বারনই নদীতে উন্মুক্ত মাছ শিকারে শত মানুষের মিলনমেলা

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, পবা


মাছে ভাতে বাঙালি। এদেশীয় মানুষের খাদ্য তালিকার শীর্ষ উপকরণ। মানব দেহে পুষ্ঠি যোগাতেও মাছের ভূমিকা অনেক। আর এ মাছ শিকার অনেকের জীবিকার উৎসও বটে। এছাড়াও জীবিকা নির্বাহকারীদের পাশাপাশি হয় আনন্দ পিয়াসিদের সখ নিবারণ।
অশংখ্য খাল, বিল, জলাশয়, নদ নদী অববাহিকার আমাদের বাংলাদেশ। জনসংখ্যার বিস্তারে দখল ও প্রাকৃতিক নানা কারণে এসবের বেশিভাগ ভরাট পড়লেও রাজশাহীর পবা-মোহনপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত উন্মুক্ত বারনই নদীর দুই পাশজুড়ে প্রতিদিন বসছে মৎস্যজীবী, মৎস্য শিকারী ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলা।
সরোজমিন দেখা গেছে, সম্প্রতি বিল, খাল, ডোবা, জলাশয়সহ মাছের উৎসগুলো দখলবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ার কারণে বিলুপ্তপ্রায় মিঠা পানির মাছ। নেই আর উন্মুক্ত জলাশয়। রাজশাহীর পবার ইটাঘাটা, আমগাছি, সূর্যপুর এবং মোহনপুরের চাঁদপুর, বিদিরপুর ও বসন্তকেদার গ্রামসহ এ অঞ্চলের মানুষ এখন অনেকটায় ফাকা কিংবা অবসর সময় কাটাচ্ছেন। একবেলা সংসারের কাজ শেষে শীতের পড়ন্ত বেলায় শিশু, কিশোর, যুবক আর বৃদ্ধরা মাছ শিকারের জন্য প্রতিদিন ছুটে আসছেন নদী তীরে। পলো, বরশি, খেয়াজালসহ যে যার মতো হাতিয়ার নিয়ে মাছ শিকারে নেমেছে শতশত মানুষ। শিকারীদের ফাঁদে ধরা পড়ছে রুই, কাতলা, শৈল, বোয়াল, কৈ, শিং, গজার, টাকিসহ নানা প্রজাতির মাছ।
বেলাশেষে সন্ধায় অনেকেই মাছ নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন আবার কেউবা ফিরছেন রিক্তহস্তে। মাছ পাওয়া না পাওয়া দুটোয় যেন তাদের অপার আনন্দের সমাহার। মাঘ মাস হতে চৈত্র মাস পর্যন্ত নদীটির কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জায়গায় দুইপাড় জুড়ে দুইপ্রান্তের মানুষের উপস্থিতে মাছ শিকার আত্মীয়তার মিলনমেলা হিসেবে মন্তব্য করেন অনেকে। তবে স্থানীয়দের মতে কয়েক সপ্তার মধ্যে মাছ শিকারের এমন দৃশ্যটি আরো দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে। এছাড়াও বাড়বে উৎসুক দর্শকের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। সরব হয়ে উঠবে প্রাকৃতিক লীলাভুমি বারনই নদীর প্রাণ।
বারনই নদীর তীরবর্তী মোহনপুর উপজেলার বসন্তকেদার গ্রামের মৎস্য শিকারী বলেন সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানে মাছ ধরতে কারো বাধা নেই। কম বেশি সবাই মাছ পাই। অনেক মানুষ মাছ না ধরলেও  মাছ ধরার আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। নদী তীরে দ্ইু উপজেলার মানুষদের একস্থানে মাছ ধরাকে আমরা উৎসব হিসেবে মনে করেন তিনি।
পবা উপজেলার আমগাছির মাছ শিকারী আসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন, এখন সেরকম আর উন্মুক্ত জলাশয় নেই। বরশিতে মাছ ধরার মাঝে রয়েছে অনেক আনন্দ। এজন্য প্রতিবছর অশংখ্য মানুষদের মতো আমি অতি উৎসাহে বারনই নদীতে মাছ শিকারে আসি। পার হয় ক্লান্তিময় শরীরের বিষাদময় সময়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ