বিচারকের সই জাল করে সাজা || তদন্ত কর্মকর্তার গাফলতি আমলে নেয়া হোক

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

বিচারকের সই জাল করে ১০৬ জনকে জামিনের ভুয়া কাগজ দেয়ার দায়ে ঢাকার জজ আদালতের পাঁচ কর্মীকে দুটি ধারায় মোট ১৪ বছর করে কারাদ- দেয়া হয়েছে। ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান বুধবার এই রায় দেন। দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দ-াদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন- ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেশকার মুসলেহ উদ্দিন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শেখ মো. নাঈম এবং উমেদার (অবৈতনিক অস্থায়ী কর্মী) মো. ইসমাইল, মো. আলমগীর ও মো. জাহাঙ্গীর।
রায়ে দুটি আলাদা ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে আসামিদের প্রত্যেককে। সেইসঙ্গে দুটি অপরাধে ১০ হাজার টাকা করে প্রত্যেককে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মোট ৭৬টি মামলায় বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ১০৬ জনকে ভুয়া জামিন দেয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৫ সালের জুলাই মাসে দায়ের করা মামলায় আদালত এই রায় দেন।
তিনি জানান, ওই ভুয়া জামিননামাগুলোতে মোট ৬১ জন আইনজীবীর স্বাক্ষর ছিল। তাদের মধ্যে ১৯ জনকে সাক্ষি করা হলেও বাকি ৪২ জনকে সাক্ষি করা হয়নি।
“এটা তদন্তে গাফিলতি বলে রায় ঘোষণার সময় আদালত উষ্মা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকে রায়ের কপি পাঠানো হয়েছে।”
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমান সময়ে সারা দেশব্যাপি তাদের কর্মতৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। আর যাহোক বর্তমান কমিশনকে ‘নখ-দন্তহীন’ বলা হচ্ছে না। দুদকের দৃশ্যমান কর্মকা- দেশের মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট করেছে। এতে করে আশা দানা বেধে উঠছে যে, বর্তমান কমিশন সত্যিকার অর্থেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। কিন্তু বুধবারের মামলার রায় কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তদন্তে গাফলতির জন্য খোদ আদালতই উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
আমরা পুলিশের তদন্তের গাফলতির কথা জানি কিন্তু সম্ভবত এই প্রথম দুদুক এর কোনো মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফলতির বিষয়টি দেশবাসী জানতে পারলো। অথচ দুদুক একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে তাদের কোনো কর্মকর্তার তদন্তে গাফলতির ঘটনা উদ্বেগের কারণই বটে। এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভুয়া জামিন কেলেঙ্কারির সাথে শুধু কর্মচারীরাই জড়িত ছিলেন, এটা ভাবতেও কষ্ট লাগে। কোনো কোনো আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া ই্ অেপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ তদন্তে দুর্বলতা বা গাফলতির জন্য তারা নেপথ্যেই থেকে গেল। এটা মেনে নেয়া কষ্টকরই বটে।
অবশ্য আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে বলেছেন। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নিশ্চিতভাবে দুদককে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান তৈরিতে সহায়ক হবে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার গাফলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার সাথে সাথে ভুয়া জামিনের মামলাটি পুনরায় বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা যায় কি নাÑ সে ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য দুদুক এর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ