বিরল প্রজাতির শামুকখোল উদ্ধার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭, ১১:১২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীতে লম্বা ঠোঁটের বিরল প্রজাতির দুটি শামুকখোল পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর লক্ষ¥ীপুর কাঁচাবাজারের একটি মুরগির দোকান থেকে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়। পরিবেশবাদী বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য ন্যাচার অ্যান্ড লাইফ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণে গেলে বিষয়টি সংগঠনের সদস্যদের নজরে আসে। এরপর পাখি দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের উদ্যোগেই উন্মুক্ত স্থানে গিয়ে শামুকখোল পাখি দুটি আবারও ছেড়ে দেয়া হয়।
সেভ দি ন্যাচার অ্যান্ড লাইফ’র সংগঠক রুম্মান হোসেন জানান, বন্যপ্রাণি রক্ষায় তারা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে নগরীর লক্ষীপুর কাঁচাবাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করছিলেন।
প্রচারণাকালে মুরগির দোকানে দুটি শামুকখোল পাখি দেখতে পান। এ সময় বিক্রেতা এই পাখি চেনেন না এবং আইনের বিষয়টিও তার জানা নেই বলে দাবি করেন। এ ধরনের বিরল পাখি আর বিক্রি করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন। পরে তাদের উদ্যোগেই পাখি দুটি উন্মুক্ত স্থানে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় বলেও জানান সংগঠক রুম্মান হোসেন।
এদিকে জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তাদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে পাখি দুটি উদ্ধার ও অবমুক্ত করে দেয়ায় তারা হয়তো জানতে পারেননি। তবে সচেতনতা বাড়াতে সেভ দ্য ন্যাচার অ্যান্ড লাইফ নামের বেসরকারি সংস্থাটি রাজশাহীতে কাজ করে বলে তারা জানেন।
বন বিভাগের উদ্যোগেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এছাড়া মাঝে-মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন পাখির দোকানে বন বিভাগের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় বলেও জানান বিভাগীয় এই বন কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, শামুকখোল লম্বা ঠোঁটের বড়সড় আকারের জলচর পাখি। অদ্ভুত ঠোঁটের জন্য খুব সহজে অন্যান্য পাখি থেকে একে আলাদা করা যায়। পাখির দেহ একদম সাদা দেখায়। কাঁধ-ঢাকনি, ডানার প্রান্ত-পালক, মধ্য পালক ও লেজ সবুজাভ কালো।
চোখের চারদিকের চামড়া পালকহীন। পা লম্বা ও পায়ের পাতা অনুজ্জ্বল মেটে রঙের। শামুকখোল হাওর, বিল, মিঠাপানির জলা, ধানখেত, উপকূলীয় বন ও নদীর পাড়ে বিচরণ করে। সচরাচর ছোট ঝাঁকে থাকে। ভোরে আবাস ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। এরা সাধারণত ডানা ঝাঁপটিয়ে দল বেঁধে জলাভূমির দিকে উড়ে যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ