বিপাকে মাদ্রাসা,এতিমখানাও দুস্থ মানুষ তানোরে পানির দামে চামড়া বিক্রি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোরে এবার চামড়ার দাম গতবছরের চেয়েও কমছিল। উপজেলার সর্বত্রেই নাম মাত্র মূল্যে কোরবানি চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে বঞ্চিত হয়েছেন, মাদ্রাসা,এতিমখানাও দুস্থ মানুষ।
ঈদের দিন ঘুরে ঘুরে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে ঠিকমত দাম না পেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। এবার গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। কিন্তু গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। কেউই নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে পারে নি। ছাগলের চামড়া আকার ভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এ নিয়ে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেন, ট্যানারী মালিকরা এবার চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সে কারণে তাদেরকে পানির দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।
ঈদের দিন সকাল থেকে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা পাড়া মহল্লয় ঘুরে ঘুরে চামড়া কেনেন। ওই চামড়া তারা ভ্যানগাড়ি, মিনিট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।
চামড়া ক্রেতা ও বিক্রেতার সাথে আলাপ করে জানান যায়, ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মাঝারি মানের চামড়া দুইশ থেকে তিনশ টাকায় ও বড় গরুর চামড়া চার থেকে পাঁচশ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বেলা ৩টার পর থেকে আগের দামের চেয়ে দাম আরো কমে যায়। ফলে তাদেরকে কাঁচা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে চামড়া ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান জানান, হাজারী বাগের ট্যানারীগুলো সাভারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া থাকায় এবার চামড়া কেনার চাহিদা কমে গেছে। ছোট ট্যানারীগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছাগল ও ভেড়ার চামড়ার দর কমে গেছে। সে কারণে আমরা বেশি দামে চামড় কিনে বিক্রি করতে পারছি না।
এ ব্যাপারে চিমনা গ্রামের চামড়া বিক্রেতা আমির উদ্দিন জানান, আমার সমাজে গরুর ও ছাগল মিলে প্রায় ৫০ টি পশু কোরবানি করা হয়েছে। আর সেই চামড়া বিক্রি করেছি গরুর ৩শ টাকা, আর ছাগলের চামড়া ২০ টাকা করে। এত কম টাকা কি ভাবে হতদ্রারিদ্রদের মাঝে বিতরণ করবো এ নিয়ে দুশচিন্তায় রয়েছি।
এ বিষয়ে তানোর এতিমখানার দেখভালের দায়িত্বরত স্থানীয় শিক্ষক আরজান আলী জানান, এ বছর চামড়ার দাম না থাকার কারণে প্রতিবছর এতিমখানা পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ অর্থ পাই এ বছর তা পাওয়া যাচ্ছে না। যারা প্রতিবছর এতিম শিশুদের জন্য প্রতিটি গ্রামের সমাজ থেকে কোরবানির চামড়ার টাকা দিতো এবার তা পরিমাণে অতি সামান্য। ফলে এতিম শিশু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চলানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ