বিছানায় শুয়ে ১৮ বছর || তবুও জীবন জয়ের চেষ্টা নাজিবুরের

আপডেট: মে ৮, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

ইমরান হোসাইন, তানোর


জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। স্বাভাবিক অন্য শিশুদের থেকে হাত-পা চিকন এবং বাঁকানো। দাঁড়ানো তো দূরের কথা উঠে বসতেও পারেন না তিনি। খাবারও খাওয়াতে হয় তুলে। একদিন, একমাস, একবছর করে ১৮ বছর শুয়ে কাটছে নাজিবুর রহমানের জীবন। প্রতিবন্ধী বলে স্কুলের বারান্দায় পা দেয়া হয় নি তার। তবু জীবন জয়ের চেষ্টা থেমে নেই নাজিবুরের।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নাজিবুল রহমান। তিনি এখন পরিবারের কাছে বোঝা নন। বিছানায় শুয়েই পরিবারের জন্য আয় করেন তিনি। পাঁচ বছর ধরে ফ্ল্যাক্সি লোড, বিকাশ ও ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকের এজেন্ট নিয়ে গ্রাহক সুবিধা দেয়া শুরু করেছিলেন তিনি।
প্রতিবন্ধী নাজিবুরের বাবা আবুল কাশেম জানান, জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী তার ছেলে নাজিবুল। ২০১৩ সালে তার বয়স যখন ১৩ বছর তখন গ্রামের অন্য ছেলের হাতে মুঠো ফোন দেখে সেও মোবাইল নেয়ার জন্য বায়না ধরে। তার অভাবী সংসার। নিজেরই মোবাইল ফোন নেই। তাকে কি করে ফোন কিনে দেবেন। এ দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। কিন্তু মোবাইল নেবেনই নাজিবুল। এজন্য সে দুই দিন না খেয়েও ছিল। অবশেষে ছেলের বায়নার কাছে বাধ্য হয়ে অল্পদামের মোবাইল ফোন কিনে দেন তিনি।
তিনি আরো জানান, মোবাইল নেওয়ার পর অল্পদিনের মধ্যে নাজিবুর মোবাইলে দক্ষ হয়ে উঠে। এরপর নাজিবুল মোবাইলের রিচার্জের ব্যবসা করতে চাই। তার আগ্রহ দেখে গ্রামের একজন আত্মীয়র কাছে দুই হাজার টাকা ধার নিয়ে মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা শুরু করে নাজিবুল।
আমরা গরীব মানুষ। দুই শতক জমির উপরে বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। ভালো দোকান করতে অনেক টাকা দরকার। তাই কোন রকম কলমা বাজারে ছোট একটি পানের দোকান দিয়ে সংসার চালাই। নাজিবুরের যদি একটু বেশি পুঁজি থাকতো তাহলে সে ভালোভাবে ব্যবসাটা করতে পারতো।
নাজিবুরের মা ঝর্না বেগম জানান, জন্মের পর থেকে নাজিবুরকে আমি দেখাশুনা করে আসছি। আমি কখনও তাকে বোঝা মনে করি নি। মোবাইলে রিচার্জ ব্যবসা শুরু থেকে প্রতিদিন সকালে বাড়ি বাইরে বারান্দায় শুয়ে রেখে আসি। সে সারাদিন থাকে। গ্রামের লোকজন তার কাছে মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশে আদান-প্রদান করে। এ ব্যবসার জন্য সামান্য আর্থিক সহযোগিতা পেলে সে আরো ভালোভাবে নিজের ব্যবসাটা গুছিয়ে নিতে পারতো।
জানতে চাইলে প্রতিবন্ধী নাজিবুর বলেন, আমি নিজে আয় করতে চাই। বাবা-মার হাতে কিছু টাকা তুলে দিতে চাই। আমি সেই চেষ্টায় করে আসছি।