বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টায় সূর্য রানী

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৭, ১:২০ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা



‘বিশ্বে যাহা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নারী কবিতার এই বাক্যগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায় বাঘা উপজেলার আড়ানী মাস্টারপাড়া মহল্লার মৃত পচা হালদারের সহধর্মিণী সূর্য রানীর (৫৫) মাঝে।
রানী পেশায় একজন চা বিক্রেতা। আড়ানী মনোমোহীনি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান জুয়েল আলী বলেন, নারীরা সমাজের কোনো অংশে কম নয়, যার জ্বলন্ত উদাহরণ সূর্য রানী।
সূর্য রানী চা বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা আয় হয়। তার একমাত্র ছেলে সুকুমার হালদারকে বিয়ে দিয়েছেন। তারও চার বছরের একটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু সকুুমার অসুখের কারণে কাজে যেতে পারে না। সূর্য রানীকেই সংসার চালাতে হয়। বর্তমানে তার চারজনের সংসার।
আলাপচারিতায় সূর্য রানী বলেন, ১৩ বছর আগে স্বামী মারা গেছে। প্রথমে ছেলে সুকুমার হালদার আড়ানী মনোমোহীনি উচ্চবিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে চায়ের দোকান দেয়। ছেলে কিছুদিন পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। চুলার কাছে থাকলে অসুখ আরো বেড়ে যাবে বলেছেন ডাক্তার। দোকান চালানোর কাওকে না পেয়ে আমিই সাত বছর ধরে চা বিক্রি করে আসছি। আমার ছেলে কাজ করতে পারে না, আর স্বামীও ১৩ বছর আগে মারা গেছে, তাই যতদিন শরীরে শক্তি আছে কাজ করেই খাবো।
এখন বয়সের ভারে কাজ করতে অসুবিধা হলেও বিকল্প কোনো উপার্জনের উপায় না থাকায় তাকে বাধ্য হয়ে চা বিক্রির কাজ করতে হচ্ছে। তার শেষ ইচ্ছা একটি ছোট মুদিখানার দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার। কিন্তু দোকান দেয়ার মতো অর্থ তার হাতে নেই। কোনো বেসরকারি বা সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ সহায়তা পেলে চা বিক্রির কাজ ছেড়ে ব্যবসা করেই জীবন চালাতো সূর্য রানী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ