বিভিন্ন দেশকে সাড়ে ৫ কোটি ডোজ টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশও পাবে

আপডেট: জুন ২২, ২০২১, ২:২৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সাড়ে পাঁচ কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা বিভিন্ন দেশে পাঠানোর একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে হোয়াইট হাউজ।
কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ওই টিকার ৭৫ শতাংশই পাবে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়া এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
যাদের জরুরি ভিত্তিতে টিকা প্রয়োজন, সেরকম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ৮ কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, এই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে তার বাস্তবায়ন আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।
বিশ্বের বড় অংশ যখন করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায়, যুক্তরাষ্ট্র তখন কেবল বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিনই মজুদ করেনি, কাঁচামাল ও সরঞ্জামেরও বড় মজুদ গড়েছে।
সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ ছিল, তাদের হাতে থাকা অব্যবহৃত টিকা যেন তারা সেইসব দেশকে দেয়, যারা এখনও সেভাবে টিকার ব্যবস্থা করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের ৩১ কোটি ৮১ লাখ নাগরিককে টিকা দিয়ে ফেলায় হোয়াইট হাউজ এখন তাদের হাতে থাকা বাড়তি টিকা অন্য দেশকে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যে সাড়ে পাঁচ কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে পাঠাবে, তার মধ্যে ৪ কোটি ১০ লাখ ডোজ দেওয়া হবে টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে।
এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিকা যাবে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে। ১ কোটি ৬০ লাখ ডোজ এশিয়া এবং ১ কোটি ডোজ পাবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ।
বাকি ১ কোটি ৪০ লাখ ডোজ পাঠানো হবে আঞ্চলিক গুরুত্বের বিবেচনায়। কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, ইরাক, ইউক্রেইন, ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরে টিকা যাবে ওই অংশ থেকে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, “বিশ্বকে দেওয়ার মত প্রচুর টিকা আমাদের হাতে আছে, কিন্তু সেই টিকা পাঠানোর কাজটি বিরাট একটি চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, কেবল টিকা পাঠিয়ে দিলেই হবে না, এর ব্যবহারবিধি ও সতর্কতামূলক বিষয়গুলো জানাতে হবে, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যথাযথভাবে সংরক্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। কখনও কখনও ভাষার পার্থক্যও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এসব টিকা কোথায় কোথায় যাবে, সেই ঘোষণা আজ আমরা দিলাম। সেসব দেশে পাঠানো এবং পৌঁছানোর খবরও আমরা দেব। যত দ্রুত সম্ভব এ কাজটা আমরা সারতে চাই।”
এই সাড়ে পাঁচ কোটি ডোজ টিকার মধ্যে থাকবে ফাইজার, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও ওই তালিকায় যুক্ত করা হবে।
হোয়াইট হাউজ বলেছে, তারা চায়, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের যেন এই টিকার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন, তার সরকার ফাইজারের ৫০ কোটি ডোজ টিকা কিনে বিশ্বের গরিব দেশগুলোকে দেবে।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়া (১ কোটি ৪০ লাখ ডোজ): ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, পেরু, একুয়েডর, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, উরুগুয়ে, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, হাইতি এবং অন্যান্য ক্যারিবিয়ান দেশ, ডোমিনিকান রিপাবলিক, পানামা এবং কোস্টারিকা।
এশিয়া (১ কোটি ৬০ লাখ ডোজ): ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লাওস, পাপুয়া নিউগিনি, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ।
আফ্রিকা (১ কোটি ডোজ পাবে): আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের তালিকা ঠিক করা হবে।
সরাসরি পাবে যারা
কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, হাইতি, অন্যান্য ক্যারিবিয়ান দেশ, ডোমিনিকান রিপাবলিক, কোস্টা রিকা, পানামা, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, ঘানা, কাবো ভার্দে, মিশর, জর্ডান, ইরাক, ইয়েমেন, তিউনিসিয়া, ওমান, পশ্চিম তীর ও গাজা, ইউক্রেইন, কসোভো, জর্জিয়া, মোলদোভা ও বসনিয়া।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ