বিচারপতি বজলুর রহমান ছানার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২৪, ১০:৫২ অপরাহ্ণ


সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:


সুপ্রিমকোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য বিচারপতি বজলুর রহমান ছানার মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা স্মৃতি পরিষদ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভার প্রধান আলোচক রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা স্মৃতি পরিষদ উপদেষ্টা স্ইাদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাজনৈতিক আবর্জনা দূর করতে না পারলে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। লুটেরাচক্র আজ দেশকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক আবর্জনাতূল্য লুটেরা দুর্নীতিব্জাদের উচ্ছেদ করতে তরুণ প্রজন্মের সামনে বিচারপতি বজলুর রহমান ছানার আদর্শকে ধারণ করে লুটেরাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ-সম্পাদক আ্যাডভোকেট মো. আসলাম-উদ-দৌলার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য গোলাম সারওয়ার, বিচারপতি বজলুর রহমান ছানার স্নেহমুগ্ধ সাবেক ছাত্রনেতা রাজশাহী বারের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এ্যাডভোকেট সিরাজী শওকত সালেহিন এলেন, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মিন্টু, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি ভাষাসৈনিক হাবিবুর রহমান শেলীর ছোটভাই মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, স্মৃতি পরিষদ সদস্য জেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ-সম্পাদক সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ইয়াসির আরাফাত (সৈকত), স্মৃতি পরিষদ সদস্য ডা. রোকনুজ্জামান রিপন, রাকিবুল হাসান শুভ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ৯৮’ সালের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ লাশ দাফনের জায়গা পাচ্ছিলো না। সেসময় ডেপুটি এনর্টি জেনারেল পদে থাকা বজলার রহমান ছানা তৎকালীন পানিমন্ত্রী কাছ থেকে এক প্রকার জোরজবরদস্তি করে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে দেন। যার সুফল চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ পাচ্ছে। দায়িত্বের প্রশ্নে যেমন শতভাগ ছিলেন, নীতির প্রশ্নেও ছিলেন আপোষহীন। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে রক্ষার করার জন্য তার ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বজলুর রহমান ছানা’১৯৫৫ সালের ১২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের গোয়ালপাড়া মহল্লার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭০ সালে নবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং ১৯৭২ সালে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। মেধাবী ছাত্র বজলুর রহমান ছানা ১৯৭৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে জুরিসপ্রুডেন্স বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৭৭ সালে একই বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে সমাজ বিজ্ঞানে বিভাগ থেকেও তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

তৎকালীন বৃহত্তর রাজশাহী তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা ‘বজলুর রহমান ছানা’ ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তৎকালীন নবাবগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগ ও আশির দশকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৮০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাকসু নির্বাচনে ভি.পি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া রাজশাহী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন।

পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক শাসনামলে ১৯৭৮ ও ১৯৭৯-৮০ সালে বিবর্তনমূলক আটকাদেশে কারাবরণ করেন। ১৯৮৩ সালের বিশেষ সামরিক শাসনামলে সামরিক আদালতে তিনি যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত হন যদিও পরবর্তীতে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।

তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে প্রায় ১৫ বছর ঢাকার ধানমন্ডি ল’কলেজে আইনের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে ঢাকার জজ কোর্ট এবং ১৯৮৭ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোটে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে সহকারী এটর্নি জেনারেল এবং ১৯৯৯ সালে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন। বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে তিনি প্রচুর সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে তিনি মৃত্যু অবধি দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারী তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে।