বিজয়ের মাসে ওয়ানডে সিরিজ জয় অভিনন্দন ক্রিকেটারদের

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২২, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ডিসেম্বর মাস। বিজয়ের মাস। আর এই বিজয়ের মাসে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসালেন মিরাজ, মুস্তাফিজ -সাকিবরা। ২০১৫ সালের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি ফেরানো গেলো সাত বছর পর হওয়া ওয়ানডে সিরিজেও। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রোহিত শর্মার ভারতকে ৫ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ২৭২ রানের লক্ষ্যে ভারত ৯ উইকেটে করতে পেরেছে ২৬৬ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ, সম্ভবত গত তিন-চারদিনে বাংলাদেশের ক্রিকেটপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত নাম। আর এমনটা হবে না-ই বা কেন! ভারতের বিপক্ষে গত দুই ম্যাচে কী করেননি ডানহাতি এ অলরাউন্ডার। দলের বিপদের সময় ব্যাট হাতে খেলেছেন ম্যাচজয়ী সব ইনিংস। আবার বল হাতেও প্রয়োজনের সময় এনে দিয়েছেন উইকেট। আর ২৫ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ক্রিকেট হাসলে বাংলাদেশ হাসে। সিরিজ জয় বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক অনুপ্রেরণার হতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস। ভারতের সঙ্গে খেলতে গেলেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা একটু যেন মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। দুই ম্যাচেই খাদের কিনার থেকে বাংলাদেশকে তুলে এনে মিরাজ আর মুস্তাফিজ এই যে একটা যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা মনস্তাত্ত্বিক সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এই দৃষ্টান্ত অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
শেষে একটা ছোট্ট কথা বলি। ফুটবল এবং অবশ্যই ক্রিকেটের ব্যাপারে আমাদের একটা গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুঃখ করে বলেছেন, এই যে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে, আমি খুব মনোযোগ দিয়ে বিভিন্ন দেশের খেলা দেখি। খুব আফসোস হয় আমাদের বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেই। আগামীতে আমি আমাদের ফুটবলকে বিশ্বকাপে দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই আবেগমাখা স্বপ্ন সবার হৃদয় ছুঁয়েছে। পৃথিবীর অনেক ছোট দেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিয়েছে। তাহলে বাংলাদেশ পারবে না কেন? আমরা আর কতদিন বিশ্বকাপ ফুটবলের শুধু দর্শক হয়ে থাকবো? আশা করি দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের জন্য আমাদের ফুটবলকে সাজাবেন। বাকি থাকলো ক্রিকেট। ফুটবল থেকে অনেক এগিয়ে আছে ক্রিকেট। তবে মাঝে মাঝে ছন্দপতনও ঘটছে ক্রিকেটের। এক্ষেত্রেও কার্যকর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা জরুরি। ক্রিকেট বোর্ড নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে তৎপর। আমরা চাই মিরাজের এই দৃষ্টান্ত ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলের ক্ষেত্রেও একটা নয়া জাগরণ তুলুক। জাগরণের স্লোগান হোক-হ্যাঁ আমরাও পারি… ক্রিকেটের জয় হোক। অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। বর্তমানে ফুটবল বিশ^কাপের জোয়ারে ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে খুশির বন্যায় ভাসালেন আমাদের বাংলার টাইগাররা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ