‘বালির বিনিময়ে বিদেশিদের দিয়ে’ নদী খননের পরিকল্পনা

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বালির বিনিময়ে বিনা খরচে নদী খননের বিষয়ে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি বড় নদীগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ড্রেজিং বিদেশিদের দিয়ে করাতে। ড্রেজিংয়ের ফলে যে বালু আসবে তা তারা নিয়ে যাবে এবং যে কোনো জিনিসের যেহেতু একটা মূল্য থাকে তারা সেই মূল্যটা দিবে।”
সিঙ্গাপুরের ওই কোম্পানির নাম না বললেও তদের প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “একটা আলোচনা চলছে, এখনো সেটা চূড়ান্ত হয়নি। কিছু দেশ আমাদের বালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। তারা নিজেরা খনন করবেন, এরপর যে মাটি আসবে তারা সেটা নিয়ে যাবেন। তাই কিছু কিছু জায়গায় পরীক্ষামূলক খনন চালিয়ে দেখছি, এর কোনো খারাপ প্রভাব পড়ে কি না।”
এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, বড় নদীগুলো খনন করতে মোট ৯ লাখ কোটি টাকা দরকার বলে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে। এই মুহূর্তে এত টাকার সংস্থান করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।
“আমরা যখন ড্রেজিংয়ে যাচ্ছি, ড্রেজিংয়ের পর যে সিল্ট আসছে, সেটার ব্যবস্থাপনা করা আমাদের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বছর ড্রেজিং করলে এর পরের বছর বৃষ্টির কারণে আবার সেগুলো নদীতে চলে আসে। অন্যদিকে কারও জমির উপর তা রাখা যাচ্ছে না। কারণ জমির উপর রাখলে পয়সা দিতে হবে।”
বালির বিনিময়ে বিদেশিদের দিয়ে খনন করাতে পারলে ওই সমস্যাও মিটবে বলে মন্ত্রী মনে করছেন।
“নিজেরা খনন করলে প্রতি কিউবিক মিটারে সাধারণত ১৬০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। এক্ষেত্রে ওই টাকা লাগবে না। এছাড়া বালু ব্যবস্থাপনার জন্যও কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।”
প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ যমুনা নদী থেকে শুরু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা- এই তিন নদী দিয়ে প্রতিবছর ১ দশমিক ২ বিলিয়ন টন পলিমাটি আসে দেশের বাইরে থেকে। এর মধ্যে আধা বিলিয়ন টন আসে যমুনা নদী দিয়ে।
“সেজন্য আমরা ঠিক করেছি, একটা ডিজাইন পানি উন্নয়ন বোর্ড করে দেবে, সেই ডিজাইন অনুসারে সেখানে ড্রেজিং করা হবে। তবে আমরা দেখতে চাই, এই বালি উঠানোর ফলে আমাদের চারপাশ, নদী ও পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্ষতি হয় কিনা।”
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অতীতের অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতদিন নদী তীর সংরক্ষণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হত, তীর কেন ভেঙে যায়- সে বিষয়ে কাজ হত না। ফলে সুফল পাওয়া যেত না।
আগে সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে মোট বাজেটের ৭০ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ নদীর তীর সংরক্ষণে ব্যয় হত। বর্তমানে ৬০ শতাংশ নদীর তীর সংরক্ষণ এবং ৪০ শতাংশ সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা হচ্ছে বলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তির জট খুলবে।
“ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং সেদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও কথা দিয়ে গেছেন যে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সই হবে। আমি বিশ্বাস করি দুজন প্রধানমন্ত্রী যেহেতু কথা দিয়ে গেছেন, তাই সেখান থেকে তারা বিচ্যুত হবেন না।”
ডিআরইউ এর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।- বিডিনিউজ