বাসন্তীরূপে পত্রহীন কাঠগোলাপ ও প্রকৃতির সাজ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম:


শীতের আবহ ছাপিয়ে নতুন সুর, ঘ্রাণ, সৌন্দর্যে বসন্ত বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রকৃতি। ঝরা পাতায় উঠছে বসন্তের আগমনী কল্লোল। সবুজের সমারোহে চলছে বাহারি রুপ-রং-সৌরভ ছড়ানো ফুলের আরম্ভণ ও যৌবন। বৃক্ষপত্রহীন কাঠগোলাপের শুভ্রসৌরভ আর নিরব প্রকৃতিতে চলছে পাখিদের গুঞ্জন ও সাজ সাজ রব। এমন সৌন্দর্যের সৌরভমাখা ‘গ্রিণ-ক্লিণ-হেলদি’ সিটি রাজশাহী নগরীর গুছানো ক্যাম্পাস রাজশাহী কলেজের সর্বত্রই। বসন্তকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত প্রকৃতি।

ক্যাম্পাসের প্রতিটি জায়গায় সৌরভ ও ফুলের শীতল স্নিগ্ধতার ছোয়া। লাল-সাদা ক্যাম্পাসে সর্বত্রই দোল খাচ্ছে পুষ্পটিত ফুল। কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনের মনজুড়ানো সৌন্দর্য পথচারীদেরও আকৃষ্ট করছে। ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস।

প্রশাসন ভবনের সামনে লোকজ বাংলার ‘রাজশাহীর চোখ’ টেরাকোটার গাঢ় লাল পাদদেশে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। ঐতিহ্যে ফুটে উঠেছে বসন্তের আভা। রক্তরাঙ্গা পলাশ বৃক্ষের নিচে ‘রক্তে ভেজা বর্ণমালা’ টেরাকোঠাও প্রকৃতির রঙে রেঙেছে। গাঁদা, ডালিয়া, জিনিয়া, ক্যালেন্ডুলার, ডালিয়া, টিথোনিয়া, ভারবেনা, প্যানজি, ডেন্টাস, পপি, চন্দ্রমল্লিকা, সিলভিয়া, ডালিয়া, কসমস, সেলোসিয়া, সুইশ ফ্লাওয়ার, বিশ্বসুন্দরী, ইনকা গাঁদা (কমলা, হলুদ)সহ বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপের সৌরভে মেতেছে পুরো ক্যাম্পাস। ঝরে পড়া পত্র ও ফুল পাপড়ি যেন পত্র-পুষ্পশয্যা।

প্রশাসন ভবন থেকে লাইব্রেরি পেরিয়ে ‘হাজী মুহম্মদ মুহসীন’ ভবনের দিকে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়বে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলেল বৃক্ষ। হাজী মুহম্মদ মুহসীন ভবনের রাজশাহী কলেজ রিপোর্টাস ইউনিটি ও শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ের সামনে চর্তুভূজাকার সবুজ গালিচা, পদ্মপুকুরের চারপাশ, প্রশাসন ভবনের পেছনের ফুল বাগান, রজন্তীকান্ত সেন মঞ্চ, কাজী নজরুল ইসলাম চত্বর, স্বাধীনতা চত্বর, ফুলার ভবনের পাশের বিলুপ্ত প্রজাতির বৃক্ষ বাগান ও সামনের সবুজ গালিচা, কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ও

পাশের ফুলেল বাগান, গণিত বিভাগের সামনের বাগান, পেনসিল বাগান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ভবনের পাশের সবুজ গালিচা, ইংরেজি বিভাগ ও কলেজ মসজিদের সামনের সবুজ গালিচা, ‘উদায়াস্তে বাংলাদেশ টেরাকোটা’সহ কলেজের রাস্তাগুলোর চারপাশে কাঞ্চনসহ বাহারি ফুলের সৌন্দর্যে বাসন্তী রুপ-ঘ্রাণ- স্নিগ্ধতা ছড়িয়েছে। আর এই সৌন্দর্যের সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির গুঞ্জন বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। এ যেন শৈল্পিক নৃত্য আর কণ্ঠে প্রকৃতিতে বাসন্তীর সুর।

কলেজের মালিরা বলছেন, বসন্তকে সামনে রেখে আগে থেকে তাদের সরব থাকতে হয়। কলেজের সৌন্দর্যের প্রশ্নে কলেজ প্রশাসন খুবই আন্তরিক। তারা আরও মাস খানেক আগে থেকেই বাসন্তের প্রস্ততি নিয়েছেন। ক্যাম্পাসের সব জায়গাতেই এখন ফুল আছে। পরিত্যাক্ত কোন জায়গা নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষাসহ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

বর্তমানে কলেজের ক্লাস রুমে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পদচারণা নেই বললেই চলে। তবে বিভিন্ন অফিসিয়াল প্রয়োজনে কলেজে এসে সৌন্দর্যের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। যেখানে সৌন্দর্যের প্রশাংসায় ভাসছে শিক্ষার্থীরা।

কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, রাজশাহী কলেজ মানেই সাজানো-গুছানো ক্যাম্পাস। আর বসন্তকে বরণ করে নিতে কলেজ প্রশাসনসহ শিক্ষার্থীরা অপেক্ষার প্রহর গুনেন। সেই সঙ্গে সৌন্দর্য বর্ধনেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়। করোনাকালে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও এই সৌন্দর্যের কোন অবনতি হয় নি। সব সময় তকতকে দেখেছি। ১৪ তারিখের বসন্তবরণ করা হবে। এর আগেই ক্যাম্পাস বাহারি ফুলে সেজেছে।

রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মিম ওবাইদুল্লাহ বলেন, চকচকে তকতকে ফুলেল সৌরভ রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের নিত্য সৌন্দর্য। তবে বসন্তের আবহে এই সৌন্দর্যে যৌবনের দোলা লাগে। কিছু সময় ধরে রাজশাহী বাইরে অবস্থান করছি। এই সৌন্দর্যকে প্রতি নিয়তই অনুভব করছি। বিশেষ করে বসন্তে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা, বসন্তবরণ অনুষ্ঠান এগুলো মুগ্ধকর।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী বদরুদ্দোজা বলেন, শীত-গীষ্ম-বসন্ত সব সময় রাজশাহী কলেজে ফুলেল সমাহার থাকে। তবে এই বসন্তের সৌন্দর্যটা অন্যান্য ঋতুর চেয়ে ভিন্ন। কলেজের পাঠদান বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে আসি। বসন্তের যে মাধুর্যময় সৌন্দর্য তা এই ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোনায় এখন ফুলেল সৌরভে বসন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে।

রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, রাজশাহী কলেজকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যময় রাখতে কলেজ প্রশাসন সবসময় তৎপর থাকে। বসন্তকে স্বাগত জানাতে একদিকে যেমন ফুলেল সৌরভে প্রকৃতিকে নান্দনিক রুপে সাজিয়ে তোলা হয়; তেমনি আনুষ্ঠানিকভাবেও বসন্তবরণের আয়োজন করা হয়। তবে এবার করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে সে আয়োজন করা হবে। সকলের প্রতি বসন্তের শুভেচ্ছা থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ