বিধি-নিষেধের কার্যকারিতা করোনা সংক্রমণের লাগাম টেনে আছে!

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২১, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে লকডাউন বা বিধিনিষেধ একটি কার্যকর পন্থা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে বিশ্বের দেশে দেশে। করোনা সংক্রমণের গতি রুখতে উন্নত দেশগুলোও এই পন্থা যথার্থভাবে প্রয়োগ করেছে। এতে তারা সুফলও পেয়েছে। বাংলাদেশে কঠোর বিধি-নিষেধ প্রয়োগের ফল কেমন হয়েছে? সন্দেহ নেই- আশানুরূপ না হলেও সংক্রমণের গতিকে ধীর পর্যয়ে ধরে রাখা সক্ষম হয়েছে। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের মানুষের অভ্যেসগত বৈচিত্রটা অন্য জাতিগোষ্ঠির চেয়ে বেশ আলাদা। এখানে অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কার যোগ হয়ে পরিস্থিতিকে নেতিবাচক দিকে টেনে নিয়ে যায়। ফলে উন্নত দেশগুলোর মানুষের চিন্তা-চেতনার প্রাগ্রসরতার ফলে সেখানে লকডাউন সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে করা সম্ভব হয়েছে। যেটা বাংলাদেশে অনেকটা অসাধ্য ব্যাপার। দুর্যোগের ভয়াবহ মুহূর্তে দেশের অনেক মানুষই ধর্মীয় কুসংস্কারের ওপর নির্ভর করছে। এছাড়াও আছে নোংরা রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির ব্যাপার। করোনা সংক্রমণ কার্যক্রমে গুজবও ছড়ানো হয়েছে ব্যাপকভাবে। এখনো গুজব ছড়ানোর তৎপরতা আছে। টিকা নিতে মানুষের অনীহা এসব গুজবের কারণে আরো প্রকট হচ্ছে। তারপরেও বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পরিস্থিতি কোনোভাবেই নাগালের বাইরে চলে যায় নি। নানা সীমাবদ্ধততার মধ্য দিয়েই করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
দেশে লকডাউন বা বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রভাবে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা এক জায়গায় থেমে গেছে বলে সরকার মনে করছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বিবিসিকে জানিয়েছেন, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে লকডাউন এবং সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমন তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেয়া তথ্যমতে, সরকারের পর্যালোচনায় পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসের শুরু থেকেই লকডাউন বা বিধিনিষেধের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা গড়ে দুইশো’র ঘরে এবং সংক্রমণ এগার হাজারে আটকে গেছে। প্রতিমন্ত্রীর মতে মৃত্যু এখন দুইশো দেখছি, হয়তো মৃত্যু ছয়শো বা আটশো দেখতে হতো। যদি এটা (কঠোর বিধিনিষেধ) না করতাম আমরা। সংক্রমণ আমরা এখন দেখছি, এগার হাজার। সেটা হয়তো আরও তিনগুণ বেড়ে যেতো।’ যদিও প্রতিমন্ত্রীর দেয়া এই তথ্য এই মুহূর্তে অবস্থান পরিবর্তন করে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই বেড়েছে। তবে এটা যথার্থ যে, বিধি-নিষেধ আরোপিত না হলে প্রতিমস্ত্রীর ভাষ্যই যথার্থ হয়ে উঠতো। সেটা সামলানো বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারতো।
বিধি-নিষেধ প্রতিপালনে কখনো কখনো সমন্বয়হীনতা ও দোদুল্যমতা লক্ষ্য করা গেছে। সেটা না থাকলে বর্তমান পরিস্থিতির আরো উন্নতি হতে পারতো। যাহোক এখন সামনের দিকে দৃষ্টিপাত করাই শ্রেয়। পরিস্থিতি এখনো নাগালের মধ্যেই আছে। টিকার সরবরাহ সমস্যা ক্রমশই দূর হচ্ছে। টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাকরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্চে। সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধিনিষেধ নিশ্চিত করে দ্রুদতার সাথে দেশের মানুষকে টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আনাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জও বটে। নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ করোনা মহামারির মত দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে অচিরেই উন্নয়নের চেনা ছন্দে ফিররিয়ে আনবে- সেটাই প্রত্যাশিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ