বিনিয়োগ হারাচ্ছে মিয়ানমার || অর্থনৈতিক অবরোধ দেয়া হোক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর বর্বর হত্যা-নির্যাতনের কারণে গত মাস থেকে দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ পর্যন্ত কক্সবাজারে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এসে বাংলাদেশে অবস্থান করছে আরো প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা। এই বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার সরকার রাখাইনে হত্যা-নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। সে দেশের ডিফ্যাক্টো প্রধান অং সান সু চিও তাদের সমর্থন করছেন। দেশটির সেনাবাহিনী যখন অভিযানের নামে নিষ্ঠুর নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছিল, তখন সু চি এটিকে ‘সন্ত্রাস দমন’ আখ্যা দিয়ে প্রকারান্তরে মিয়ানমার বাহিনীর প্রশংসা করেছেন। তবে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা ও চাপের মুখে সু চি অবশেষে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তব সমাধানে আশাবাদী হওয়ার মতো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতন, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ন্যুনতম সমালোচনাও করেননি তিনি। বরং দাবি করেছেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে কোনো ধরনের অভিযান চালানো হয় নি। তিনি রাখাইন থেকে মুসলমানদের পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার কথা স্বীকার করলেও বক্তৃতার কোথাও তাদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করেন নি। তার বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মতো সু চিও রোহিঙ্গাদের জাতি হিসেবে স্বীকার করেন না। তাদের মিয়ানমারের নাগরিক মনে করেন না। অথচ এ সংকটের মূলে রয়েছে জাতিবিদ্বেষ। সু চি যদি রোহিঙ্গাদের জাতি হিসেবে স্বীকার করে না নেন, তাহলে এর সমাধান হবে কীভাবে? যদিও তিনি তার ভাষণে বলেছেন, নব্বই দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের যাচাইয়ের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু তার এ বক্তব্যের মধ্যে বেশ ফাঁক রয়েছে। কারণ পালিয়ে আসা চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে কীভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে তা অস্পষ্ট। অন্যদিকে এর আগে আসা প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার ভাগ্যে কী ঘটবে সে বিষয়েও খোলাসা করেন নি। মিয়ানমার সরকারকে প্রথমে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। সেই দেশে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব প্রদান করতে হবে। তাদের উপর পরবর্তীতে হামলা চালানো বন্ধ করতে হবে। যাতে করে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সরকারের যাবতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। আর মিয়ানমার সরকার যদি এসব মেনে নেয় না। তাহলে জাতিসংঘকে উদ্দ্যোগ নিতে হবে। সেই দেশের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়ার জন্য উন্নত দেশ ও জোটগুলো একত্রিত করতে হবে। কারণ একটি দেশকে কাবু করতে হলে বিশ্ব অবরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এেিদকে ভাষণে সু চি রোহিঙ্গাদের ‘যাচাই করে’ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু এই যাচাইয়ের কাজ করা হবে কিসের ভিত্তিতে? তাদের নাগরিকত্বের সনদ নেই, কোনো পরিচয়পত্রও নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিলে ত্রিপক্ষীয়ভাবে এই যাচাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে সু চির যদি আন্তরিকতা থাকে, তাহলে তিনি এ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে জাতিসংঘকে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে যাতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, সেজন্য ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনকভাবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায় এগিয়ে আসবে এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ