বায়ুদূষণে দেশে বছরে মারা যাচ্ছে ৮০ হাজার মানুষ দূষণ রোধে পদক্ষেপ জরুরি

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২২, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

দেশে এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দূষণ। দ্রুত নগরায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম। যার একটি বায়ু দূষণ। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণায় উঠে এসেছে দূষণের ফলে উদ্বেগজনক মৃত্যু হার। এ বিষয়ে পদক্ষেপ জরুরি।
বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণে বছরে ৮০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এরফলে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির ক্ষতি হচ্ছে ৩ দশমিক ৯ থেকে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শুধু মৃত্যু নয়; বায়ুদূষণের ফলে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, কাশি, নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ এবং বিঘ্নতার ঝুঁকি। শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতটা বেড়েছে তা সহজেই অনুমেয়।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান ড্যান চেন। ‘ব্রিদিং হেভি: নিউ এভিডেন্স অন এয়ার পলিউশন অ্যান্ড হেলথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ঢাকা ও সিলেটের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বহিরাঙ্গন বায়ুদূষণের প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়। স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব কমাতে প্রতিবেদনে জনস্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়ার উন্নতির কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণের ডেটা মনিটরিং সিস্টেমের উন্নতি, প্রারম্ভিক ওয়েমিং সিস্টেমে বিনিয়োগ এবং গবেষণা বাড়ানোসহ অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এই সুপারিশকে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর করতে হবে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে বড় নির্মাণ এবং ক্রমাগত যানবাহন চলাচলের এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় বায়ুদূষণ এয়ার কোয়ালিটি নির্দেশিকা থেকে গড়ে ১৫০ শতাংশ বেশি। বায়ুদূষণের দিক থেকে পরের অবস্থানে বৃহত্তর ঢাকার ইটভাটার পার্শ্ববর্তী এলাকা। সেখানে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১৩৬ শতাংশ বেশি বাযুদূষণ হচ্ছে। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে। এটি খুবই উদ্বেগের কারণ যে ঢাকা শহর যান্ত্রিকতার উৎকর্ষতায় বসবাস অযোগ্য সিটিতে পরিণত হচ্ছে। এ অবস্থার উত্তোরণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এর বাস্তাবায়নও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। তবে এ বিষয়ে সুসমন্বিত বিশেষায়িত উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রজন্ম যদি দীর্ঘসময় বায়ুদূষণের মধ্যে কাটিয়ে দেয়, তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বায়ুতে ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার ১০ গুণের বেশি। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসের মধ্যে থাকলে যেসব রোগ হতে পারে, তার মধ্যে আছে – হৃদরোগ, কাশি, নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ, ফুসফুসের ক্যানসার, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ, স্ট্রোক, চোখে ছানি পড়া, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সমস্যা হতে পারে। তাই আমাদের বায়ুদূষণ রোধ করা গেলে, বায়ুদূষণের ফলে মানুষের শরীরে যেসব রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে, সেগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা কমিয়ে ফুসফুসের সমস্যা, হৃদরোগ, চর্মরোগসহ অনেক রোগ কমে যাবে। দূষণরোধ করতে পারলে প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নেওয়ার সংখ্যা কমে যাবে, তেমনি শিশু ও মানুষের গড় আয়ু বাড়বে। বায়ুদূষণ কমানো গেলে নিজেদের আর্থিক সাশ্রয় যেমন হবে, তেমনি জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। মানুষের অসুস্থতা কমবে, গড় আয়ু বাড়বে, সময় সাশ্রয় হবে, পাশাপাশি বেড়ে যাবে জিডিপিও।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ