বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

বিজয়ের মাসে তারুণ্যের ভাবনা

আপডেট: December 7, 2019, 1:41 am

চলছে মহান বিজয়ের মাস। দীর্ঘ ৯ মাস বাংলার দামাল ছেলেরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে এই দেশকে পুনরুদ্ধার করেছে। দু’লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানিসহ ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের এই বাংলাদেশ। নয় মাস এই মুক্তিযুদ্ধের তরুণদের ভূমিকা ছিল অসামান্য। শুধু তাই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে জাতির সংকটকালে তারুণ্যের ভূমিকা সবসময়ই প্রশংসনীয়। সম্ভাবনাময় এই বাংলাদেশের আগামীর নেতৃত্বে আসবে আজকের তরুণরাই। বিজয়ের মাসে কী ভাবছেন তরুণরা? কয়েকজন বিশ^বিদ্যালয় পড়–য়া তরুণের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন দৈনিক সোনার দেশের রাবি প্রতিবেদক ওয়াসিফ রিয়াদ।


দেশ ও জাতির কল্যাণে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে
কাজী জহির, ফোকলোর বিভাগ
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে এদিনটি আমাদের জন্য গৌরবোজ্জ্বল দিন। এদেশবাসী মুক্তি লাভ করে দীর্ঘদিনের পরাধীনতার বেড়াজাল থেকে। এ বিজয়ের পিছনে আছে অনেক রক্তিম ইতিহাস। আছে ত্যাগ, তিতিক্ষার ও স্বেচ্ছায় জীবন উৎসর্গের সাধনা। একের পর এক যখন নির্যাতন, নিপীড়ন, বৈষম্য, শোষণ বাড়তে লাগতো তখনই পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়তে বাধ্য হলো পূর্ব বাংলার জনগণ। যখনই দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তখনই ন্যায্য অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লো এদেশবাসী। আজ বিজয়ের ৪৯ তম দিবসে এসে আমরা একটি স্বাধীন দেশের জনগণ হিসেবে কতটুকু স্বাধীনতা পাচ্ছি? যে লক্ষ্যে লক্ষ লক্ষ লোক জীবন দিলো সে লক্ষ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে? যে বৈষম্যের জন্য স্বাধীনতা অনিবার্য ছিলো সে বৈষম্য কতটুকু দূরীভুত হলো? যে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য পূর্ববাংলার সকলে একত্রিত হলো এবং সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়লো সে গণতন্ত্র আর রাজনৈতিক অধিকার কতটুকু কায়েম হয়েছে? একজন তরুণ এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে এসব বিষয় ভাবতে বাধ্য হই। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন- এখনো আমরা মুক্তির অপেক্ষায় আছি। সত্যিকারে এদেশের মানুষ কবে স্বাধীন হবে? কবে বৈষম্য হ্রাস পাবে? দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। যুদ্ধের সময় তরুণেরাই রুঁখে দাঁড়িয়েছিলো পাক-বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে। তাই আজকের তরুণ প্রজন্মের উপর নির্ভর করছে আগামীর সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।

দেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য কাজ করতে হবে
জেবা ফারিয়া দোলা, এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগ
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। দেশমাতার টানে ১৯৭১ সালে দামাল ছেলেরা নিজেদের রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা। তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদারদের শোষণ থেকে মুক্তি পেলেও এখনো কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা অর্জিত হয় নি। হত্যা, রাহাজানি, খুন, ধর্ষণ, বর্বরতায় ডুবে আছে দেশ, দেশের মানুষ। সোনার বাংলাকে মর্যাদার সাথে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি এসকল অন্যায় অপকর্ম দমন করতে হবে। এজন্য তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে, শক্ত হাতে হাল ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, সকল অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াঁতে হবে, কঠোরভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। নৈতিকতা, মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে তাদের মধ্যে ’৭১এর চেতনা জাগ্রত করতে হবে। সর্বোপরি দেশের সর্বস্তরের নবীন প্রবীণ সকলে একত্রিত হয়ে দেশকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সকলের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে হবে। দেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলেই নিঃস্বার্থভাবে দেশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা সম্ভব।

আমরা স্বাধীন হয়েও স্বাধীনতা পাইনি
কাজী লিংকন, মার্কেটিং বিভাগ
গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমূদ্রসম রক্তের বিনিময়ে আমাদের জন্মভূমি আজ স্বাধীন, সার্বভৌম। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এখনো আমরা পুরোপুরি সক্ষম হইনি। এখন বহিশত্রু থেকেও দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, মাদক দেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। আমরা স্বাধীন হয়েও স্বাধীনতা পাইনি। এই বিজয়ের মাসে আমাদের তরুণ প্রজন্মের গুরু দায়িত্ব হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে আমাদের দেশাত্মবোধ কে জাগ্রত করা এবং দেশের উন্নয়নের অন্তরায়গুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করা।
আজকের তরুণরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি, তাই তরুণ প্রজন্মকে আগামী দিনের সোনার বাংলা গঠনের জন্য দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে হবে।

তরুণের দ্বারা যেন দেশের বিন্দুমাত্র ক্ষতি না হয়
সাজ্জাত হোসেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
বিজয়ের আগামী প্রহর পর্যন্ত কোনো তরুণের দ্বারা যেন দেশের বিন্দুমাত্র ক্ষতি না হয়, এই বিজয়ের মাসে প্রতিটি তরুণের শপথ হোক এটা। শুধু আগামী প্রহর কেন আজন্ম দেশের ক্ষতি না করে দেশের উন্নয়নের ভ্যানগার্ড হয়ে কেটে যাক প্রতিটি তরুণের জীবন। স্বাধীনতার লাল সূর্যটি অর্জনের জন্য আমাদের যে আত্মত্যাগ তার নিদর্শন হলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বিজয়ের মাসে এদেশের তরুণ সমাজের ব্যক্তিস্বার্থ পদদলিত করে বিজয় অর্জনকারী বীরসেনানীদের মত ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে দেশ, জাতির জন্য আত্মবিসর্জনে সদা-সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের প্রত্যেকটা তরুণকে পিছিয়ে পড়া গ্রাম থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত প্রতিটি জায়গাকে আপন সত্তার আত্মিক বন্ধনে বেধে দেশের অগ্রযাত্রার সারথি হয়ে প্রাণপণে কাজ করে যাওয়া উচিত। তরুণ সমাজকে সচেতন হতে হবে- কারণ তরুণরাই দেশ জাতি তথা সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র ক্ষমতা। মাদক, দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয় ইত্যাদি নিজে পরিহার করে অন্যদের উৎসাহিত করা বিজয়ের মাসে প্রতিটি তরুণের স্ব-স্ব দায়িত্ব হওয়া উচিত। আধুনিক শিক্ষা, ধর্ম, রাজনৈতিক অঙ্গন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রতিটি সচেতন তরুণের দায়িত্ব। বিশ্বের বুকে বিজয়ের মাসে অর্জিত স্বাধীনতার মাধ্যমে আমরা যে বাঙালি হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছি তার পবিত্র আমানত রক্ষা করা আমাদের তরুণদের নাগরিক দায়িত্ব। পৃথিবীর বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে আমরা যেন মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারি এজন্য আমাদের মত তরুণদের বিকল্প নাই। বিজয়ের মাসে উন্নয়নকামী রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের পরিচালনার যোগ্য কা-ারি বেছে নিয়ে উন্নয়নের যাত্রার সারথি হয়ে কাজ করার জন্য প্রতিটি তরুণের প্রতি আমার আহ্বান রইলো। বিজয়ের মাসে বাঙালির প্রতি রইলো বিজয়ের শুভেচ্ছা।

দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে
জান্নাতুস সামানিয়া, লোক প্রশাসন বিভাগ
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। বাংলার দামাল ছেলেরা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ছিনিয়ে এনেছিলো এদেশের স্বাধীনতার সূর্য। শহিদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা এ স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করাই বেশি কঠিন। দক্ষ প্রশাসনই পারে দেশের মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ফাসাদ দূর করে তাদের একতাবদ্ধ করে স্বাধীনতা রক্ষা করতে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও দেখা যাচ্ছে দেশে চুরি, ডাকাতি, প্রকাশ্যে খুন, গুম, ধর্ষণসহ সড়ক দুর্ঘটনার প্রকোপ বেড়েই চলছে। এসব আসামীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে। খুন, গুম, ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে কার্যকরি আইন প্রণয়ন করতে হবে। দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আর দেশে সু-শাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রশাসনকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ