বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সর্বপর্যায়ের কমিটির সক্রিয়তা জরুরি আইনের সঙ্গে শক্তিশালী করতে হবে প্রতিরোধ কমিটিকেও

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২২, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

বাল্যবিয়ের কুফল বিবেচনায় দেশে যেমন আইন আছে, তেমনি রোধকল্পে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নানাবিধ পলিসিও রয়েছে। আর এই পলিসির অন্যতম হলো-ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটি। যেই কমিটি নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন ও অভিযোগ। এই গুঞ্জন ও অভিযোগ যে একেবারেই ভ্রান্ত, এমনটিও নয়। এর বাস্তবতায়ও রয়েছে। তবে বাস্তবতা যাইহোক না কেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সর্বপর্যায়ে গঠিত কমিটির সক্রিয়তা ও শক্তিশালীকরণ প্রক্রিয়া এখন সময়ের দাবি।
সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রশাসনের একটি সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন পর্যায়ের গঠিত কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ের মূল কারণগুলো আবারও নতুন করে খুঁজে বের করে তা সমাধানে সবার সমন্বিত অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বলাবাহুল্য রাজশাহীতে বাল্যবিয়ে নামক সামাজিক ব্যাধি কতটা ভয়ংকর তা কারও অজানা নয়। বিশেষ করে করোনা মহামারী বাল্যবিয়েকেও যে মহামারীর মতোই বিস্তৃত করেছে কি না? এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক আলোচনার মধ্য দিয়ে তা সমাধানে উদ্যোগ জরুরি ছিলো। এক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটি বড় ভূমিকা রাখতে পারতো। এই কমিটিকে বারংবার সক্রিয় হওয়ার তাগিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবিকভাবেই সক্রিয় রাখতে হবে। অন্যথায় বাল্যবিয়ে নামক সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধ হবে না।
বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে পরামর্শমূলক ওই সভায় বাল্যবিয়ে বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের যথাযথ প্রয়োগে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটি কার্যকর ও সক্রিয় করা, বাল্যবিয়ে ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক চর্চা, অংশীজনের অংশগ্রহণে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রশাসনের ওই সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটির সক্রিয়করণের এবং নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া এখন থেকে জেলা প্রশাসন এই বিষয়টি গুরুত্বসহ মনিটরিং করবে বলেও জানায়। প্রশাসনিক মনিটরিং বাড়লে কমিটি অবশ্যই সক্রিয় হবে বলেই আশা রাখি। বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রশাসনিককে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ