বিদ্যালয়ের নামে জমি দিয়েও চাকরি হয় নি জমিদাতার দুই মেয়ের || জমি ফেরত চেয়ে আদালতে মামলা

আপডেট: মে ২৪, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেয়ার প্রলোভন  দিয়ে ওই  বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়টি সরকারি করণও হয়েছে। কিন্তু সেই বিদ্যালয়ে চাকরি জুটে নি জমিদাতার দুই মেয়ের। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর দক্ষিণপাড়া ৮৭ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এ প্রতারণার ঘটনাটি।
এদিকে চাকরি বঞ্চিত দুই মেয়ের বাবা কোবাদ মোল্লা ও বদর উদ্দিন মোল্লা বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমি ফেরত পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। গত বছরের ৩০ জুন গুরুদাসপুর সহকারী জজ আদালতে মামলাটি করেন। ( মামলা নম্বর-৯৩/২০১৬ অঃপ্রঃ)।
একই সাথে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটি বাতিল ও প্রতারণায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও তুলেছেন তাঁরা। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। সম্প্রতি জমিদাতাদের পক্ষে বদর উদ্দিন মোল্লা ওই অভিযোগটি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ সালে ওই বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আবদুল কুদ্দুস মোল্লা ও তার ছেলে আলতাব হোসেনের দান করা ১০ শতক জায়গার ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে মোবারক হোসেন নামে এ ব্যক্তিকে সভাপতি করে নয় সদস্য বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠন করা হয়। ওই কমিটি রনজু আহমেদকে প্রধান শিক্ষক এবং আদুরী খাতুন, শরীফা বেগম ও রুবিনা বেগমকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।
এদিকে ২০১২ সালে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করণের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু সরকারি করণের জন্য বিদ্যালয়ের নামে কমপক্ষে ৩৩ শতক জমি থাকতে হবে-এমন শর্ত রয়েছে। ওই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে পরিচালনা কমিটির পরামর্শে কোবাদ মোল্লা তার মেয়ে বিনা খাতুনের চাকরি দেয়ার শর্তে সাড়ে ১৩ শতক ও বদর উদ্দিন মোল্লার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের জন্য ১০ শতক জমি ওই বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু তাদের দুই মেয়েকে ওই বিদ্যালয়ে চাকরি দেন নি এসএমসি।
ভুক্তভোগী জমিদাতারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর আগের এসএমসি বাতিল হয়ে যায়। নতুন এসএমসির সভাপতি হন মজনু মিয়া। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় নতুন এসএমসি।
এই কমিটি জমিদাতা কুদ্দুস মোল্লার সাথে যোগসাজশ করে প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক রনজু আহম্মেদ স্বপদে বহাল থাকা সত্ত্বেও সাত মাসের পেছনের তারিখ দেখিয়ে জমিদাতা কুদ্দুসের জামাতা জিয়াউর রহমানকে প্রধান শিক্ষক ও তাঁর মেয়ে রিতা খাতুনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেখানো হয়। পক্ষান্তরে এই অনিয়মের ফাঁদে পড়ে চাকরি থেকে বঞ্চিত হন জমিদাতা কোবাদ মোল্লা ও বদর উদ্দিনের দুই মেয়ে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় জিয়াউর রহমানকে ২০১২ সালের ১৩ মার্চ প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। পক্ষান্তরে ওই নিয়োগের সাত মাস পর প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক রনজু আহমেদ পদত্যাগ করেন।
প্রতিষ্ঠাকালীন এসএমসি সভাপতি মোবারক হোসেন দাবি করেন, তিনি কাগজে-কলমে সভাপতি হলেও জমিদাতা আবদুল কুদ্দুস এসএমসির সহসভাপতি মিজানুর রহমানের সাথে যোগসাজশে জমি নিয়েও কোবাদ মোল্লা ও বদর উদ্দিনের দুই মেয়েকে চাকরি দেয়া হয় নি। তবে সহসভাপতি মিজানুর রহমান সভাপতি মোবারক হোসেনকে দায়ী করেছেন।
এসএমসির নতুন কমিটির সভাপতি মজনু মিয়া এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজী হন নি।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন,  শুরু থেকেই বিদ্যালয়টিতে নানা অনিয়ম চলে আসছে। বৈধ কাগজপত্র থাকায় শরীফা বেগম ও আদরী খাতুন নামে দুইজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তবে জমিদাতা বদর উদ্দিন মোল্লা ও কোবাদ মোল্লা বিদ্যালয়ের নামে দান করা জমি ফেরত চেয়ে আদালতে মামলা করায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে ওই বিদ্যালয়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ