বিদেশে অর্থপাচার কুশিলবদের শাস্তি হয় না কেন?

আপডেট: মার্চ ৩, ২০২১, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

বিদেশে অর্থপাচারের কাহিনিটা অনেক পুরান। দু’একটি দৃষ্টান্ত ছাড়া পাচারকৃত অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেই বললেই চলে। ফলে ওই কাহিনি দেশের মানুষকে শুনেই ক্ষান্ত হতে হয়। কেননা ক্ষুব্ধতা প্রকাশের সুযোগ খুবই কম। এই কুশিলবদের শাস্তি হয় না কেন? বিদেশে অর্থ পাচার করে কারা? এটার খুবই সহজ উত্তর। এ দেশে জন্ম নিয়ে যারা এ দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন না তারাই অবৈধ উপায়ে অর্থ অর্জন এবং একই ভাবে তা বিভিন্ন দেশে পাচার করে। অর্থাৎ দেশের সম্পদ লুট করে অন্য দেশে গিয়ে আয়েশি জীবন-যাপন করে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরৎ আনতে দেশের উচ্চ আদালত এবার তৎপর হয়েছে। আশা করাই যায় এবার হয়ত একটা সুরাহা হবে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনযায়ী বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সুইস ব্যাংকসহ গোপনে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে করা রিটের শুনানি নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অ্যাটর্নি জেনারেল, বাণিজ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট ১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদপত্রে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সুইস ব্যাংকসহ গোপনে বিদেশের ব্যাংকে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে বিবাদীদের চরম ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। একই সঙ্গে সুইস ব্যাংকসহ বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের অতীত এবং বর্তমানে এ ধরনের অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রুলের জবাবের পর উচ্চ আদালত নিশ্চিত তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। দেশবাসী সেই সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষাও করে আছেন। কেননা দেশের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব অপরিসীম। একই সাথে যারা অর্থ পাচারের সাথে জড়িত আছেন তাদেরও আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিদেশে অর্থ পাচারের ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকার কারণে দেশবিরোধী এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে উৎসাহিত হয়ে আসছে। দুর্নীতি বিস্তারে এই উদ্যোগহীনতা কাজ করে থাকে। অর্থ পাচারকারীরা দেশ ও দেশের মানুষের শত্রু। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ