বাড়ছেই চালের দাম

আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীর বাজারে বেড়েই চলেছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যাবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে এক থেকে দুই টাকা। আর পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি বেড়েছে এক থেকে দেড়শ টাকা। গত তিন মাস থেকে ধানের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। আর এ কারণে বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখি। এ পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে চালের দাম আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমন ধান মৌসুমেই কেবল চালের বাজার স্থিতিশীল ছিলো। সেসময় কৃষক সস্তায় ধান বিক্রি করেছেন। সর্বশেষ বোরো আবাদে নামার আগে সংরক্ষণে রাখা সব ধান বিক্রি করে দেন কৃষক। এরপর বড় মিল মালিকরা নিয়ন্ত্রণ করেন ধানের মজুদ। এরপর থেকেই চালের বাজার অস্থির। বেড়ে চলেছে দাম।
নগরীর বিসিক এলাকার আসলাম রাইস মিলের মালিক আসলাম উদ্দিন জানান, বিসিক এলাকায় ১৫টি চাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ধান সরবরাহ না থাকায় ১২টি চাতালই বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া কৃষকের কাছে ধান নেই। এর ফলে আমরা ধান কিনতে পারছি না। বড় ব্যবসায়ীরা ধান কিনে মজুদ করেছেন। তারাই ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এর ফলে বাজারে চালের দাম বেড়েই চলেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজনগর এলাকার ধান ব্যবসায়ী আবদুল মোমিন। তিনি বলেন, তিন মাস থেকে কৃষকের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে কৃষকের কাছে ধান নেই বললেই চলে। এর ফলে ধানের দাম বাড়তেই আছে। তিনি বলেন, বিআর-২৮ চাল ৮৪ কেজির বস্তা পাইকারি বিক্রি করছি ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। ৮৪ কেজি বস্তা চালের জন্য ধানের প্রয়োজন ১৪০ কেজি (সাড়ে তিন মণ) ধানের। হিসেব করে দেখা গেছে, এক বস্তা চাল আড়তে বিক্রি করে ক্ষুদ্র মিল মালিকরা বা ধান ব্যবসায়ীরা তিন থেকে চারশ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একারণে অধিকাংশ ধান ব্যবসায়ী বা চাতাল মালিক আড়তে চাল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন।
নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার চাল ব্যবসায়ী মেসার্স নিউ আদর্শ শস্য ভাণ্ডারের মালিক জসিম উদ্দিন মণ্ডল জানান, প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) বাসমতি চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকায়। তিনদিন আগেও প্রতিবস্তা চালের দাম ছিলো দুইশ টাকা কম। বর্তমানে এ চাল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা। আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০টাকা দামে।
প্রতি বস্তা (৮৪ কেজি) স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার দুইশ থেকে তিনশ টাকায়। এ চাল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৩৯টাকা। আর বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা। বাজারে এ চালের দামই সবচেয়ে কম। তবে এক সপ্তাহ আগেও স্বর্ণা কেজিপ্রতি দুই টাকা কম ৩৮টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মিনিকেট (৮৪) কেজি বস্তা বিক্রি হচ্ছে চার হাজার টাকা বস্তা। পাইকারি বিক্রি কেজিপ্রতি ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। কয়েকদিন আগেও মিনিকেট চাল ৪৮টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
নগরীর কুমারপাড়া এলাকার পাইকারি চাল বিক্রেতা আহমেদ রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা চালকল মালিকদের সরবরাহ করা চাল কমিশনে বিক্রি করি। বিভিন্ন এলাকা থেকে চালকল মালিকরা আমাদের চাল সরবরাহ করেন। ধানের দাম বাড়ার কারণে চালকল মালিকরা আমাদের কাছে বেশি দামে চাল সরবরাহ করছেন। এখন চালের বাজার চড়া।
চালের দাম বাড়া প্রসঙ্গে কোন সিন্ডিকেট কাজ করছে কী না- এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে রাজশাহী জেলা বাজার মনিটনিং কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, সারাদেশেই চালের দাম বেড়েছে। তাই রাজশাহীতেও দাম বাড়া স্বাভাবিক। আমরা সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করছি। স্বাভাবিক দামেই বিক্রেতারা ক্রেতাদের কাছে চাল সরবরাহ করছেন। তবে মাসখানেক পর নতুন বোরো ধান উঠতে শুরু করবে। তখন কমে যাবে চালের দাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ