বিচারক সঙ্কটে স্থবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম || বাড়ছে মামলা জট

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস


চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও দেওয়ানি আদালতে বিচারক সঙ্কটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে বিচার কার্যক্রম। নিজ আদালতের বাইরেও আরো একাধিক আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা করতে হচ্ছে বিচারকদের। ফলে একাধিক এজলাসের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিচারকরা। এদিকে বিচারক সঙ্কটের কারণে মামলাজট বাড়ায় বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মাঝেও বাড়ছে হতাশা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ জন বিচারক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে এখানে মাত্র চারজন বিচারক দায়িত্বে রয়েছেন। এই চারজন বিচারক দিয়েই চলছে ৯টি আদালতের বিচারিক কার্যক্রম।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, বর্তমানে চার জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদশূন্য রয়েছে। তবে চলতি মাসেই একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের যোগদান করার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, বিচার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ করা হলেও বিচারক সঙ্কটের কারণে বিচারিক কার্যক্রমে গকিতশীলতা আসছে না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক সঙ্কটের কারণে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পাশাপাশি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও বিচারিক কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদিব আলীকে। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সালাম নিজ আদালতের পাশাপাশি আমলি আদালত ‘ক’ অঞ্চল, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম নিজ আদালতের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ১ম ও ২য়, আমলি আদালত ‘গ’ ও ‘ঘ’ অঞ্চলসহ পাঁচটি আদালতের বিচারিক কাজ পরিচালনা করেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম নিজ আদালতের পাশাপাশি আমলি আদালত ‘খ’ অঞ্চলেরও বিচারিক কাজ পরিচালনা করেন।
এদিকে দেওয়ানি আদালতেও রয়েছে বিচারক সঙ্কট। দীর্ঘদিন ধরে এ আদালতেও বিচারক সঙ্কট বিরাজ করছে। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আদালত (দেওয়ানি) বিচারক শূন্য রয়েছে। গত ৩১ জুলাই সদর আদালতের বিচারক খোরশেদ আলম বদলি হওয়ার পর থেকেই বিচারকশূন্য রয়েছে এ আদালতটি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, গত ২৪ মে থেকে গোমস্তাপুর আদালতের বিচারক নাজমুল হোসেন ছয় মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণের জন্য ছুটিতে রয়েছেন। এরপর থেকেই এ আদালতের কার্যক্রম চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে। বেশ কিছুদিন বিচারকশূন্য থাকার পর ২৪ এপ্রিল ভোলাহাট আদালতে যোগদান করেন সোনালী রানী উপাধ্যায়। বিচারক শূন্য থাকায় শিবগঞ্জ আদালতের দায়িত্বরত বিচারক নাদিরা সুলতানা নিজ আদালতের পাশাপাশি সদর ও গোমস্তাপুর আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা করছেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জানান, বিচারক সঙ্কটের কারণে কোন বিচারক কোন অঞ্চলের ফাইল দেখবেন তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি মামলাজট বাড়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারিক কাজ শেষ হচ্ছে না। এর ফলে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন বিচারপ্রার্থীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ