বিএনপি নিজেরাই নিজেদের বিশ্বাস করে না আ.লীগের বিভাগীয় কর্মী সমাবেশে ওবায়দুল কাদের

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হবার কিছু নেই। বিএনপি এখন একটা ভঙ্গুর দল। তাদের কাজ এখন শুধু নালিশ করা। এইজন্য তাদের নাম দিয়েছি বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। মিথ্যাচার প্রচার করাই বিএনপির কাজ। আন্দোলন নাই, অর্জন নাই, শুধু প্রেস ব্রিফিং করা! এখন বিএনপি এমন অবস্থায় গেছে যে, নিজেরাই নিজেদের বিশ্বাস করে না। দল হিসেবে বিএনপি এখন যত এলোমেলো, নেতাই নেতাই যত সংশয়, সন্দেহ। এ হিসেবে বিএনপি দল হিসেবে দুর্বল হলেও তাদের সমর্থন কিন্তু দুর্বল নাই। ভোটের রাজনীতিতে বিএনপিকে তুচ্ছ করে দেখার উপায় নেই।
গতকাল শনিবার বেলা একটায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে রাজশাহী বিভাগীয় কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এইজন্য তিনি নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।
ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগে জনপ্রিয় গড ফাদার চাইনা, জনপ্রিয় লিডার চাই। দলে অনুপ্রবেশকারী পরগাছাদের কোনো স্থান নেই। যারা নিজেদের দল ভারী করার জন্য আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের আনেন তারা সাবধান হয়ে যান। আর যারা দলে থেকে অপকর্ম করেন তারাও সংশোধন হয়ে যান।
কর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা যারা ক্ষমতায় আছি তারা কর্মীদের ব্যবহার করি। সমস্যা কর্মীদের মধ্যে না, সমস্যা হচ্ছে আমরা যারা নেতা তাদের মধ্যে। তাই আপনারা যারা কর্মী হিসেবে কাজ করছেন তারা কখনো কারো স্বার্থ রক্ষার পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন না।
ওবায়দুল কাদের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোথাও কোনো পকেট কমিটি করবেন না। তৃণমূল পর্যায়ে ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কমিটি করবেন। দুঃসময়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের নিয়ে কমিটি করুন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দল ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে দেশ। উন্নয়ন নিয়ে আমাদের আর মাথা ব্যথা নেই। উন্নয়ন আরো হবে। এখন শুধু আমাদের আচরণের উন্নয়ন করতে হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য আব্দুল খালেক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী, সাংসদ আয়েন উদ্দিন, সাংসদ এনামুল হক, সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা প্রমুখ। পরিচালনা করেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বজলুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, কর্মীরাই হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি। শেখ হাসিনার গণমাধ্যম। আপনাদের প্রত্যেকের বক্তব্য এরপর শোনা হবে। প্রতিটি জেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি সভা করা হবে। তখন আপনাদের বক্তব্য শুনব। আপনারা তখন সরকারের কাছে আপনাদের যত বক্তব্য আছে সব পেশ করবেন। আপনাদের লিখিত বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে পাঠানো হবে।
আব্দুল খালেক বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও সেই অর্থে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা নেই। সাংসদ নেই, মেয়র নেই। এর পিছনে কারণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ভালো না। অনেক সময় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ হিসেবে দেখা যায়। এটা ঠিক না। দলের এই বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ালে কেউ তার সামনে দাঁড়াতে পারে না। আব্দুল খালেক তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে তৃণমূল থেকেই নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান জানান।
এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এই দেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য অভূর্তপূর্ব। বাংলাদেশ এখন সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল হয়ে গেছে। এই সরকারের আমলেই মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। এই রকম অভূতপূর্ব সাফল্যের সময় রাজনীতির অঙ্গনকে আবার অন্ধকারাচ্ছন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আবার তো নির্বাচন কমিশন গঠন করতেই হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতেই সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করার পর, শপথ এখনো নেয়নি, তাতেই বিএনপি এই কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ তারা জানে না এই সরকারের নেতৃত্বেই আগামি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো বিভেদ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ যেন না করি, কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তাকেই যেন মেনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। একসাথে চলতে গেলে কিছুটা সংঘাত থাকেই, তাই বলে আমরা যেন নিজেদের শত্রু মনে না করি। তিনি সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামি নির্বাচনে কাজ করার আহ্বান জানান।