বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে গণমাধ্যম: ট্রাম্প

আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০১৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যে বিক্ষোভ চলছে, তার পেছনে ‘গণমাধ্যমের ইন্ধন’ দেখছেন এই ধনকুবের।
বৃহস্পতিবার রাতে এক টুইটে তিনি বলেন, “খোলামেলা ও সবচেয়ে সফল একটি নির্বাচন মাত্র শেষ হল। আর এখন গণমাধ্যমের উসকানিতে পেশাদার প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নামছে। ভেরি আনফেয়ার।”
গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। পপুলার ভোট বেশি পেলেও বেশি ইলেকটোরাল ভোটে পদ্ধতিতে হেরে গেছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি।
ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। ‘ট্রাম্প ইজ নট মাই প্রেসিডেন্ট’, ‘নো রেসিজম’ স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে আগুন ধরিয়ে যান চলাচলে বাধা দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকটি শহরে দোকান ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ফিলাডেলফিয়া, বোস্টন, পোর্টল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, ওকল্যান্ড ও সিয়াটলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। ‘অভিবাসী ও মুসলিমবিরোধী’ বক্তব্েযর কারণে সামলোচিত ট্রাম্পকে তার বক্তব্য থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় কমিটির মুখপাত্র শন স্পাইসার ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ওই সময়ের মধ্যে হয়তো অনেক কিছুই ইতিবাচক দিকে মোড় নেবে।
বুধবারের মত বৃহস্পতিবারও শতাধিক শহরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, দুইশর বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয় ম্যানহাটানের ট্রাম্প টাওয়ার এলাকায়। ওই টাওয়ারেই ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা থাকেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘নো হেইট, নো ফিয়ার- ইমিগ্র্যান্টস আর ওয়েলকাম হিয়ার’, ‘ইমপিচ ট্রাম্প’, ‘নট মাই প্রেসিডেন্ট’ লেখা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ম্যানহাটান পার্ক এলাকায় সমাবেশ করেন।
হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প-ওবামার বৈঠকের সময়েও বাইরে শতাধিক বিক্ষোভকারী স্লোগান দিতে থাকেন। দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে বিদায়ী ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের মধ্যে ঘণ্টা দেড়েক আলোচনা হয় বলে গণমাধ্যমের খবর।
হোয়াইট হাউজ থেকে ক্যাপিটল হিলে যাওয়ার রাস্তায় দুই পাশে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ট্রাম্পের মত সমালোচিত ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন প্রবাসী হিলারিসমর্থকদের অনেকে।
ট্র্যাভেল এজেন্সির ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল বলেন, “নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিকল্প নেই। জনসাধারণের ভোটের হিসেবেই জয়-পরাজয় নির্ধারণের বিধি তৈরি করতে হবে।”
আমেরিকা অভিবাসীদের রক্ত-ঘামে গড়ে উঠেছে মন্তব্য করে বাদল বলেন, “ট্রাম্প তাদের আটকানোর হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানবিরোধী কথা বলছেন।” নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানালেন এটর্নি মেরি ডি সিলভাও।
“নির্বাচন পদ্ধতির মারপ্যাঁচে যুক্তরাষ্ট্র ২০০ বছর পিছিয়ে গেল। তথ্য-প্রযুক্তির শীর্ষে অবস্থান করা একটি দেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত কাউকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নেয়ার মধ্যে স্বস্তির কিছু নেই।” নানা মন্তব্েযর জন্য বিতর্কিত রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় ‘যুক্তরাষ্ট্র ইমেজ সঙ্কটে’ পড়েছে বলেও মনে করেন এ আইনজীবী।
“আমি আমার কলেজ যাওয়া মেয়ের প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারিনি; বলতে পারিনি- ট্রাম্প কোনোভাবেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। এভাবে আমরা নতুন প্রজন্মকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছি। সত্যকে আড়াল করে প্রকারান্তরে নিজেরাই প্রতারকের পর্যায়ে চলে যাচ্ছি।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নেয়ার অর্থ ‘প্রেসিডেন্সিকে টাউট-বাটপার আর বিকৃত মানুষের হাতে তুলে দেয়া’, মন্তব্য মেরির স্বামী পেরি ডি সিলভার।
তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাংকার রে হুই’র ভাষ্য, ভোটের ফলাফল মেনে নিতে না পারায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ রাজপথে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।
নারী, অভিবাসী ও মুসলমানদের বিষয়ে ট্রাম্পের মনোভাবের পরিবর্তন না ঘটলে এ বিক্ষোভ আরও বড় ঘটনা ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।- বিডিনিউজ