ে সাধারণ ডায়রি করার যে রেওয়াজ চলে আসছে তা থেকে দেশ ও জাতি মুক্তি চায়। বাবা ও কন্যার এমনতর আত্মহনন পুরো দেশ ও সমাজের গালে চপোটাঘাত করেছে। এর পরেও যদি পুলিশ বাহিনীর ঘুম না ভাঙ্গে তবে তা হবে দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক। এই অবস্থা থেকে দেশ, জাতি ও সমাজ আশু মুক্তি চায়।
পুনশ্চ: শ্রীপুরের মর্মান্তিক ঘটনার ক’দিন পরেই ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীর হোটেলে তরুণী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। ধর্ষিত তরুণী থানায় অভিযোগ দাখিলের পরেও পুলিশ নাকি আসামীদের খুঁজেই পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে মুখ খুলতে হয়। তখন পুলিশ তৎপর হয় এবং শেষে ধর্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৮ জুন ২০১৭ ধর্ষণ মামলার চার্জশিট আদালত গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ পুলিশ ইচ্ছে করলেই আসামী বা অপরাধীদের ধরতে পারে, আর ইচ্ছে করলে পারে না। তার প্রমাণ শ্রীপুর ও বনানীর ঘটনায়। কোটিপতি আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার সেলিম এর কুপুত্র গ্রেফতার হওয়ার পর ফেইসবুকে এক বন্ধু এ ভাবে পোস্ট দিয়েছেন, ‘পুলিশ পারে ধর্ষকদের গ্রেফতার করতেÑ পুলিশিই পারে না, শ্রীপুর (গাজীপুর) থানায় অসহায় দিনমজুর হযরত আলীর অভিযোগ নিতে। সব কিছুর পেছনেই টাকার খেলা।’
আসলে পুলিশের হাতে গোনা ক’জন সদস্যের অপকর্মের কারণেই আজ দেশের আইন-শ্ঙ্খৃলা পরিস্থিতির এমন অবস্থা। এ থেকে উত্তরণের কি কোনো উপায় নেই?
লেখক: প্রকৌশলী

fikson1960@gmail.com