বিচারপতি অপসারণে এখন প্রক্রিয়া কী?

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৭, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়েও সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করায় এখন উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের কোনো বিষয় এলে কীভাবে তা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সোমবার আপিল বিভাগের রায়ের পর ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম বলেছেন, এখন আগের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কার্যকর ধরে নিতে হবে। একই মত পোষণ করছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদও।
অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, সংসদে বাতিল করা বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হবে বলে তিনি মনে করেন না।
২০১৪ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনের আগে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের বিধান ছিল।
সংবিধান সংশোধন করে সেই ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়ার পর তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন কয়েকজন আইনজীবী। তার রায়ে হাই কোর্ট ওই সংশোধন অবৈধ বলেছিল, সেই রায়ই বহাল রাখল আপিল বিভাগ।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতেই ছিল। বঙ্গবন্ধু আমলে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের পর তা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হয়।
এরপর জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার আমলে সংবিধানে সংশোধন এনে বিচারক অপসারণে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়।
আপিল বিভাগের রায়ের পর ব্যারিস্টার আমীর সাংবাদিকদের বলেন, “ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় আগের অবস্থা অর্থাৎ সুপ্রিম জুডিশিয়াল ব্যবস্থা বলবৎ আছে বলে এখন ধরে নিতে হবে।”
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আমীর সংবিধান প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলায় আপিলের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরিয়া হিসেবে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
মনজিল মোরসেদ বলেন, “সর্বসম্মতিক্রমে আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আইনটি করে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়া হয়েছিল, সেটা বেআইনি, অকার্যকর ও বাতিল হয়ে গেল। সংসদ পঞ্চদশ যে সংশোধনী করেছিল, সেখানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে প্রটেক্ট করা হয়েছিল, সেটাই বহাল থাকল।”
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “আমার মতে যে সংবিধান সংসদ বাতিল করেছে, সেটা আপনা-আপনি পুনর্বহাল হবে না। আমার মতে, এই পরিস্থিতিতে শূন্যতা বিরাজ করছে। সংসদের কাজ তো আর আদালত করতে পারে না।”
আপিলের শুনানিতেও এই বিষয়টিতে একই বক্তব্য দিয়েছিলেন মাহবুবে আলম। তিনি বলেছিলেন, “এখন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা নেই, আইনও নেই। আইন না থাকলেও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি একজন বিচারপতিকে অপসারণ করতে পারেন।”
ষোড়শ সংবিধান সংশোধনের পর অপসারণের প্রক্রিয়া ঠিক করে তৈরি একটি আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিলেও হাই কোর্টের রায়ের পর তা ঝুলে গিয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, “আইন না থাকলেও রাষ্ট্রপতি একজন বিচারপতিকে সরিয়ে দেবেন? কত হাজার বছর পেছনে নিয়ে যাচ্ছেন? বিচার বিভাগকে কী মনে করছেন?”
তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, “এটা আমার অভিমত। আপনারা বিষয়টি রায়ে বলে দিতে পারেন।”
হাই কোর্টের রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ এক্সপাঞ্জ (বাদ দিয়ে) করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ‘সর্বসম্মতভাবে’ খারিজ করার রায় সোমবার ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। পূর্ণাঙ্গ রায় এলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করেন আইনজীবীরা।
রাষ্ট্রপক্ষ এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে কি না- জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সেটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে, সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা জানাব।”
এই রায়ের কারণে কোনো সমস্যা হবে কি না- এ প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “কোনো সমস্যা হবে না। তার কারণ হচ্ছে এটা আগেও চলছিল।
“২০১৪ সালে সংশোধনী আনার আগেও কিন্তু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ছিল, তখন একভাবে চলছিল। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যে ৯৬ নম্বর অনুচ্ছেদ সেটা সংসদ বাতিল করে দিয়েছে, সো এখন যেটা হবে, সেটা ভিন্নতর কিছু একটা হবে।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ