বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

বিদায়ী মুহূর্তে কাঁদলেন, কাঁদালেন ইউএনও

আপডেট: January 23, 2020, 12:47 am

সিংড়া প্রতিনিধি


ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতোর বিদায় মুহূর্তে কাঁদছেন অন্ধ বাউল মানিক চাঁদ। তার চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন ইউএনও-সোনার দেশ

নাটোরের সিংড়ার অন্ধ বাউল মানিক চাঁদ, পৌর শহরের বিভিন্ন মোড়ে বা চা স্টলে গান করতে দেখা যায়। বাড়ি উপজেলার কলম ইউনিয়নের মহশেচন্দ্রপুর গ্রামে। নিজের কোন জায়গা বা সম্পত্তি না থাকায় এ অন্ধ বাউলকে উপজেলা পরিষদ থেকে ৪ শতাংশ খাস জায়গা দলিল করে দেয়া হয় এবং একটি প্রকল্প থেকে ১ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা দেন ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো। ইউএনও’র বদলি জনিত বিদায় মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন অন্ধ বাউল মানিক চাঁদ। ইউএনও তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেও কেঁদে ফেলেন। এমন একটি মুহূর্ত দেখে সবাই আবেগআপ্লুত হয়ে যান। শুধু অন্ধ বাউলই নয়, ইউএনও’র বিদায়ে কেঁদেছেন অফিসার, কর্মচারীও। বদলি আদেশ পাওয়ার পরে ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো উপজেলা চত্বরে প্রতিটি চা স্টল, দোকান বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফুল নিয়ে গিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অফিসার্স ক্লাবের সকল অফিসার, কর্মচারী এবং সিংড়ায় কর্মরত সকল সাংবাদিকদের নিয়ে বসেন। সবাইকে ফুল দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ও মিষ্টি খাইয়ে বিদায় নেন। তার এ বিদায় মুহূর্ত সিংড়াবাসীর মনে থাকবে চিরদিন।
ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো ৩১ তম বিসিএসে (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) সহকারী কমিশনার হিসেবে নীলফামারীতে যোগ দেন। পরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর পদোন্নতি পেয়ে নাটোরের সিংড়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও এলাকার ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার সুযোগ করে দিতে ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জের পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামে তার পিতার নামে ‘শহরলাল মাহাতো কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো আজীবন সাধারণ মানুষের সেবা করতে চান। রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলায় বদলি হয়েছেন ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো।