বিদেশ ফেরত স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ!

আপডেট: August 4, 2020, 11:35 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসী স্বামীকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা আত্মসাতের জন্য স্ত্রী এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। রোববার (০২ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার (০৩ আগস্ট) দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকল কলেজের (রামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির নাম শাহাদত হোসেন (৪৮)। তিনি বাগমারার পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ বকশের ছেলে। তিনি ইরাকে থাকতেন। তার স্ত্রীর নাম আঙ্গুরি বেগম (৩৬)। এ ব্যাপারে পুলিশ তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
নিহতের ছোটভাই পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, শাহাদত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে ছিলেন। গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে ফিরে তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এ সময় বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাব নিয়ে স্ত্রী আঙ্গুরি বেগমের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে ইদের দুইদিন আগে তাকে বাড়িতে আবারও ফিরিয়ে আনা হয়।
নিহত শাহাদত হোসেনের ভাইদের অভিযোগ, রোববার দিনগত রাতে স্ত্রী আঙ্গুরি বেগম খাদ্যের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান। এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা আত্মসাতের জন্য আঙ্গুরি বেগম তার স্বামীকে খাদ্যের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যা করেছেন। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ আঙ্গুরি বেগমকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। পরে তার ছেলে আনোয়ার হোসেনকে (২৫) থানায় ডেকে এনে তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে অপমৃত্যুর মামলা গ্রহণ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
জানতে চাইলে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, নিহতের স্বজনরা হত্যার অভিযোগ করছেন। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে শাহাদত হোসেন গ্যাস্ট্রিকেই মারা গেছেন। মারা যাওয়ার আগেই তিনি পেনটনিক্স ট্যাবলেট ও কারমিনা সিরাপ খেয়েছেন। তার স্ত্রীই এমনটাই দাবি করছেন। তাই আপতত অপমৃত্যুর মামলা করে করে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি বলেন, ময়নাদন্তের রিপোর্টে অন্য কিছু আসলে পরে সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ