বাস্তবসম্মত ফলে চোখ সাকিবের

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩৯০ রান। অক্ষত ১০ উইকেট। শ্রীলঙ্কার হাতে আছে ৯৮ ওভার। ম্যাচ বাঁচাতে পারবে বাংলাদেশ?
এই ধরনের পরিস্থিতিতে কি করতে হবে সেটা অজানা নয় এই বাংলাদেশ দলের। দুই দলের সর্বশেষ সিরিজেই তা করে দেখিয়েছি তারা। গলে করতে হবে তার পুনরাবৃত্তি।
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪৫৫ রান। হাতে পুরো ১০ উইকেট। মুমিনুল হকের শতকে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে শেষ দিন কাটিয়ে ম্যাচ বাঁচিয়েছিল মুশফিকুর রহিমের দল।
সেই ম্যাচের পর উইকেটের সমালোচনা করে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস বলেছিলেন, উইকেট পুরো ‘সড়ক’ এখানে ১০ দিনেও ফল হবে না। গলের উইকেট অবশ্য পুরোপুরি সড়ক নয়। শুক্রবার চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা সাকিব আল হাসান জানান, এরই মধ্যে ঘুরতে শুরু করেছে বল। তবে নিজেদের প্রয়োগ করতে পারলে টিকে থাকা অসম্ভব নয়।
“সবচেয়ে সম্ভাব্য ফল? ড্র। কারন এখনো ১০ উইকেট আছে। আমার মনে হয়, এখন আমাদের দুই তিনটা ভালো জুটি দরকার। সেক্ষেত্রে ভালোভাবে ড্র করা সম্ভব। প্রথম সেশনটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কিভাবে শুরু করি তার উপরই আসলে পুরো দিনটা নির্ভর করবে।”
টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ১৪২ ওভার খেলে ম্যাচ বাঁচানোর নজির আছে বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে চারশ’ ছাড়ানো ইনিংস আছে তাদের। গল টেস্টে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে থাকা মুশফিকুর রহিমের দল স্মরণ করছে সেই সব সুখ স্মৃতি।
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে প্রায় একই দাবি ছিল ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে। সেবার হতাশ করেছিলেন তারা। লাঞ্চের আগেই ৮০ রান তুলতে ফিরে গিয়েছিলেন চার ব্যাটসম্যান। এবার তার পুনরাবৃত্তি হলে ম্যাচ পুরোপুরি রঙ্গনা হেরাথদের মুঠোয় চলে যাবে।
সেবার বাজে শট খেলে ফেরা সাকিব জানান, এবার উইকেটে টিকে থাকার ব্যাপারে আরও অনেক বেশি মনোযোগী থাকবেন তারা।
“নতুন দিন তো অনেক রকমই হতে পারে। সবার চেষ্টা থাকবে দলের প্রয়োজনে যেন ঠিক কাজটা করতে পারে। প্রতিটা ব্যাটসম্যানই যখন উইকেটে যাবে, চেষ্টা করবে বেশিক্ষণ ব্যাটিং করার এবং রানও করার। রান বেশি করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। শুধু প্রতিরোধ গড়লেই হবে না, আবার শুধু মারলেও হবে না। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হবে। সবকিছুর একটা ভারসাম্য রাখতে হবে।”
পঞ্চম দিনে কেমন ব্যাটিং দরকার তার নমুনা এরই মধ্যে দেখেছে বাংলাদেশ। শেষ বেলায় কোনো ক্ষতি হতে দেননি তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। সাকিব মনে করেন, এই দুই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে অন্যরা শিখলে গলে আবার ড্র করা সম্ভব। “আজকে সৌম্য যখন ব্যাটিং করেছে, কোনো বাজে শট খেলেনি। সেই সঙ্গে স্ট্রাইক রেটও ভালো রেখেছে।” “তামিম ভালো ব্যাটিং করেছে। ও হয়তো খারাপ বল পায়নি, তাই খুব বেশি রান করতে পারেনি। দুই জনই যদি কালকে এর পুনরাবৃত্তি করতে পারে কিংবা পরের ব্যাটসম্যানরা ভালো করতে পারে, তাহলে ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব।”-বিডিনিউজ