বালিশ কাণ্ডের ১৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’ দেশের খুবই আলোচিত একটি ঘটনা। সংবাদ মাধ্যমে ওই কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ পেলে তা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন কর্তৃপক্ষ। এখনো ওই ঘটনা মুখরোচক আলোচনার একটি বিষয়। গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় ওই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গণপূর্ত অধিদফতরের ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টে দাখিল করা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক ব্যয় করার বিষয়ে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় গণপূর্ত অধিদফতরের ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া যাচাই-বাছাই ও বিল পরিশোধের সঙ্গে জড়িত ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ জুলাই রূপপুরের বালিশকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার শাস্তিমূলক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টকে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কেলেঙ্কারির তথ্য বেরিয়ে এসেছেÑ যা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কমিটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪টি ভবনে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরবরাহ কাজের চুক্তি মূল্য ১১৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অথচ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে ৭৭ কোটি ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার। অর্থাৎ চুক্তিমূল্য সরবরাহ করা মালামালের প্রকৃত মৃল্যের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি। এই বাড়তি পরিশোধিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
গ্রিনসিটি আবাসন পল্লির বিছানা, বালিশ, আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে তোলার যে ব্যয়-মূল্য ধরা হয়েছে তা শুধু অস্বাভাবিকই নয়Ñ অবিশ্বাস্যও বটে। ঘটনাটি ‘পুকুর চুরির’ মত ছিল। যে কারণে এই ক্রয়মূল্য সাধারণের কাছে শুধু সমালোচনার বিষয ছিল নাÑ এটা মুখরোচক গল্পেরও সূত্রপাত করেছে। সরকারকেও এই ঘটনা বেশ বিব্রত করেছে। বিরোধী পক্ষ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারও করেছে। এই ঘটনার সত্যতা বের করতে দেশের উচ্চ আদালতকেও ভূমিকা রাখতে হয়েছে।
আপাতত স্বস্তির বিষয় যে ঘটনার তদন্ত হয়েছে। ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে দেশের মানুষ আশা রাখতে চায় যে, ক্রয় কেলেঙ্কারির সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তারা আইনের আওতায় আসবে এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ