বায়া সেফ হোমের আরো ৬ নারী-শিশু হাসপাতালে মোট অসুস্থ ১৯, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলার বায়ায় অবস্থিত সরকারি সেফ হোমের আরো ৬ নারী-শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন, রাশিদা (৩০), আম্বিয়া (৪০), অজিফা (১৮), পারভিন (৩০), কুলসুম (৮) ও তানিয়া (৬)। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মাহবুব আলম জানান, গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তারা এখন হাসপাতালের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। এর আগে শুক্রবার রাতে ওই সেফ হোমের ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বমোট ১৯ জন নারী ও শিশু অসুস্থ অবস্থায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এরও আগে গত বুধবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মিনতি রানী (২৫) নামে এক নারী।
খবর পেয়ে গতকাল সকালে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন এবং সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক জুলফিকার হায়দার সেফ হোমটি পরিদর্শন করেছেন। একই সাথে তাঁরা রামেক হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসারত রোগিদের খোঁজখবর নেন। এদিকে একের পর এক হেফাজতি অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিষয়টির কারণ উদঘাটনে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম গঠন করে দিয়েছেন। গতকাল সকালেই এই মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেফ হোমের পরিচালক আবু তাহের।
আবু তাহের দাবি করেছেন, সেফ হোমে যারা আছেন, তাদের প্রায় সবাই মানসিক প্রতিবন্ধী। এ কারণে নোংরা পানি পান করায় এদের মধ্যে থেকে কেউ একজন প্রথমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। এখন সেটি ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের মাঝেও।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেফ হোমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতিদের খাবার সরবরাহ, চিকিৎসা প্রদান ও পথ্য সরবরাহে নানা অনিয়ম করছেন। তাদের সরবরাহকৃত খাবারও অত্যন্ত নি¤œমানের। এছাড়া তারা হেফাজতিদের বিভিন্নভাবে নির্যাতনও করে থাকেন। তাদের রাখা হয় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।