বাস্কেটবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিবন্ধী মায়া

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১, ১০:৪০ অপরাহ্ণ

স্মৃতি আক্তার:


হাল না ছাড়ার মানুষ রয়েছে হাতে গুনা। পরিশ্রম আর মনোবলকে দমাতে পারেনি প্রতিবন্ধীতা। প্রতিবন্ধী হওয়া স্বত্বেও খেলার স্বপ্ন পূরণ করেছেন মোয়াজ্জেমা খাতুন মায়া (২৯)। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা হুইল চেয়ার বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড়। মায়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনটি ম্যাচও খেলেছেন।
মায়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ী-মিস্ত্রীপাড়া গ্রামের মৃত আবু বাক্কারের মেয়ে। লেখাপড়ায় ডিগ্রি পাশ করেছেন মায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট মায়া। মাত্র ৬ মাস বয়সে পোলিও রোগে বাম পা অকেজো হয়ে যায়। স্বপ্ন ছিলো ক্রিকেটার হওয়ার। কিš‘ প্রতিবন্ধীতার জন্য তা হয়ে উঠেনি।
মায়া জানান, ‘স্বপ্ন ছিলো খেলাধুলা করার। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। গত দুবছর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে খেলছি। এসময়কালে খেলেছি ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের সাথে। সব থেকে বড় অর্জন পুরস্কার নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর হাত থেকে। এমনকি মহিলা হুইলচেয়ার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুরসহ ঢাকায় কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছি।’
মায়া প্রতিবন্ধী হলেও উ”চ শিক্ষিত। মায়ার মাধ্যমিক গোমস্তাপুর পাইলট উ”চ বিদ্যালয়ে, উ”চ মাধ্যমিক রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজে। পরে ডিগ্রি পাস করি। পড়াশোনার পাশা-পাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছি।
মায়া আরও জানান, ছোট বেলা থেকেই আমি খেলাধুলা পছন্দ করি। সহপাঠীরা খেলা করলেও আমি তাদের সাথে খেলতে পারতাম না। টেলিভিশনে খেলা দেখতে ভালো লাগতো। তখন থেকেই অনুপ্রেরণা, আমিও খেলবো। আমাকে টেলিভিশনে দেখাবে। হয়তো কোন এক দিন সেই স্বপ্ন পূরণ হবে।
এরপর আমার পরিচিত নারী হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড় মিতু আপার সাথে যোগাযোগ করি। তাকে আমার আগ্রহের কথা কথা জানায়।
বেশ কিছু দিন পরে মিতু বাস্কেটবল টিমের কোচ বুলবুরের নাম্বার এসএমএস করে। বুলবুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই বছরের ২০১৯ সালে ১২ তারিখ আমাদের ক্যাম্পে আসতে বলে।
এ কথা শুনে আমি বেশ খুশি হলাম। বিষয়টা বাড়ির সবাইকে বলে খুশি করতে পারলাম না।
শুধু মা ছাড়া সবাই বাঁধা দিলো। এর পরে ১১ তারিখ সকাল ৮ টায় ঢাকা সাভার সিআরপির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পরের দিন সকালে ইউনিফর্ম (পোশাক) পরে মাঠে নামলাম। সুযোগ হলো খেলার।
একদিন এ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার সেলিম রহমান আমাদেরকে জানালেন, ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর মেয়েদের বাস্কেটবল খেলা হবে। সেই খেলায় স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর হাত থেকে ট্রফি নেয়।
আমি খুব আনন্দিত হয়েছিলাম আমার প্রথম খেলার প্রথম সম্মানির টাকায় আমি আমার আম্মাকে শাড়ী উপহার দিয়েছি। আমার আম্মা আমাকে উৎসহ না দিলে আমার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেত। বর্তমানে মহামারী করোনার পরে ফিরবো আবার খেলার মাঠে। (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সাভারে খেলা আছে।
মায়ার মা মেয়ের এই সাফল্যে উচ্ছাসিত। তিনি বলেন, খুব ভালো লাগে যখন ওই (মায়া) খেলতে যায়। আমি চাই সে সবাইকে বুঝিয়ে দিক, শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ