বিনা বিচারে আটক বন্দি || বিষয়টি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৭, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

বিনাবিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির ব্যাপারে দেশের সর্বোচ্চ আদালত উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে মুক্তির জন্য আদেশ হয়েছে। বিষয়টি সুধিমহলে বেশ প্রশংসিতও হচ্ছেও। ঠিক এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনা বিষয়টিতে নতুন মাত্রা দিলেন। সরকার প্রধান হিসেবে তাঁর এই আহবান দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা বিনাবিচারে আটক আছে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন। কেউ যদি রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে আইনে সে বিধানও আছে।’- রাইজিংবিডি
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নুরুল ইসলাম মিলনের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা কারাগারে আটক আছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান আছে। এসব মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন পর্যায়ে থাকতে পারে। বিচারিক পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে এসব মামলায় কারাগারে আটক ব্যক্তিদের জামিনে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিচারকের এখতিয়ার। সরকার এসব মামলার দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। দ্রুত বিচার আদালত ও ট্রাইব্যুনাল গঠনসহ মামলার বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত এবং সংস্থারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ফৌজদারি ব্যবস্থাপনা যে ত্রুটিপূর্ণ তা বিনা বিচারে বছরের বছর কারাগারে থাকার ঘটনা থেকে অনুমান করা যায়। ব্যবস্থার মধ্যেই মামলাকে টেনে বিলম্বিত করার প্রচেষ্টাও ভীষণভাবে। বিচার ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বিচারক, তদন্তকারী অফিসার, আইনজীবীসহ সকল পক্ষের আন্তরিকতা না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।
বিনা বিচারে বন্দি কেন? এসব ঘটনার তদন্ত হওয়াও বাঞ্ছনীয়।  এর জন্য দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। জবাবদিহিতা না থাকলে অন্যায় দূরীভুত করা সম্ভবপর হয়ে উঠবে না বলেই আমাদের ধারণা। বিনা বিচারে আটকরা আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকারী অথচ তারা তা পাচ্ছে না। এর জন্যও বিচার ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকেই দায়ি করা হচ্ছে।
সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বন্দি থাকার কথা সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। দায়মুক্তির সংস্কৃতি উৎসাহিত হয় বলেই এসব ব্যাপারে দায়িরা বহাল তবিয়তেই থেকে যান, তারা শাস্তি পান না। এ ধরনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণের আওতায় এনে ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
বিনাবিচারে কাউকে আটকে রাখা অবশ্যই মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। নামের ভুলে এবং বদলি সাজা খাটার ব্যাপারগুলি কীভাবে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার সময় এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বিনা বিচারে আটকদের ক্ষতিপূরণের কথা বলেছেন। আমরা মনে করি সরকারের পক্ষ থেকেই এ ধরনের একটি ব্যবস্থা থাকা দরকার যাতে করে ক্ষতিগ্রস্তরা উপকৃত হতে পারে। কেননা আইনের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার বিষয়টি খুব সহজ হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ