বাড়ছে করোনার সংক্রমণ ব্যক্তি সচেতনতায় হোক করোনা প্রতিরোধের সংকল্প

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২২, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বমহামারী করোনার আগ্রাসী রুপ দেখেছে পুরো বিশ্ব। যার ক্ষত প্রায় প্রতিটি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ প্রতিটি খাতেই স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিতে এই মহামারীর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এটি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রণ’ চোখ রাঙাচ্ছে। বাড়তে শুরু করেছে করোনার সংক্রমণ। রাজশাহীতেও করোনা শনাক্তে নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরইমধ্যে ভ্যাক্সিনেশনসহ স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। বন্ধ রয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মহামারী পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে সরকারের লকডাউন কিংবা এমন কোন কঠোর সিদ্ধান্তের আগেই করোনার মোকাবিলার অন্যতম রক্ষাকবজ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ব্যক্তি সচেনতার কোন বিকল্প নেই। ‘ব্যক্তি সচেতনতায় হোক করোনা প্রতিরোধের সংকল্প’-এই স্লোগানকে অনুধাবন করেই আমাদের মহামারী রুখতে হবে।
রাজশাহীতে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) এবং রামেক হাসপাতাল আরটি-পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের হার হার ছিলো ৫৮.৬০ শতাংশ। ওই ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
এদিন হাসপাতালে ১০৪ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রোগী ছিলেন ৪৯ জন। এক দিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ৪৩ জন। বর্তমানে রাজশাহীর ২৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন, নওগাঁর ৩ জন, নাটোরের ২ জন, পাবনার ৩ জন, কুষ্টিয়ার ৩ জন, সিরাজগঞ্জের একজন, ঝিনাইদহের একজন এবং মেহেরপুরের একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা কম হলেও সংক্রমণের উর্ধ্বমূখী সংখ্যা ভবিয়ে তুলছে। এনিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভ্যাক্সিনেশনসহ স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বধিক গুরুত্ব দিয়ে মানার কথাও বলছেন। কিন্তু ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমে সফলতা থাকলেও রাজশাহীতে এখনো স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে। সরকারি-স্বায়ত্বশাসিত-বেসরকারি অফিস, হোটেল, রেস্তোরা, হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রাস্তাঘাট, বাজার-হাটে এখনো কার্যকর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মানার এমন চিত্র নিয়ে সোনার দেশ পত্রিকার একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আজকেও করোনার সচেতনতায় নগরীর হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে স্বাস্থ্যবিধিতে উদাসীনতার দিকটি স্পষ্ট হচ্ছে। যেটা শঙ্কার সঙ্গে উদ্বিগ্নতারও কারণ। সুতরাং এ বিষয়ে প্রশানসিক তৎপরতার সঙ্গে ব্যক্তি সচেতনতার বিকল্প নেই। নিজ নিজ জায়গা থেকে ব্যক্তি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহারসহ নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সঠিক নিয়মে স্বাস্থ্যবিধি মানার মাধ্যমেই করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ