বিজয় দিবসে ছেঁড়া পতাকা নয়, বুদ্ধিজীবী দিবসে নয় আলোকসজ্জা

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ছেঁড়া ও মলিন পতাকা ওড়ানো যাবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা কেউ করতে পারবে না।’
বুধবার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সবাই যাতে মনের মাধুরী দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর পালন করতে পারে, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নেব। বিজয় দিবসে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ ও রঙ সমন্বয় করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। আমরা লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন জায়গায় পতাকাগুলো যথেষ্ট মলিন হয়ে গেছে। সেগুলো তারা ব্যবহার করেন ও তোলেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১৬ ডিসেম্বর যে পতাকাটি তুলবেন, আমাদের পতাকা বিধি অনুযায়ী, পতাকার মাপ অনুযায়ী পতাকা তুলতে হবে। রঙ বর্ণ এবং সবকিছু যাতে ফ্রেস থাকে; কোনো বিবর্ণ, পুরনো, ছিঁড়ে যাওয়া পতাকা কেউ ওড়াতে পারবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, আমরা অনেক দিন ধরে লক্ষ্য করছি ডিসেম্বর এলেই সবাই ১৬ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আলোকসজ্জা করেন। আজকে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশে কেউ কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করতে পারবেন না। ১৬ ডিসেম্বর পালনের জন্য আলোকসজ্জা করতে পারবেন। ১৪ ডিসেম্বরকে মর্যাদা সহকারে স্মরণ করব, সেজন্য সেদিন যাতে কোনো আলোকসজ্জা না হয় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখব।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিজয় দিবস উপলক্ষে অনেকেই পতাকা তোলেন, সেখানে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, সেদিন তারা বাসায় বা যেখানে প্রয়োজন পতাকা তুলবেন। কিন্তু পরদিন পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী পতাকাটা যথাযোগ্য সম্মানের সঙ্গে তারা আবার নামিয়ে রাখবেন।’
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য গমনাগমনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা থেকে সাভার রুটের সড়ক সিটি ক্যামেরার আওতায় থাকবে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নাশকতা ঘটাতে না পারে। পুরো স্মৃতিসৌধ সিটি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।’
‘প্রতিবারের মতো এবারও যেখান দিয়ে ভিআইপিরা গমনাগমন করবেন সে সড়কে কোনো ওভারহেড তোরণ করতে দেব না। বিশেষ করে ঢাকা থেকে সাভার পর্যন্ত সড়কে’ -বলেন মন্ত্রী।
বিজয় দিবসে মেট্রোপলিটন এলাকা, জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠান স্থলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিজয় দিবসে যেসব সংস্থা সংস্কৃতি অনুষ্ঠান, আনন্দ র‌্যালি করবে তারা সাতদিন আগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন। আমরা সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে কুচকাওয়াজ এবং ঢাকা মহানগরীর ১১টি স্থানে ও দেশব্যাপী ৪১১টি স্থানে ফায়ার সার্ভিস অ্যালার্ট থাকবে। বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান আসাদুজ্জামান খান।
মন্ত্রী বলেন, ‘মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোনো যুদ্ধাপরাধী, যুদ্ধের সময় বিতর্কিত ব্যক্তিকে যাতে আমন্ত্রণ জানানো না হয় সেজন্য আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিচ্ছি। তারা যাতে এ সব অনুষ্ঠানে এসে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি এবং কোনো ধরনের অবস্থান না নিতে পারে সে বিষয়ে সভায় আমরা একমত হয়েছি।’
প্যারেড স্কয়ারের বাইরে কিছু এলইডি স্ক্রিন দেয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যাতে প্যারেডের পুরো দৃশ্য মানুষ দেখতে পারে। শহরের বিভিন্ন স্থানে তা স্থাপন করা হবে।’
সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ