বিচারাধীন বন্দির সন্তানকে স্তন্যদান নারী পুলিশকর্মীর, কুর্নিশ নেটদুনিয়ার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পেশার কারণে তাঁদের কঠিন হতে হয়। অপরাধী বা তাঁর পরিবারের প্রতি কোনও আবেগ দেখানো সাজে না। কিন্তু, হাজার হোক, তিনি তো একজন নারী। তাই আদালতে এক বিচারাধীন আসামীর শিশুসন্তানকে খিদের জ্বালায় কাঁদতে দেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননি চিনের এক নারী পুলিশ আধিকারিক। আদালতের কক্ষের বাইরে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে স্তন্যদান করলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ঘটনার ছবি পড়েছে গোটা বিশ্বে। নারীা পুলিশের মানবিক আচরণ হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে বহু মানুষের।
ঘটনাটি ঘটেছে শাংজি প্রদেশে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানকার একটি আদালতে মামলার শুনানি চলছিল। আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন এক নারী। আদালতে কক্ষেই ছিল ওই নারীর চারমাসের শিশুসন্তান। আচমকাই খিদের কাঁদতে শুরু করে শিশুটি। বহু চেষ্টা করেও কান্না থামানো যায়নি। এরপরই মায়ের অনুমতি নিয়ে শিশুটিকে আদালত কক্ষের বাইরে নিয়ে গিয়ে স্তন্যদান করেন লিনা হাও নামে চিনের এক নারী পুলিশ আধিকারিক। আদালতে কক্ষের বাইরে এককোণে চেয়ার বসে শিশুটিকে যখন স্তন্যদান করছিলেন লিনা, তখন তাঁর ছবি তোলেন ওই নারী পুলিশ আধিকারিকের এক সহকর্মী। ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও করে দেন তিনি। শেয়ার করে ছবিটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন নেটিজেনরা।
জানা গিয়েছে, সদ্য মা হয়েছেন লিনা হাও নামে ওই চিনা মহিলা পুলিশ আধিকারিক। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে একজন মা। তাই ওই শিশুটির মা কতটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, সেটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। মনে হয়েছিল, শিশুটিকে শান্ত করার জন্য কিছু করা উচিত।’ লিনা হাওয়ের দাবি, তাঁর জায়গায় যদি অন্য কোনও নারী পুলিশ আধিকারিক থাকতেন, তাহলে তিনিও একই কাজ করতেন। জানা গিয়েছে, ওই শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকারও করে নিয়েছেন তিনি। তাঁকে কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছেন বিচারক।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন, কলকাতা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ