বিজ্ঞানী কুদরত-ই-খুদার জন্মদিন আজ

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২২, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বিজ্ঞানী কুদরত-ই-খুদার জন্মদিন আজ।
এই সাহসী মানুষটির জন্ম হয়েছিল ১৯০০ সালের ১ ডিসেম্বর, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মাড়গ্রামে।
মুসলমান ছেলেদের পড়াশোনা করাটা এতটাও সহজ ছিল না। কুদরত-ই-খুদাকেও সংগ্রাম করতে হয়েছে পড়াশোনা করার জন্য। সব পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করার পরও তাকে প্রেসিডেন্সি কলেজে খানিকটা জোর করেই দ্বিতীয় স্থান দেওয়া হচ্ছিল। তিনি তখন শিক্ষক পি.সি. রায়ের সাহায্য নিয়ে প্রতিবাদ করেন। শেষমেশ কলেজ কতৃপক্ষ প্রথম স্থানটি তাকেই দিতে বাধ্য হয়।
এরপর প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি নিয়ে ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে রসায়নে এমএসসি করে চলে যান লন্ডনে, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে, উচ্চতর গবেষণার জন্য। সেখানে পিএইচডি করতে গিয়েও অনেক সমস্যায় পড়তে হয় কুদরত-ই-খুদাকে। কিন্তু সবসময় প্রথম সারিতে নিজের জায়গা বানিয়ে নিতে সব বাধাই এক এক করে পার হন তিনি।
এত এত পড়াশোনার পরও, কখনও এক চাকরিতে বেশি দিন থাকার সৌভাগ্য এই বিজ্ঞানীর হয়নি।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। তার তত্ত্বাবধায়নে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তৈরি হয় প্রথম শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট। কমিশনটি পরিচিত তার নামেই। রিপোর্টটির নামও তাই ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি প্রতিষ্ঠা হলে, তিনি নির্বাচিত হন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে।
বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি প্রথমদিকে কাজ করেছিলেন স্টেরিও কেমিস্ট্রি নিয়ে। পরে কাজ করেন জৈব রসায়ন নিয়ে। বিশেষত ওষধি ফলমূল, পাট, লবণ, খনিজ পদার্থ, কাঠকয়লা, মাটি প্রভৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন তিনি।
কুদরত-ই-খুদা ও তার সহযোগীদের নামে মোটমাট ১৮টি প্যাটেন্ট আছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত পাটকাঠি থেকে পারটেক্স তৈরির কৌশল উদ্ভাবন। তার অন্যান্য উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাটকাঠি থেকে রেয়ন ও কাগজ তৈরি, আখ ও গুড়ের রস দিয়ে মল্ট ভিনেগার তৈরি প্রভৃতি।
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে। আর ১৯৮৪ সালে প্রদান করে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিও প্রদান করে।
তিনি বাংলায় বিজ্ঞানবিষয়ক অনেকগুলো বইও লিখেছেন। এর কয়েকটি আবার ছোটদের জন্য। বইগুলো হল- ‘বিজ্ঞানের সরস কাহিনী’, ‘বিজ্ঞানের বিচিত্র কাহিনী’, ‘বিজ্ঞানের সূচনা’, ‘জৈব রসায়ন (৪ খ-)’, ‘পূর্ব-পাকিস্তানের শিল্প সম্ভাবনা ‘, ‘পরমাণু পরিচিতি’, ‘বিজ্ঞানের পহেলা কথা’, ‘যুদ্ধোত্তর বাংলার কৃষি ও শিল্প’ এবং ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’।
এছাড়াও তার পৃষ্ঠপোষণায় দুটো বিজ্ঞান সাময়িকীও প্রকাশিত হত-‘পুরোগামী বিজ্ঞান’ ও ‘বিজ্ঞানের জয়যাত্রা’।
১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর মারা যান আমাদের দেশের কৃতী এই বিজ্ঞানী।