বার্সেলোনার মূল দলে মেসির এক যুগ

আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০১৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘মেসি’ নামের তথ্যভিক্তিক সিনেমা। হোর্হে ভালদানোর লেখায় অসম্ভব সুন্দরভাবে পর্দায় ভেসে উঠেছে (আর্জেন্টিনার) রোজারিওর গলি থেকে থেকে ফুটবলের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানো লিওনেল মেসির ভ্রমণ। যেখানে লা মাসিয়ায় সুযোগ পাওয়া কিংবা স্পেন বাদ দিয়ে মেসির আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তোলার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে কথার ছলে।
অথচ এই মেসির হয়তো বার্সেলোনার মূল দলে খেলাই হতো না! লা মাসিয়ায় সুযোগ তো হলো, কিন্তু চুক্তির বিষয়টা এতটাই ধীর গতিতে এগোচ্ছিল যে, মেসির আর্জেন্টিনায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও জেগেছিল খুব ভালোমতো। ফুটবল ঈশ্বর চান নি তা, তাই তো শুধু লা মাসিয়া নয়, সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তিনি এখন বার্সেলোনার প্রাণভোমরা। দেখতে দেখতে কাতালান ক্লাবটির মূল দলে এক যুগও পূরণ করে ফেললেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর-অনন্য এক ফুটবলার হয়ে, বার্সেলোনাকে সাফল্যের বৃষ্টিতে ভিজিয়ে।
লা মাসিয়া কিংবা বার্সেলোনার ‘বি’ দলের পারফরম্যান্স দিয়ে আগামীর তারকার ইঙ্গিতটা দিয়ে রেখেছিলেন মেসি। ‘রতœ’ চিনতে ভুল করেননি ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডও, বার্সার তখনকার এই কোচই তো মূল দলে সুযোগ করে দেন প্রথমবার। ফ্টুবল বিশ্বও যেন অপেক্ষায় ছিলেন এই দিনটি জন্য, স্মৃতির সাগরে ডুব দিলে মেসি ভক্তরাও ফিরে যেতে চাইবেন ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর দিনটিতে। ফুটবল বিশ্ব শাসন করার প্রথম ধাপটা যে সেদিনই ফেলেছিলেন বার্সেলোনার মূল দলের অভিষেক দিয়ে। পরের সময়টা শুধুই ইতিহাস। সাফল্য-প্রাপ্তির খাতায় কেবল যোগ হয়েছে বাক্সভরা রেকর্ড আর কীর্তি। মাঠে নেমেছেন চোখ ধাঁধানো ফুটবলে বিশ্বকে মোহিত করতে। কি জেতন নি! এক ব্যালন ডি’অরই জিতেছেন পাঁচবার। চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা, কোপা  দেল রে, ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপায় বার্সেলোনার ট্রফি কেস করেছেন সমৃদ্ধ।
বার্সেলোনা আর মেসি যেন একে অন্যের পরিপূরক। এবারের চোটের কথাটাই ধরুন না। কুঁচকির চোটে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, আর এই সময়টাতে বার্সেলোনা তিন ম্যাচে হারল দুটিতে! মেসির অভাবটা যে কী, সেটা আরও একবার টের পেল কাতালানরা। সের্হিয়ো বুশকেৎস বলেও দিলেন, ‘মেসি ছাড়া বার্সেলোনা দলটা আলাদা। ও থাকলে সব কিছু সহজ হয়ে যায়।’ অবশ্য স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের এই মন্তব্যের দরকার পড়ে না মেসিকে বার্সার ‘প্রাণভোমরা’ বলার জন্য। বার্সেলোনায় মেসির সাফল্যই এর বড় প্রমাণ।
লা লিগার ম্যাচ দিয়ে ১২ বছর আগে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয়েছিল মেসির। নগর প্রতিপক্ষ এস্পানিওলের বিপক্ষে ডেকোর বদলি হয়ে নেমেছিলেন ম্যাচ ঘড়ির ৮২তম মিনিটে। ন্যু ক্যাম্পে বড় দলে কাটানো এক যুগে সম্ভাব্য ১২ লিগ শিরোপার জিতেছেন আটটি। আর গোল গড়ের হিসাব বলে ম্যাচ প্রতি তার লক্ষ্যভেদের হার ০.৯ শতাংশ। লিগের ৩৫৪ ম্যাচে গোল সংখ্যা মেসির ৩১৭। তাতে শুধু বার্সেলোনার নয়, স্প্যানিশ লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। সব মিলিয়ে বার্সেলোনা জার্সিতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৪৬২।
এবার আসা যাক শিরোপা প্রসঙ্গে। ৮ লা লিগার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উৎসবে মেতেছেন মেসি চারবার। কোপা দেল রে শিরোপাও জিতেছেন চারবার। সঙ্গে আছে তিনটি ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা। এক যুগের সময়টাতে মেসির মূল্যায়ন আসলে এই গোল কিংবা শিরোপা সংখ্যা দিয়ে করা যাবে না। ফুটবলের এমন কিছু মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন তিনি, যেগুলো দেখা যায়নি খুব একটা। মাঠকে ক্যানভাস বানিয়ে বাঁ পায়ের তুলিতে এমন সব চিত্র তিনি এঁকেছেন, যা কেবল তার পক্ষেই সম্ভব। এই শিল্পী অনন্য, এই শিল্পী অতুলনীয়। এই শিল্পী লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।-বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ