বিদেশে যাবার কথা বলে বাগমারা ছাড়েন জঙ্গি নেতা মুসা

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি



রাজধানীর আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় শিশুসহ আত্মসমর্পণকারী নারী জঙ্গি তৃষা মনির স্বামী রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের বুজরুককোলা গ্রামের মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসা বিদেশে যাবার কথা বলে স্ত্রীসহ প্রায় সাত আট মাস আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। যাবার সময় হাশরের ময়দানে দেখা হবে এমন কথাও বলে যায় তার মা সুফিয়া বিবিকে। তার পিতা আবুল কালাম দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত প্রায় একবছর আগে মারা যায়।
আবুল কালাম বাড়ির পাশের একটি মসজিদে ঈমামতি করতেন। মুসার মা সুফিয়া বিবি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তার ছেলে মুসা বিদেশে যাবার কথা বলে প্রায় সাত আট মাস আগে তার অংশের জমি বিক্রি করে যায়। যাবার সময় হাশরের ময়দানে দেখা হবে এমন কথা বলে গেলেও সেদিনের ওই কথার অর্থ বুঝতে পারেন নি বলে জানান সুফিয়া বিবি। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবার পর থেকে ছেলে ও ছেলের বউয়ের সঙ্গে কোন যোগাযোগ করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
মৃত আবুল কালামের দুই স্ত্রী। তাদের মধ্যে সুফিয়া বিবির এক ছেলে (মুসা) ও এক মেয়ে। অপর স্ত্রী খোদেজার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। তারা পৃথক অন্নেই বসবাস করে আসছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছরের কম সময় আগে তারা মুসাকে বাড়িতে দেখেছেন। সে নামাজি ছিল এবং শান্ত স্বভাবের ছিল বলেও তারা জানান। এত ভাল ছেলে ভয়ঙ্কর কাজে জড়িয়ে গেছে এমন কথা শুনে তারাও অবাক হয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, বাড়ি থেকে যাবার সময়ে হাশরের দিন দেখা হবে মাকে বলা এমন কথাও তারা শুনেছেন। জানা যায়, বাগমারার মচমইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসা তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে রাজশাহী কলেজে ইংরেজিতে অনার্সে ভর্তি হয়। সেখান থেকে ট্রান্সফার নিয়ে ঢাকার একটি কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে টিউশানির পাশাপাশি পড়াশোনা করতো। এরপর ঢাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা আরম্ভ করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সাইপাড়া গ্রামের নাজমা বিবি ও একই ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদের মেয়ে তৃষা মনিকে ২০১৪ সালে বিয়ে করে মুসা। তৃষা মনি ২০১৪ সালে স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে। পরীক্ষার আগেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলে তারা ঢাকায় যায়। এরপর এসএসসি পাশ করলে সৈয়দপুর-মচমইল মহিলা ডিগ্রি কলেজে তৃষাকে ভর্তি করে দেয় মুসা। তার ওই ভর্তির খবর পরিবারের সদস্যরা জানতোনা। তবে ভর্তির পর কোনদিন ক্লাশ করতে দেখা যায়নি বলে জানান ওই কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল করিম মামুন।
তৃষা মনির মা নাজমা বিবি জানান, তার যমজ দুই মেয়ের মধ্যে ২০১৪ সালে তৃষা মনির পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয় মুসার সঙ্গে। প্রায় সাত আট মাস মাস থেকেই মেয়ের সঙ্গে কোন যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানান তিনি। জামাই জমিজমা বিক্রি করে বিদেশ যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে চলে গেছে। মেয়ের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোন কিছুই জানতেন না বা বুঝতেও পারেননি তিনি। নিজের ইচ্ছাতে তার মেয়ে কোন জঙ্গি সংগঠনে জড়িয়ে যেতে পারেনা। জামাইয়ের প্ররোচনায় এমন কাজে জড়িয়ে যেতে পারে বলে এসব মন্তব্য করেন তিনি। তৃষা মনির কলেজ পড়–য়া যমজ বোন নিশা মনি জানায়, তার বোন কোন জঙ্গি সংগঠনে জড়িয়ে পড়েছে এমন কথা মানতে পারছেন তিনি। নিজের ইচ্ছাতে তৃষা এ কাজ করতে পারেনা, তার স্বামীর জন্যই হয়তো এমনটা হয়েছে বলে নিশা মনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর দক্ষিনখানের আশকোনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি জঙ্গি আস্তাানায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এসময় দু’জন নিহত হয় এবং আহত অবস্থায় এক শিশুকে উদ্ধারের পাশাপাশি আত্বসমর্পন করেন চারজন। তাদের মধ্যে বাগমারার পলাতক জঙ্গি নেতা মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসার শিশু সন্তানসহ স্ত্রী তৃষা মনি রয়েছে।