বাবুলের বাবার দাবি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি জানতো না পরিবার

আপডেট: মে ১৩, ২০২১, ৮:০৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে ভারতীয় নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এনেছেন মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বাবুলের বাবা আবদুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, তার পরিবার এ সম্পর্কে কিছুই জানতো না। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘তার শ্বশুর (মোশারফ হোসেন) এতদিন এ ধরনের কোনও অভিযোগ আনেননি। ঘটনার পাঁচ বছর পর এখন তিনি যা মন চাইছে তাই বলছেন। তিনি কেন এগুলো বলছেন আমার জানা নেই। আমাদের কিছু বলারও নেই। ওই সময় কী ঘটেছিল, সেটি আল্লাহ ভালো জানেন। আল্লাহ পাক এর বিচার করবেন।’
মিতু হত্যার ঘটনার পাঁচ বছর পর বুধবার (১২ মে) নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, এক নারী এনজিও কর্মকর্তার সঙ্গে বাবুলের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল।
দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে সেটি সাধারণত দুই জনের অভিভাবকদের জানানো হয় উল্লেখ করে আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘বাবুল আক্তার আর মাহমুদা খানম মিতুর ক্ষেত্রে অন্য একজন নারীকে নিয়ে পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। মিতু হয়তো ইতস্তত বোধ থেকে জানায়নি, কিন্তু তার বাবা-মাকে জানানোর পর তারা তো আমাদের বলতে পারতেন। এ বিষয়ে তারাও আমাদের কিছু বলেননি। মোটকথা হলো, বাবুলের ওই সম্পর্কের বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ও তো (বাবুল আক্তার) গাজীপুর থাকতো৷ আমি নিজেও জব করতাম। সাব-ইন্সপেক্টর ছিলাম। অবসর নিয়েছি। তিনবার হজ করেছি। ওরা আমাদের থেকে অনেক দূরে ছিল৷ তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহ ছিল কিনা আমরা কিছুই জানতাম না।’
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। খুনিরা গুলি করার পাশাপাশি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। ঘটনার সময় বাবুল আক্তার ঢাকায় ছিলেন। হত্যাকা-ের পর তিনি নিজে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।
এ ঘটনায় বুধবার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে পিবিআই বলছে, মিতু হত্যা ছিল কন্ট্রাক্ট কিলিং। বাবুল আক্তারের পরিকল্পনায় এটি সংঘটিত হয়। মিতুকে হত্যার জন্য তিন লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে পিবিআই জানায়।
এরপর বুধবার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন। মামলায় বাবুল আক্তার প্রধান আসামি করে আট জনকে আসামি করা হয়। বাবুল আক্তার ছাড়া অন্য সাত আসামি ঘটনার সময় দায়ের করা মামলায়ও অভিযুক্ত হয়েছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় এনজিওর ওই নারী ফিল্ড অফিসারের সঙ্গে বাবুল আক্তারের পরিচয় হয়। পরে ওই নারীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বাবুল আক্তারের মোবাইল ফোনে ওই নারী মেসেজ পাঠিয়েছিল। মোবাইল ফোনটি বাসায় রেখে যাওয়ায় ওই মেসেজগুলো মিতু দেখতে পায়। তখন তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চরমে ওঠে। ওই ঘটনার জের ধরেই বাবুল তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হত্যাকা-ের এক মাস আগে বাবুল চিনে এক প্রশিক্ষণে গেলে স্ত্রী মিতু দুটি বই পান, সেগুলো ওই নারী বাবুলকে দিয়েছিলেন। ওই দুটি বইয়ের একাধিক পাতায় একজন আরেকজনকে উদ্দেশ্য করে কিছু চিরকূট লিখেছিলেন। তাতে মিতু তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন