বিজয়োৎসবে যোগ দেবে চার দেশ, প্যারেড স্কয়ারে হবে কুচকাওয়াজ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

২০১৯ সালের বিজয় দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনীর দর্শনীয় ফ্লাই-পোস্ট এবং অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ছবি-পিআইডি

সোনার দেশ ডেস্ক:


করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি সামলে ওঠার প্রেক্ষাপটে এবার ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন করতে চায় সরকার। সেজন্য নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পরিকল্পনা। এবার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হবে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণিল কুচকাওয়াজ। বিজয় উৎসবে যোগ দেবে ভারত, রাশিয়া, মেক্সিকো ও ভুটান।
সম্প্রতি বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

ভারত, রাশিয়া, মেক্সিকো এবং ভুটানকে বিজয় দিবসের উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা কুচকাওয়াজে যোগ দেবে
করোনার কারণে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজ বাতিল করা হয়েছিল। অন্যান্য অনুষ্ঠানও ছিল সংক্ষিপ্ত। সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এবার মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের যান্ত্রিক বহরের প্রদর্শনী হবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আশা করছি, ইনশাআল্লাহ এবার স্বাভাবিকভাবেই বিজয় দিবস উদযাপন করতে পারবো। সেই অনুযায়ী অনুষ্ঠানসূচি নেওয়া হচ্ছে। বিজয় দিবস জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। এবার প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ হবে, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ভারত, রাশিয়া, মেক্সিকো এবং ভুটানকে বিজয় দিবসের উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা কুচকাওয়াজে যোগ দেবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে বিজয় দিবসের কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে ওই সভায়। আরও একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে। তখন বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হবে।

প্রতিবছর যেভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করেছি, এবারও সেই আঙ্গিকেই হবে। তবে কলেবরটা একটু ভিন্ন হবে। বঙ্গবন্ধুর জনশতবার্ষিকী উদযাপন এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এ বছর আমাদের চেষ্টা থাকবে যে, এ অনুষ্ঠানকে যত বেশি বর্ণাঢ্য ও মনোমুগ্ধকর করা যায়।

ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিবের নেতৃত্বে বিজয় দিবস উদযাপন স্টিয়ারিং কমিটি, সেনাবাহিনীর সাভারের ৯ পদাতিক ডিভিশন জিওসিকে (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) আহ্বায়ক করে জাতীয় স্মৃতিসৌধে সশস্ত্র অভিবাদন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ কমিটি, ৯ পদাতিক ডিভিশন জিওসিকে আহ্বায়ক করে সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ ব্যবস্থাপনা কমিটি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে আলোচনা ও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ সংক্রান্ত উপ-কমিটি, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকে প্রধান করে নিরাপত্তা ট্রাফিক ও পুলিশের ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটি, যান্ত্রিক বহর প্রদর্শন সংক্রান্ত মূল্যায়ন ও স্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত উপ-কমিটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন) নেতৃত্বে আমন্ত্রণ ও সংবর্ধনা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, এবার তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সকাল সাড়ে ১০টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি এবং কারারক্ষীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ হবে। একই সঙ্গে হবে বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাই-পাস্ট ও অ্যারোবেটিক এয়ার শো। থাকবে উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে রজ্জু বেয়ে অবতরণ, প্যারাসুট জাম্পও।
রাষ্ট্রপতি চলন্ত যান্ত্রিক সামরিক কন্টিনজেন্টের সালাম গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, মহান বিজয় দিবসের অন্যতম আকর্ষণ এবং শিক্ষণীয় কর্মসূচি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ।

এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি বলেন, প্রতি বছর যেভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করেছি, এবারও সেই আঙ্গিকেই হবে। কলেবরটা একটু ভিন্ন হবে। বঙ্গবন্ধুর জনশতবার্ষিকী উদযাপন এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এ বছর আমাদের চেষ্টা থাকবে যে, এ অনুষ্ঠানকে যত বেশি বর্ণাঢ্য ও মনোমুগ্ধকর করা যায়।
তিনি জানান, মেক্সিকোর স্বাধীনতার ২০০ বছর উপলক্ষে দেশটির সরকারের আমন্ত্রণে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ৩৯ সদস্যের একটি কন্টিনজেন্ট উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এ কারণে বাংলাদেশের বিজয় উৎসবে অংশ নিতে মেক্সিকোকে আমন্ত্রণ জানানোর একটা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা সাহায্য করেছে বিশেষ করে বন্ধুপ্রতীম ভারত, রাশিয়া এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ, যেমন- শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান—তাদেরও আমন্ত্রণ করা যেতে পারে। এছাড়া যদি মন্ত্রণালয় এবং সরকার মনে করে আরও অন্যান্য দেশকে আমন্ত্রণ জানাবে, তবে জানাতে পারে। এজন্য ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। কারণ এর সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠালে তা যদি যুক্তিসংগত হয়, সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ পর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি জানান, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তারা যে প্যারেড আয়োজন করেন সেটা আন্তর্জাতিক রূপ দেয়ার জন্য গত বছরই পরিকল্পনা ছিল। গত বছর তারা ভারত এবং রাশিয়াকে আমন্ত্রণও করেছিলেন, কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, তাদের প্রস্তাবে শুধু মেক্সিকোর নাম উল্লেখ ছিল, বাকি দেশের কথা আসেনি। তাদের মূল পরিকল্পনায় আগে থেকেই ভারত এবং রাশিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারত এবং রাশিয়ার কন্টিজেন্টকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। শিগগির তারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে আলোচনা করে নীতিগত অনুমোদন চূড়ান্ত করবেন।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম স্বীকৃতিদাতা দেশ হিসেবে ভুটান অংশগ্রহণকারী হতে পারে এবং মেক্সিকো যেহেতু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, সেহেতু তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কয়টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি।
সভায় আরও জানানো হয় যে, বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে ভারত ও রাশিয়ার ওয়ার ভেটেরানদের (যুদ্ধজয়ী যোদ্ধা) সস্ত্রীক বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাদের সফর কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। তাদের সম্মানে আয়োজিত কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণীয় হবে সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সভায় জানান, কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের যান্ত্রিক বহর সুশৃঙ্খলভাবে প্রদর্শন সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের অংশবিশেষ বিধায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও এমন বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে—কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনীতে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একটি করে যানবাহন অন্তর্ভুক্ত হবে। যানবাহনের মাপ ৯ পদাতিক ডিভিশন নির্ধারণ করে দেবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যান্ত্রিক বহরে অংশ নিতে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের যানবাহন, সব জনবল এবং ধারাভাষ্যের স্ক্রিপ্ট ৯ পদাতিক ডিভিশনের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠান বা দলের নাম যথাসময়ে ধারাবাহিকভাবে ধারাভাষ্যে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া যান্ত্রিক বহরে অংশ নিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যানবাহনের ফিটনেস সংক্রান্ত সনদ যত দ্রুত সম্ভব দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ