বিমানে গোলযোগ ‘নাশকতা’ কি না জানতে মামলার ইংগিত

আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০১৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


হাঙ্গেরি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজ যে ‘মনুষ্যতসৃষ্ট যান্ত্রিক সমস্যা য়’ জরুরি অবতরণে বাধ্যে হয়েছিল, তার পেছনে ‘নাশকতার উদ্দেশ্য ’ ছিল কি না জানতে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
ওই ঘটনায় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর রোববার বিকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মামলা করার ইংগিত দেন।
“মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ এবং তিনটি তদন্তের ভিত্তিতে যে সুপারিশটা যুক্তিযুক্ত, তা হচ্ছে যে, মনুষ্যসৃষ্ট বিষয়টি নাশকতমূলক কি না তা আইনের আওতায় এনে তদন্ত করতে হবে এবং এর ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার জন্য যে শাস্তির বিধান থাকে সেই শাস্তি প্রদান করতে হবে।”
মেনন বলেন, “ৃ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতি হয়নি, কিন্তু এর চেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন আর আসতে পারে না। তিনি শুধু সরকার প্রধানই নন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তার জীবননাশের জন্য বহুবার চেষ্টা হয়েছে।”
গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। ত্রুটি মেরামত শেষে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে উড়োজাহাজটি।
ওই উড়োজাহাজের ইঞ্জিন অয়েলের ট্যাংকের একটি নাট ঢিলে হওয়ার পেছনে নাশকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ২৮ নভেম্বর পাঁচ সদস্যের কমিটি করে বিমান মন্ত্রণালয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও (বেবিচক) আলাদা তদন্ত গঠন করে। ওই দুই কমিটি আগেই তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে।
বিমান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকারের নেতৃত্বে গঠিত তৃতীয় তদন্ত কমিটি রোববার সকালে তাদের ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিলে বিকালে সাংবাদ সম্মেলনে আসেন মেনন।
তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে তিনটি কমিটি গঠন করেছিলাম। একটি বিষয় তিনটি তদন্ত রিপোর্টেই এসেছে- সমস্ত ঘটনাটি, নাট ঢিলা হওয়ার ব্যাপারটি মনুষ্যসৃষ্ট। এটা কি ইন্টেনশনাল নাকি আনইন্টেনশনাল, তা তদন্ত কমিটিগুলোর পক্ষে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
“নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে এটা কোনো নাশকতামূলক কাজ কি না- অথবা আনপ্রফেশনাল কাজ কি না, তা নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সামান্যতম নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ৃ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে ইতোমধ্যে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি বিমানমন্ত্রী।
ঘটনার পর বিমানের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার পাঁচ প্রকৌশলীসহ ছয়জনকে সামিয়ক বরখাস্ত করা হয়।এরা হলেন- প্রকৌশল কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, লুৎফুর রহমান, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও তিন প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্তরা হলেন- বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, চিফ ইঞ্জিনিয়ার (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এস এ সিদ্দিক ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (সিস্টেম অ্যান্ড মেইনটেইনেন্স) বিল্লাল হোসেন।
উড়োজাহাজে যান্ত্রিক গোলযোগের ঘটানা তদন্তে গঠিত তিনটি কমিটির প্রতিবেদন সমন্বিত করে তা দুই-একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অথবা তার কার্যালয়ে দেয়া হবে বলেও জানান মেনন।
“সেখানে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) বসেই সুনির্দিষ্ট করা হবে তাদের নির্দেশ অনুসারে, পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে,” বলেন মন্ত্রী।- বিডিনিউজ