বিচ্ছু ভূত

আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সৌর শাইন


…গত সংখ্যার পর।
৪.
বাচ্চা ভূতগুলোকে একটা কাঠের বাক্সে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এ বাক্সটা সেনারা নদীর পাড়ে কুড়িয়ে পেয়েছিল। কৃষকরা সেচ মেশিনের ঢাকনা হিসেবে দিয়ে রেখেছিল এ বাক্সটা। সেটা ওরা কুড়িয়ে এনে বাচ্চা ভূতদের বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে। দুপুরবেলা সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিল, বাচ্চা ভূতগুলো কী ভেবে বাক্সটার একটা তক্তা ধরে টানতে শুরু করে। হঠাৎ বিকট শব্দে তক্তাটা বাক্সের দেয়াল থেকে আলাদা হয়ে যায়। আর বাচ্চা ভূতেরা তাল সামলাতে না পেরে বাক্সের অন্য দেয়ালে ছিঁটকে পড়ে। ব্যথা পেলেও ওরা আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। কারণ বাক্স থেকে বের হবার চমৎকার পথ ওরা পেয়ে গেছে। একজন ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে গেল। একটু পরেই সে ফিরে আসে।
একজন চিকন গলায় ওঠল, কী ব্যাপার ফিরে এলে কেন?
বাইরে একটা সৈন্যকে দেখলাম। হেঁটে হেঁটে এদিকেই আসছে। তাই তো চলে এলাম।
ও, তাহলে তো বিপদ! কাঠের তক্তাটা লাগিয়ে রাখতে হবে। দেখতে পেলে আমাদের রক্ষে নেই।
সবাই বলে ওঠল, হ্যাঁ, তাই তো!
সবাই মিলে বাক্সের তক্তাটা আগের মতো লাগিয়ে রাখল। একজন সৈন্য এসে বাক্সটার আশপাশে পায়চারি করে অন্যদিকে চলে গেল। বাচ্চা ভূতগুলো এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখল। সাবধানে ও ধীরে ধীরে কাঠের তক্তাটা আবার খুলে ফেলল। কয়েকজন নিঃশব্দে পা ফেলে সামনে এগিয়ে গেল। দেখল সদর দরজায় সৈন্যরা ঘুমাচ্ছে, কেউ কেউ হেঁটে বেড়াচ্ছে। কী ভেবে বাচ্চা ভূতগুলো আবার বাক্সের ভেতর ফিরে এল। বাইরের পরিস্থিতি অন্যদেরকে জানাল।
একজন নাকি স্বরে বলল, সৈন্যরা পাহারা দিচ্ছে। এখন বের হলে আমরা ধরা পড়ে যাব।
পাশ থেকে একজন বলল, এতো তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না। বাক্স থেকে বের হবার পথ যখন পেয়েছি এখন আর আমরা বন্দি থাকব না। সুযোগ বুঝে বেরিয়ে যাব।
একটা ছানা মুখে বার বার পটকা ফোটাতে লাগল।
নাকি স্বরের ছানাটা বলল, কি ব্যাপার শুধু পটকা ফুটাচ্ছো কেন? কিছু বল।
পটকা ফুটিয়ে ছানাটা বলল, আমরা এখান থেকে পালিয়ে গেলে বিপদ আরো বাড়বে। আমাদের আবার বাসা থেকে ধরে আনবে। তখন তো উপায় থাকবে না।
এ কথা শুনে সবাই হতাশ হয়ে গেল। মোটা ছানাটা মন খারাপ করে বলল, তাহলে আমরা সারা জীবন এভাবে বন্দি হয়ে থাকব?

৫.
রাজভূতের নির্দেশ অনুযায়ী গোয়েন্দা বিভাগ খোলা হলো। সেখানে নিয়োগ করা হলো অনেক গোয়েন্দা সেনা। রাজভূতের বিশ্বস্ত ভাল ও বুদ্ধিমান একজন সেনাকে করা হলো গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান। নির্দেশ মোতাবেক গোয়েন্দারা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল। চারদিক থেকে নানা তথ্য এনে জানাতে থাকে রাগবিনয় ও রাজভূতকে। একদিন এক গোয়েন্দা সেনা এসে বলল, ভূতসেনাদের মধ্যে সন্দেহজনক বিদ্রোহী গ্রুপ রয়েছে। ওরা আগের রাজভূত সরল সুধার অনুসারী। ওদেরকে চিহ্নিত করা এখন খুব জরুরী।
বিদ্রোহের কথা শুনে রাজভূত ভাবনায় পড়ল। দ্রুত রাগবিনয়কে ডেকে পাঠাল। রাগবিনয় এ কথা শুনে বলল, এ কি কোনো ভাবনায় বিষয়? ঐ হতচ্ছাড়াদের একটা কৌশলে ধরতে হবে।
রাগবিনয় রাজভূতকে কিছু পরামর্শ দিল। রাগবিনয়ের পরামর্শ অনুযায়ী রাজভূত কিছু গোয়েন্দা সেনাকে অতি গোপনে ভূতসেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিল। অন্যদিকে কিছু বিশ্বস্ত সেনাকে গোয়েন্দা বাহিনীতে রদ বদল করল। তারপর শুরু হলো বিদ্রোহীদের চিহ্নিতকরণ অভিযান।
রাগবিনয়ের বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে রাজভূত তার মসনদকে সত্যিই মজবুত করে নিলো। সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহী সেনাদের একে একে খুঁজে বের করা হলো। হঠাৎ একদিন ঝটিকা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে পাঠানো হলো কারাগারে। কয়েদিদের সংখ্যা একজন বা দুজন নয়। এবার রাজভূত ভাবতে লাগল বিদ্রোহীদের বিচারকার্য নিয়ে। এবারও সেই রাগবিনয়কে ডাকা হলো। রাগবিনয় কূট হাসি হেসে বলল, বন্ধু ভূতপতি মশায়, এ কাজটা তুমি নিজেই করো। সব কাজে আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না।
এ কথা শুনে রাজভূতের মনে একটু অভিমান হলো। সম্মানেও কিছুটা ঘা লাগল। সিদ্ধান্ত নিলো বিচারকার্যটা নিজেই করবে। ভেবে দেখল, বিদ্রোহী সেনাদের বাঁচিয়ে রাখা মানে বিপদের সম্মূখীন হওয়া। কারাগারে বন্দি করে রাখলে ওরা এক সময় বেরিয়ে যেতে পারে। তারপর কী ঘটতে পারে তা একবার ভেবে নিলো রাজভূত।
কারাগারের ভেতরেই বিচার সভা ডাকা হলো। বিদ্রোহীদের কোন প্রকার জবানবন্দি নেয়া হলো না। তাদেরকে কথা বলারও সুযোগ দিল না। গোয়েন্দা সেনারা একে একে অভিযোগ পড়ে শোনাল। অভিযোগ শুনে রাজভূত রাগে গর্জে ওঠল। কী? আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র! আনুগত্য স্বীকারে অস্বীকার!
সে সময় অভিযুক্তরা চিৎকার করে উঠল। বলল, আমরা নির্দোষ! সব রাগবিনয়ের ষড়যন্ত্র!
রাজভূত আরো ক্ষেপে গেল। সভা কাঁপিয়ে চিৎকার করে ওঠল। কি আমার বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিস? যত সব দুষ্টের দল।
ওরা আবারো বলল, আমরা নির্দোষ, গোয়েন্দারা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে।
কিন্তু কে শুনে কার কথা? রাজভূতের রায়ই সবকিছুর মূল। সকল বিদ্রোহীদের মৃত্যুদ- ঘোষণা করে সভা শেষ হলো।
কিছুদিন পর একরাতে গোপনে বিদ্রোহীদের সাজা কার্যকর করা হলো। রাজ্যে বহু ভূতপরিবারে হাহাকার পড়ে গেল। শোকে স্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশ। সবার মনে এক ভয়াবহ আতঙ্ক দানা বাঁধল। ভুল করেও কেউ রাজভূতের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না।

৬.
রাগবিনয়ের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন রকম। সে ভেবেছিল রাজভূত এতোগুলো সেনাকে মৃত্যুদ- দেবে না। বরং ওদের কারাগারে পাঠাবে। অনির্দিষ্ট কালের জন্য সাজা দেবে। তখন নির্দোষ বন্দি সেনাদের মনে দানা বাঁধতে থাকবে চরম ক্ষোভ। আর রাগবিনয়ের ইচ্ছে ছিল সে ক্ষোভকে চূড়ান্তভাবে কাজে লাগান। তার ফন্দি রাজভূতের সিংহাসন দখল করা। ছক এঁকেছিল কারাগারের ভেতর বন্দি সেনাদের ক্ষোভকে উসকে দিবে। একসময় গোপনে তাদের মুক্ত করে,  সে সেনাদের দিয়ে ভূতরাজকে করবে বন্দি। আর এ সুযোগে রাগবিনয় নিজেকে রাজভূত ঘোষণা করবে।
রাজভূতের বিচার সিদ্ধান্তে রাগবিনয়ের ফন্দিতে গুঁড়ে বালি। সকল পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। প্রথমে সে একটু ভড়কে গিয়েছিল। ভেতরে ভেতরে ভয়ও পাচ্ছিল। ভেবে দেখল, রাজভূতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। ধরা পড়লে ওর দশাও সৈন্যদের মতো হবে। মনে মনে একটা প্রশ্ন আঁওড়াতে লাগল, কথায় কথায় যে ভূতরাজ মৃত্যুদ- দিতে পারে, তার কাছে কি রাগবিনয় নিরাপদ?
দ্বিধাদ্বন্দ্বটা রাগবিনয়ের মধ্যে চরম আকার ধারণ করল।
এক সন্ধ্যায় কী ভেবে রাগবিনয় রাজভূতের কাছে গিয়ে হাজির হলো। তাকে দেখেই রাজভূত স্বভাব সুলভ বাঁকা হাসি দিলো। কিন্তু আজকের হাসিটা বিশ্রী বাঁকা! এ হাসিটা অর্থ কী তাই খুঁজতে লাগলো রাগবিনয়।
কী ব্যাপার? কী মনে করে?
এসেছি আপনার সাথে সাক্ষাত করতে।
আজ হঠাৎ আপনি সম্বোধন কেন?
ভূতরাজ মহোদয়কে আপনি বলে ডাকাই ভাল।
সে তোমার যা মনে ধরে, আচ্ছা বিচারকার্য কেমন হলো বলো তো শুনি।
রাগবিনয় বাঁকা হাসির ভয় থেকে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, বেশ হয়েছে, বেশ হয়েছে।
সব সময় তো নির্ভরশীল হতে পারি না। কী বল?
হ্যাঁ… আপনারও দক্ষতা তৈরি হওয়া চাই।
কিছু সময় পর রাগবিনয় বলল, একটি বিশেষ আবেদন ছিল আপনার প্রতি।
কী বলতে চাও, বলে ফেলো।
কিছুদিনের জন্য বিদেশ ভ্রমণে যেতে চাই। অনুমতি পেলে খুশি হবো।
রাজভূত গম্ভীর হয়ে বলল, হঠাৎ তোমার এ ইচ্ছা জাগলো কেনো?
ইচ্ছের তো কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। ভ্রমণের জন্য মন টানছে তাই বলছি।
রাজভূত স্বর নরম করে বলল, তোমার বিদেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করা হলো। তবে সেটা এখন নয়। সময় হলে তুমি সুযোগ পাবে। রাজ্যের সমস্যাগুলোর দিকে আপাতত নজর দাও। তোমাকে পাশে পেলে আমি কিছুটা স্বস্তি বোধ করি।
রাজভূতের কথা শুনে রাগবিনয় সন্দেহের দুশ্চিন্তা থেকে হালকা হলো। মনে মনে খুবই খুশি। তার সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হলো। এক মুহুর্তে হারিয়ে গেল ভয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের ভাবনা। খোশ মেজাজে সে ভূতভবন থেকে নদীর পাড়ে ঘুরতে বের হলো।
সারারাত নদীর পাড়ে হেঁটে বেড়াল রাগবিনয়। আবার নতুন করে সাজাতে লাগল ভাবনাগুলোকে। মুষড়ে পড়া রাগবিনয় রাজভূত হবার স্বপ্নকে নিজের মন থেকে তাড়াতে লাগাল। ভেবে দেখল, ভূতরাজের অনুগত হয়ে থাকাই অনেক ভাল। রাগবিনয় একা একা কথা বলতে লাগল নিজের সাথে।
রাজভূত হবার স্বপ্ন কি তুমি ভুলে যাবে?
না, জানি না….তবে ভালভাবে বেঁচে থাকাই আমার বড় লক্ষ্য।
তুমি ভূতরাজের বিরুদ্ধে নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করবে না?
না, এ মুহুর্ত থেকে আমি সতর্ক ও পরিশুদ্ধ হতে চাই। রাজভূতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আমার দ্বারা আর সম্ভব নয়। শুধু শুধু নিজের প্রাণটা কেন হারাব?
হা হা হা….তুমি তাহলে হেরে গেলে?
হ্যাঁ, আপাতত হেরে গেলাম। তবে মরে যাইনি। বেঁচে থাকার সুখই অন্যরকম।
রাগবিনয় নিজেকে পরিপূর্ণভাবে রাজভূতের অনুসারী মেনে নিয়ে ভূতভবনে রওনা দিলো।

৭.
বাক্সের ভেতর থেকে ভূতের ছানারা সুযোগ পেলেই বাইরে ছুটে যায়। সৈন্যদের কড়া চোখও ওদের চালাকির কাছে হার মানে। কারাগারের মূল ফটকে এসে ওরা সেনাদের অবস্থান দেখে নেয়। সুযোগ বুঝে বাইরে বেরিয়ে পড়ে। সামনের খোলা মাঠ পেরিয়ে ঝোপের পাশে গিয়ে ইচিংবিচিং খেলে। সেনাদের ফাঁকি দিয়ে কখনো কখনো ওরা পৌঁছে যায় মা-বাবার কাছে। ওদের দেখে চমকে যায় বাবা-মা। ছানাদের কাছে সবকথা জানতে পেরে আবার আশঙ্কায় কেঁপে ওঠে। বলে, সর্বনাশ, পালিয়ে এসেছিস? ফিরে গেলে তো আরো বিপদ!
ছানারা মা-বাবাকে অভয় দেয়। বলে, ভয় পেও না। সেনারা আমাদের ধরতে পারবে না। আমাদের কাছে চালাকির ফাঁদ আছে।
ছানাদের কথা শুনে মা-বাবারা দুখের মাঝেও হাসে। আপনজনদের সাথে সাক্ষাত করে আবার ওরা সময় থাকতেই কারাগারে ফিরে আসে। ওরা খুব সাবধানে চলাফেরা করে। কারণ, কে জানে কখন কোন সেনার চোখে ধরা পড়ে যায়।
কিছুদিন ধরে ভূত ছানারা মুখে মুখে নতুন একটি গান তৈরি করেছে। ওরা গানটির নাম দিয়েছে বিচ্ছু ভূতের গান। পটকা পটু ছানাটা সারাক্ষণই গানটা গাইতে থাকে:
বিচ্ছু ভূত…বিচ্ছু ভূত…তা না না না…না
আমরা সবাই ভূতের ছানা….তা না না না…না
রাজভূতের কারাগারে আমাদের আস্তানা….তা না না না….না
সেদিন বিকেলে তিনটি ভূতের ছানা কারাগার থেকে চুপি চুপি বেরিয়ে পড়ল। মাঠ পেরিয়ে ওরা হাঁটতে হাঁটতে নদীর পাড়ে বটগাছের নিচে এসে থামল। ফিস ফিস করে ডাকতে লাগল বাবা-মাকে। ষিংকুভূত ও ঋতপা দুই ছেলেকে দেখে তো মহাখুশি। র¤পু ভূতের মেয়েকেও ওরা আদর করল। ছানাদের কাছ মা-বাবারা সেনাদের কাজ কর্ম ও কারাগারের অবস্থা জানল। বটগাছ থেকে ছানারা শেওড়া গাছে র¤পু ভূতের বাসায় গেল। শ্যাঁঞ্চু মেয়েকে দেখে তো আনন্দে আটখানা। কত দিন পর জড়িয়ে ধরে আদর করল। র¤পু ভূত সবাইকে আদর করে বলল, তোমরা ভেবো না এ ভূতরাজের একটা অঘটন আমি
ঘটাবোই। তারপর কারাগার থেকে সবাইকে মুক্ত করে দেবো। ছানার চুপি চুপি বলল, আস্তে বলুন। গোয়েন্দা সেনারা শুনে ফেলতে পারে।
র¤পু ভূত গলার স্বর নিচু করে বলল, হ্যাঁ, ঠিকই তো।
অনেক কথা শেষে ভূত ছানারা বিদায় নিলো। র¤পু ভূতের বাসা থেকে সোজা কারাগারে ফিরে যাবার পথ ধরল। তিনজনই নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে এগিয়ে চলছে। হঠাৎ ওরা সেনাদের কুচকাওয়াজের শব্দ শুনলো। মনে হচ্ছে খুব কাছাকাছি কোথাও টহল চলছে। একটা বিপদের গন্ধ চারপাশ জুড়ে। ছানারা খুব ভয় পেয়ে গেল। এখন কী হবে? সেনাদের চোখে ধরা পড়া মানে তো ভয়ংকর কিছু। কী করবে তাই ভাবছে ওরা?
ভাবনা বেশি দূর এগোল না। ঐ তো এ পথেই আসছে ওরা। ছানারা একবার ভাবল পাশের তাল গাছে ওঠে বসে থাকবে। কিন্তু এতো বড় গাছে ওঠা সম্ভব না। এদিকে সেনারা এগিয়েই আসছে। তালগাছের আড়ালে ওরা আশ্রয় নিলো।
টহলরত সেনারা প্রজা ভূতদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলছে, বলো জয়… ভূতরাজের… জয়। কিছুটা কাছাকাছি আসতেই এক সেনার চোখ পড়ল তালগাছের গোড়ার দিকে। মনে হচ্ছে কেউ বসে আছে। দূর থেকে ভাল দেখা যাচ্ছে না। ভাবল কোন ভীতু প্রজা হয়তো লুকিয়ে আছে। ভীতুটাকে নিয়ে আজ খুব মজা করা যাবে। সেনাটা এসব ভাবতে ভাবতে তালগাছের দিকে এগিয়ে আসছে। ভূত ছানারা কি ধরা পড়ে যাবে এ দুষ্ট সেনাটার হাতে? তিনটি ছানা ভয়ে জড়সড়! থর থর করে কাঁপছে।
হঠাৎ নদীর পানিতে ঝুপ করে শব্দ হল। সেনাটা কাছে এসে দেখল তালগাছের পাশে কেউ নেই।
চলবে…