বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

বায়ু দূষণে বাংলাদেশ এগিয়ে পরিবেশ অবজ্ঞার আর সুযোগ নেই

আপডেট: November 27, 2019, 12:51 am

বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ এখন বাংলাদেশ। বায়ুদূষণের দিক দিয়ে বাংলাদেশের ধারে কাছেও নেই কোনো দেশ। আশঙ্কা জনকহারে দূষিত হচ্ছে ঢাকার বাতাস। এতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নগরবাসীর মধ্যে। ব্যাপারটি এখন সেই পর্যায়ে বিবেচনা করা হচ্ছে যে, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হোক। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) দেখে গেছে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার বায়ুর সূচক ছিল ১৬৯। গত ৫ দিনের ঢাকার বায়ুর সূচক সর্বনিম্ন ১০৯ থেকে সর্বোচ্চ ২৮৬ পর্যন্ত ছিল ।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মান অনুযায়ী বায়ুর সূচক ৫০ এর নিচে থাকলে সেটিকে স্বাস্থ্যকর ধরা হয়। ৫০ থেকে ১০০ এর ভেতরে থাকলে সেটিকে মধ্যপন্থী বা সহনীয় পর্যায় ধরা হয়। ১০০ থেকে ১৫০ এর মধ্যে থাকলে সেটিকে সেনসিটিভ মানুষের জন্য অসাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে অসাস্থ্যকর বায়ু হিসেবে ধরা হয়। ২০০ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুবই অস্বাস্থ্যকর বায়ু। বায়ুর মান ৩০০ এর উপরে উঠে গেলে সেটিকে বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বাতাসের দূষণের সূচক ৫০০ বা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই সময় সেখানে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
ঢাকা সিটিতে বায়ু দূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে বলে স্বীকার করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি এর জন্য মূলত তিনটি কারণের কথা বলেছেন। ঢাকাসহ সারাদেশে বায়ু দূষণের জন্য দায়ী হলো- ইটভাটা, মোটরযানের কালো ধোঁয়া এবং যথেচ্ছ নির্মাণকাজ।
সোমবার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার বায়ু ও শব্দ দূষণ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার শুরুতে তিনি এ কথা বলেন।
পরিবেশ দূষণের বিষয়টি নিয়ে দেশের পরিবেশবাদীরা দীর্ঘ বছর ধরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়াতে সোচ্চার আছেন। সরকারকে নানা পরামর্শ ও সুপারিশ করা হয়েছে কিন্তু এসব কিছু বাস্তবিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায় নি। এ পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। এর মূলে চলমান উন্নয়নে ব্যবস্থাপনার অভাব, ইটভাটা, অপরিকল্পিত কলকারখানা, গাড়ির কালো ধোঁয়া দায়ী। এটিই বাংলাদেশের চিত্র। এর স্বাস্থ্যঝুঁকিও মারাত্মক।
এ বিষয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণ কার্যক্রমের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক সুনিদিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতি মাসে হাইকোর্ট বিভাগে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। কিন্তু তাতে করে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন তো হয়-ই নি বরং দূষণের মাত্রা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে দেশের ইটভাটাগুলোর ওপর একটি জরিপ করা হয়। তাতে দেখা যায়, দেশে ইটভাটার সংখ্যা ৪ হাজার ৯৯৫টি। ২০১৮ সালে পরিবেশ অধিদফতরের জরিপে দেখা যায়, ইটভাটার সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ৯০২টি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি ইটভাটা ঢাকা বিভাগের মধ্যে গড়ে উঠেছে। ওই গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট যানবাহনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৭। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৪।
তথ্যমতে ইটভাটার ক্ষেত্রে বৃহদ অংশই পরিবেশ আইনকে যথাযথ প্রতিপালন করা হয় নি। বিপুল সংখ্যক ইটভাটার লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। অথচ এসবক ইটভাটা চালু রাখতে কোনো অসুবিধাই হয় না। অর্থাৎ সরকারের দায়িত্বশীল দপ্তর এ গুলো না দেখার ভান করেই থাকে।
পরিবেশবিদদের মতে একটি শহরের অন্তত ২৫ শতাংশ খোলা জায়গা থাকতে হয় যেখানে সবুজায়ন হবে। কিন্তু ঢাকায় তা নেই। আমাদের এখানে কোনো ডেভেলপমেন্ট হলে পরিবেশের কথা বিবেচনা করে কোনো পরিকল্পনা করা হয় না।
এ সমস্যা নিরসনে প্রথমেই আইনের যথার্থ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কার্যকরি ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ দূষণকে আর অবজ্ঞার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ