বিনা ছুটিতে শতাধিক শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কী শিখলো?

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০১৯, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

ছুটি না নিয়েই কর্মস্থল ছেড়ে রাজশাহীতে এসেছিলেন বিভাগের আট জেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক। শিক্ষক সমিতির সভায় ওই শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। এতদসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ওই সভায় সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আঞ্চলিক কমিটির ঘোষণাও করা হয়।
৩০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে এসে পৌঁছান বিভিন্ন জেলা সমিতির শিক্ষকরা। দুপুর ১২টায় নির্বাচনী সভা শুরুর কথা থাকলেও শুরু হয়েছে বেলা দুই টার পরে। এই সভা চলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। শিক্ষক সমিতির নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হলেও সে অনুযায়ী নির্বাচন হয় নি। অর্থাৎ তফসিল অগ্রাহ্য করেই কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি স্বয়ং সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন ‘নমিনেশনের শেষ দিন তিন অক্টোবর।’ যেখানে নমিনেশন দাখিলের নির্ধারিত তারিখের তিন দিন আগেই কীভাবে কমিটির ঘোষণা আসে? নমিনেশনের নির্ধারিত দিনে একক প্যানেল দাখিল হলে নির্বাচন কমিশন ওই প্যানেলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার জন্যও অপেক্ষা করা হয় নি। সভাপতি ৮ জেলার সদস্যদের ডেকে কমিটির ঘোষণা করে দিয়েছেন। শিক্ষক সমিতির সভার নামেই সদস্যদের রাজশাহী ডেকে আনা হয়। এবং শিক্ষক সদস্যরা নিজ নিজ স্কুলের দায়িত্ব ফেলে বিনা ছুটিতে রাজশাহীর সভায় যোগ দিয়েছেন।
শিক্ষকরা জাতির বিবেক। এখনো শিক্ষকদের সমাজ মান্য করে। কিন্তু তারাই যদি নিয়ম-কানুনের ধার না ধারেন তা হলে শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ থেকে কী শিখবে? শিক্ষক সমিতির সভার নামে ৮ জেলার শিক্ষকদের ডেকে এনে নৈতিকতার দুটি ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। একটি সরকারি কর্মচারি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা- যা শিক্ষকরা ছুটি ছাড়াই তাদের কর্মস্থলের বাইরে ছিলেন। দ্বিতীয়টি, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও তফসিল অগ্রাহ্য করে সদস্যদের সভা আহ্বান করা হয়েছে এবং ওই সভায় কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়েছে- যা সাংগঠনিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।
এই দুটো অনৈতিক কাজের দায় কে নেবে? শিক্ষকই যদি বিশৃঙ্খল হন, নিয়মের তোয়াক্কা না করেন- তা হলে দেশের ভবিষ্যত যে খুবই ভয়ঙ্কর হবে তা বলাই বাহুল্য। কেননা শিক্ষকদের আচরণকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়, এবং তাদের কথা মানে ও অনুসরণ করে সেই শিক্ষার্থী তাদের অনৈতিক কাজের অনুশীলন করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কেউ হয়তো যুক্তির খাতিরে বলতেই পারে, সমাজের সর্বত্রই ধস নেমেছে সেখানে শুধু শিক্ষকদেরই কেন সর্বক্ষেত্রে নৈতিক হতে হবে? শিক্ষক শব্দের সাথেই নীতি-নৈতিকতা, জ্ঞান-প্রজ্ঞা-অভিভাবকত্ব-কল্যাণ, আলোকদান, সিদ্ধান্তÑ সমর্থক হয়ে আছে। শিক্ষকতা পেশার সাথে অন্য কোনো পেশার তুলনা করা উচিৎ হবে না। যারা শিক্ষক পেশার সাথে এসব চরিত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে না চান তাদের এই পেশায় না আসাই বাঞ্ছনীয়। যিনি স্বপ্নকে বাস্তবে ঘ্রাণযুক্ত ফুল করে শুধুই বিকশিত করতে চান- তার জন্য লোভ মোহাবিষ্ট হওয়ার সুযোগ কই?
যে সব শিক্ষক বিনা ছুটিতে কর্মস্থলের বাইরে থেকেছেন এবং তাদের কর্মস্থলের বাইরে থাকতে যে বা যারা উৎসাহ যুগিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয় হবে। নতুবা এমন কাজে তারা বারবার উৎসাহিত হবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ