বিএনপির বিদেশ নির্ভরতা || এ আঁধার কাটবে কবে?

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির রাজনীতির খরা কাটছেই না। খরা কাটিয়ে ওঠার জন্য যে ধরনের কর্মকৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। ফলে খেই হারানো বিএনপি এখনো স্বপথে চলতে পারে নি। এখনো বিদেশ নির্ভরতা থেকে বিএনপি বেরিয়ে আসতে পারে নি। বের হয়ে আসতে চাইলে অন্তত কর্মকৌশল তৈরি করে জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারতো। কিন্তু তেমনটি হয় নি।
পশ্চিমা বিশ্বে দলের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুনেকে অনুরোধ করেছে বিএনপি। দলটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী অনুষ্ঠানে কয়েকটি বিষয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরে। সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অর্থাৎ বিদেশ নির্ভরতা যে বিএনপির মধ্য থেকে কাটেনি ইউই-এর বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক তা-ই আবার স্পষ্ট করলো। বিএনপির প্রতিনিধিদল বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে জানায়, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার’ যে অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও পরিকল্পিত। ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর চার বছরের মাথায় এসে বিএনপিকে এখনো প্রমাণের চেষ্ট করতে হয় যে, তারা সন্ত্রাস করেনি। তাও আবার বিদেশিদের কাছে। অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা তারা কোনোভাবেই দূরিভুত করতে পারছে না। কারণ বিএনপি যে, সন্ত্রাস করেনি তার স্বপক্ষে সব সময় অসাড় যুক্তিই প্রদর্শন করে গেছে। আর জামায়াতে ইসলামীর সাথে গ্যাটছড়া বজায় রেখে বিএনপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দূর করা যাবে বলে মনে হয় না। যে ইউই-এর বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের কাছে তাদের নালিশ বা আবেদন তাও অসাড় প্রমাণ করে এই কারণে যে, খোদ ইউরোপিয় ইউনিয়ন বিএনপিকে জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছিল কিন্তু বিএনপি সে পরামর্শ গ্রহণ করে নি। অর্থাৎ ইউরোপিয় ইউনিয়নও সম্যক বুঝে ছিল যে, বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ করতে না পারলে ‘সন্ত্রাস কলঙ্ক’ থেকে বিএনপি রেহায় পাবে না।
জনগণের প্রতি বিএনপি আশ্বস্ত হতে পারছে না কেন কিংবা বিএনপি নামক দলটি স্বআস্থায় আছে কি না তা খুবই প্রশ্ন সাপেক্ষ। এই পরিস্থিতি থাকলে তা নিশ্চিতভাবে বিএনপি রাজনীতিদতে উভয় সঙ্কট চলছে। এক. বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে, দুই. দলের অভ্যন্তরীণ বা সাংগঠিনক আস্থার ক্ষেত্রটিও বেশ ভঙ্গুর। এই দুই সঙ্কটের সুযোগ ঠিকই ক্ষমতাসীনরা ব্যবহার করছেÑ এটাই দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রবণতা।
দেশে এখন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ক্ষমতাসীনদের ‘অব্যবস্থাপনার’ ব্যাপারে বক্তৃতা- বিবৃতি ছাড়া কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও তো আস্থা অর্জনের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি রাজনীতি সেখানেও ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের অর্ধকোটি মানুষ যে মুহূর্তে বন্যাকবলিত, মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে তখন বিএনপি বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েই নিজেদের দায় সারতে পারে না। দলটির চেয়ারপার্সন এই পরিস্থিতিতেও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ ধরনের বিচ্ছিন্নতা শুধু বাগাড়ম্বর করে কিংবা বিদেশিদের কাছে অনুকম্পা চেয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা কতটুকু সম্ভব হবে তা বিএনপি নেতৃত্বকে ভাবার সময় এসেছে। অন্য শক্তির প্রতি নির্ভরশীলতা বিএনপিকে যে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু করে তুলছে তা বিএনপি যথাশিগগিরই অনুধাবন করতে পারলে তাতে দলটির কল্যাণই হবে। বিএনপির মধ্যে রাজনীতিটাও ফিরে আসবে। বিশ্ব বাস্তবতায় কারো অভিযোগ নিষ্পতির ব্যাপারে কোনো দেশ আগ্রহ দেখাবে না এই সত্যটি অনেক আগেই বুঝা দরকার ছিল বিএনপি নেতৃত্বের। নিজ শক্তির ওপর নির্ভরতার অন্য কোনো বিকল্প আছে বলে আমাদের জানা নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ